জাতীয় বাজেট ঘোষণার পর সাধারণ মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে, তাদের কষ্টার্জিত আয়ের করের টাকা সরকার ঠিক কোন কোন খাতে কীভাবে খরচ করে। জাতীয় সংসদে উত্থাপিত বাজেট পর্যালোচনায় উঠে এসেছে করের টাকার খাতওয়ারি ব্যয়ের এক চিত্র। একটি ১০০ টাকার নোটকে ভিত্তি ধরে সরকারের পরিচালন বাজেটের হিসাব বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দেশের উন্নয়ন, জননিরাপত্তা এবং অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিশাল এক অংকের অর্থ নির্দিষ্ট কিছু খাতে ধারাবাহিকভাবে ব্যয় করতে হচ্ছে। এই হিসাবটি সাধারণ নাগরিকদের জন্য কর প্রদানের গুরুত্ব এবং রাষ্ট্রের পরিচালন প্রক্রিয়ার একটি স্বচ্ছ ধারণা দেয়।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ও ৫৫তম বাজেট উত্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বাজেটর প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, করের ১০০ টাকার মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশটি চলে যাচ্ছে ঋণের সুদ পরিশোধে, যার পরিমাণ ২০ টাকা ৫০ পয়সা। এর ঠিক পরেই বড় একটি অংশ অর্থাৎ ১৪ টাকা ৪০ পয়সা ব্যয় হচ্ছে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ। দেশের সামাজিক নিরাপত্তা এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য মঞ্জুরি খাতে খরচ হচ্ছে ১৫ টাকা ৭০ পয়সা। এছাড়া দেশের উৎপাদনশীল খাতকে চাঙ্গা রাখতে এবং সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় সেবা পৌঁছে দিতে সরকার ভর্তুকি ও প্রণোদনা খাতে বড় অঙ্কের বরাদ্দ রাখছে, যা প্রতি ১০০ টাকার মধ্যে ১৭ টাকা।
অন্যান্য খাতের দিকে তাকালে দেখা যায়, রাষ্ট্র পরিচালনায় পণ্য ও সেবা ক্রয়ের পেছনে ব্যয় হচ্ছে ৯ টাকা। দেশের প্রবীণ নাগরিকদের সামাজিক সুরক্ষার অংশ হিসেবে পেনশন বাবদ খরচ হচ্ছে ৫ টাকা ৭০ পয়সা। আকস্মিক সংকট বা জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় অপ্রত্যাশিত ব্যয় ও অন্যান্য খাতের জন্য তুলে রাখা হচ্ছে ৬ টাকা ৪০ পয়সা। এছাড়া রাষ্ট্রীয় সম্পদ সংগ্রহে ৩ টাকা ৪০ পয়সা, শেয়ার ও ইকুইটিতে ৫ টাকা ৩০ পয়সা এবং বিবিধ খাতের ব্যয়ের জন্য বরাদ্দ থাকছে ২ টাকা ৬০ পয়সা। সামগ্রিক এই হিসাব থেকে স্পষ্ট যে, নাগরিকের দেওয়া করের প্রতিটি টাকাই রাষ্ট্রের চাকা সচল রাখতে এবং সামাজিক ভারসাম্য বজায় রাখতে অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে বণ্টন করা হয়।
এসআর/এমএসএ
