বিজ্ঞাপন

চিটাগাং চেম্বার

ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্যে ‘জনবান্ধব বাজেট’

ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্যে ‘জনবান্ধব বাজেট’

দেশের অর্থনীতিকে ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার দূরদর্শী লক্ষ্য সামনে রেখে ঘোষিত বাজেটে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবসার পরিবেশ সহজ করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছে দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিসিসিআই)।

চেম্বার নেতারা বলেছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত শিল্পায়ন, তরুণ উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে এবারের বাজেট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বাজেট-পরবর্তী তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় চিটাগাং চেম্বারের নেতারা বলেন, জনগণের ওপর অতিরিক্ত করের চাপ না বাড়িয়ে করজাল সম্প্রসারণ, ব্যবসাবান্ধব নীতি গ্রহণ এবং উৎপাদনমুখী খাতে নানাবিধ সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে ঘোষিত এই বাজেট দেশের অর্থনীতিকে নতুন গতিশীলতা দেবে। তারা উল্লেখ করেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা এবং একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সুষম প্রতিফলন রয়েছে এবারের বাজেটে। বিশেষ করে শিক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা, প্রযুক্তি ও শিল্পখাতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত ইতিবাচক।

চেম্বার নেতারা বলেন, বাজেটে চট্টগ্রাম বন্দরের আধুনিকায়ন ও উন্নয়ন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের জন্য নতুন নীতিমালা প্রণয়ন, ঢাকা-চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে বাস্তবায়ন এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের দূরত্ব কমিয়ে আনার যুগান্তকারী উদ্যোগ দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনবে। এর পাশাপাশি চট্টগ্রাম অঞ্চলের শিল্পকারখানাগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে বিনিয়োগের জোয়ার তৈরি হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

চিটাগাং চেম্বারের পক্ষ থেকে বলা হয়, এবারের মেগা বাজেটে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, রাজস্ব আয় ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা এবং ঘাটতি ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। এই ঘাটতি মোকাবিলায় অভ্যন্তরীণ উৎসকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টিকে তারা দেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন।

তারা আরও জানান, ব্যক্তি করদাতাদের টার্নওভার করমুক্ত সীমা বৃদ্ধি, ব্যাংক স্থিতির আবগারি শুল্কমুক্ত সীমা বাড়ানো, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা সম্প্রসারণ, তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য জামানতবিহীন ঋণ সুবিধা এবং কৃষকদের জন্য নানামুখী সহায়তা দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক ও স্বস্তিদায়ক প্রভাব ফেলবে।

ব্যবসায়ী নেতারা আরও বলেন, করপোরেট কর ব্যবস্থা সহজীকরণ, অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল নিশ্চিতকরণ, বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের শুল্ক হ্রাস এবং শিল্পের কাঁচামালে রেয়াতি সুবিধা দেওয়ার ফলে দেশীয় উৎপাদন খাত আরও শক্তিশালী হবে। এতে পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি শিল্পায়ন ও ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

তাদের মতে, সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জাম, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, ইলেকট্রিক ভেহিকেল, আইটি খাত, স্টার্টআপ ও নারী উদ্যোক্তাদের জন্য দেওয়া বিশেষ কর ও শুল্ক সুবিধা ভবিষ্যতের অর্থনীতিকে প্রযুক্তিনির্ভর ও টেকসই করতে অবদান রাখবে। চেম্বার নেতারা মনে করেন, চট্টগ্রাম বন্দরকেন্দ্রিক অফডক, আইসিডি, লজিস্টিকস ও বেসরকারি টার্মিনাল খাতে নীতিগত সংস্কার করা হলে বন্দর কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং চট্টগ্রামকে ঘিরে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

বাজেট প্রতিক্রিয়া সভায় উপস্থিত ছিলেন চিটাগাং চেম্বারের সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আলী আহমেদ, সভাপতি আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী, সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আমজাদ হোসেন চৌধুরী, সহ-সভাপতি মোহাম্মদ মসিউল আলম স্বপনসহ চেম্বারের পরিচালকরা।

বিশেষ আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর এস. এম. নসরুল কাদির, চট্টগ্রাম ট্যাক্সেস বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. সোলায়মান, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান (সাগর) এবং চট্টগ্রামের শীর্ষস্থানীয় শিল্পোদ্যোক্তা ও কর বিশেষজ্ঞরা।

এমআর/এমএআর/