মোস্তাকুর রহমানকে যখন বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় তখন তার বিরুদ্ধে ঋণ খেলাপি হওয়ার অভিযোগ উঠে। শুক্রবার (১২ জুন) ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন যে, গ্রাহকরা ব্যাংক আমানত রাখতে আস্থা রাখতে পাচ্ছেন না, কারণ অনেকে বলছেন- গভর্নর নিজেই তো ঋণ খেলাপি।
তখন গভর্নর নিজের ঋণ খেলাপি হওয়ার যে অভিযোগ সেটা নিয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন মোস্তাকুর রহমান। গভর্নর বলেন, আমি ইনভলভ ছিলাম একটা গ্রিন ফ্যাক্টরি লিগ সার্টিফিকেট (অর্থাৎ ব্যাংকের গভর্নর হওয়ার আগে)। এখানে দুই ধরনের বিষয় আছে। একটা হচ্ছে ওভারভিউ হয়ে বিলম্ব হওয়া সেটা এক জিনিস। আরেকটা হচ্ছে ঋণ খেলাপি, বিবিএল হয়ে যায়। আজ পর্যন্ত সেই ফ্যাক্টরি একদিনের জন্য বন্ধ হয় নাই। আজ পর্যন্ত সেই ফ্যাক্টরি একদিনের জন্য এক্সপোর্ট বন্ধ হয় নাই। আজ পর্যন্ত সেই ফ্যাক্টরির এক মাসের জন্য বেতন দিতে দেরি হয় নাই। আজ পর্যন্ত সেই ফ্যাক্টরি ব্যাংকের কাছে এক টাকা ঋণ মওকুফ চায় নাই।
তিনি আরও বলেন, শুধু যেটা হয়েছে, সেই কারখানা প্রথম শুরুতে অর্থায়ন করেছিল এফএসএসপি প্রজেক্টের অধীনে। যেখানে সুদের হার ছিল ৪ শতাংশ। ১৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করার পরে ব্যাংক জানায় যে, ওই ফান্ডটা শেষ হয়ে গেছে। আপনাদের এখন ৯ থেকে ১১ শতাংশ সুদ দিতে হবে। স্বাভাবিকভাবে রিপেমেন্ট আগের প্রজেকশন অনুসারে হয় নাই। সেটা বিলন্ব হয়েছে এবং সেখানে কোভিড (করোনাভাইরাস) ছিল। এছাড়া অন্যান্য সমস্যাও ছিল। তবে, এটা নিশ্চিত থাকেন যে আমরা কখনো এক পয়সা, এক টাকা ঋণ মওকুফ চায়নি। সেই প্রতিষ্ঠানের ইতোমধ্যে ১০০ কোটি টাকার ওপরে ব্যাংকের ঋণ পরিশোধও করে দিছে। সুতরাং বলতে-বলতে একটা মিথ্যা কথাকে অনেক সময় সত্য করে ফেলি।
প্রসঙ্গত, মোস্তাকুর রহমান তৈরি পোশাক খাতের একজন উদ্যোক্তা। তিনি বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সদস্য এবং নারায়ণগঞ্জভিত্তিক হেরা সোয়েটার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে জানা গেছে, মোস্তাকুর রহমান মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেডে তার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের নামে ৮৯ কোটি ২ লাখ টাকার একটি ঋণ একসময় খেলাপি হয়ে পড়েছিল। গত বছরের এপ্রিলে তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশেষ সুবিধার আওতায় ওই ঋণ খেলাপিমুক্ত হতে পুনঃতফসিলের আবেদন করেন। পরে ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট পরিশোধের মাধ্যমে বিশেষ বিবেচনায় ঋণটি ১০ বছরের জন্য পুনঃতফসিলের সুযোগ পান।
যদিও তিনি দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ১৫ বছরের জন্য পুনঃতফসিল চেয়েছিলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক তা অনুমোদন না করে ১০ বছরের সীমা নির্ধারণ করে।
ব্যাংকিং বিধি অনুযায়ী, নির্ধারিত ডাউন পেমেন্ট দিয়ে ঋণ পুনঃতফসিল অনুমোদিত হলে এবং গ্রাহক শর্ত মেনে চললে তাকে আর খেলাপি হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করা হয় না। সেই হিসেবে বর্তমানে আইনগতভাবে মোস্তাকুর রহমানকে ঋণখেলাপি বলা যাবে না। তবে এখানেই থেমে নেই বিতর্ক।
এএইচআর/এমএন
