বিজ্ঞাপন

বাজেট প্রতিক্রিয়ায় বিকেএমইএ

বাজেটে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ও শঙ্কার জায়গা রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা

বাজেটে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ও শঙ্কার জায়গা রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা

সংকটকালীন অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড় করাতে প্রস্তাবিত বাজেটকে সামগ্রিকভাবে ‘সন্তোষজনক’ ও ‘ইতিবাচক’ মনে করছে নিট পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ। তবে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজেটে বড় অঙ্কের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রাকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ও শঙ্কার জায়গা হিসেবে দেখছে সংগঠনটি।

শুক্রবার (১২ জুন) সংগঠনটি সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বাজেট পরবর্তী আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় এমন শংকার কথা জানান।

বিকেএমইএর সভাপতি বলেন, এবারের বাজেটে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বিপরীতে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ট্যাক্স নেটের (কর জাল) আওতা যদি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো না যায়, তাহলে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অসম্ভব হয়ে পড়বে। এর ফলে বর্তমানে যে অল্পসংখ্যক ট্যাক্সধারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, তাদের ওপরই করের চাপ আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

করব্যবস্থার সংস্কার এবং চলমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের প্রেক্ষাপটে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে সোলার সিস্টেমের আমদানি সহজীকরণ করা। দু’টি জায়গাতেই বাজেটে নেওয়া পদক্ষেপ সন্তোষজনক বলছে বিকেএমইএ।

সংগঠনটির পর্যবেক্ষণের মধ্যে রয়েছে, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা, মাউন্টিং স্ট্রাকচার এবং সংশ্লিষ্ট উপকরণের ওপর কর সুবিধা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত ইতিবাচক।

রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য বিদ্যমান সুবিধাগুলো বহাল রাখা এবং প্রণোদনা ও নীতিগত সুবিধার মেয়াদ ৩ থেকে ৫ বছর পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াবে।

রপ্তানিমুখী নন-বন্ডেড প্রতিষ্ঠানকে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল বিদেশ থেকে আমদানি এবং দেশীয় বন্ডেড প্রতিষ্ঠান থেকে সংগ্রহের সুযোগ রপ্তানি বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। সংকটে থাকা ও বন্ধ কারখানার জন্য সহায়তা কর্মসূচি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে শিল্প উৎপাদন পুনরুদ্ধার এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

বিকেএমইএ সভাপতি হাতেম আরও বলেন, শিল্পখাতের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল উৎসে কর্তিত অগ্রিম আয়কর সমন্বয় বা ফেরতের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা চালু করা। চেক বা ইনস্ট্রুমেন্টাল ফর্মে এটি ফেরত দেওয়া যেতে পারে, যা বিষয়টি আরও স্পষ্ট করা প্রয়োজন। কারণ সময়মতো এই অর্থ ফেরত না পেলে ব্যবসার কার্যকরী মূলধন আটকে তারল্য সংকট সৃষ্টি হয় এবং ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়ে।

তিনি বলেন, পলিয়েস্টার স্ট্যাপল ফাইবার আমদানির ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ ট্যাক্স বসানো কতটা বাস্তবসম্মত। দেশে বর্তমানে যে একটিমাত্র প্রতিষ্ঠান এটি উৎপাদন করে, তা মোট চাহিদার ১০ শতাংশেরও কম। দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে গিয়ে তৈরি পোশাকের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগী সক্ষমতা যাতে নষ্ট না হয়, সেদিকে নজর দেওয়া উচিত।

বাজেটে দেশের গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে পর্যাপ্ত সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেই বলে উল্লেখ করেছে বিকেএমইএ। এছাড়া ১৩ থেকে ১৫ শতাংশ উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে দীর্ঘমেয়াদে ব্যবসা পরিচালনা করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এটি বিনিয়োগের পথে বড় বাধা হিসাবে দেখছে বিকেএমইএ।

আরএম/এমএন

বিজ্ঞাপন