প্রস্তাবিত বাজেটে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর কোনো কর বসানো হয়নি কিংবা কালোটাকা সাদা করার সুযোগ রাখা হয়নি বলেও জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।
রোববার (১৪ জুন) ইকোনমিক রিপোটার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত ‘অর্থ বিল ২০২৬-২৭ এর বিশ্লেষণ’ শীর্ষক সেমিনারে সার্বিক বিষয়ে করা হয়েছে।
সঞ্চয়পত্রের বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানটির প্রথম সচিব (কর তথ্য ব্যবস্থাপনা ও মূল্যায়ন) মো. জাফর ইমাম বলেন, এখানে আগে ছিল ন্যূনতম কর। এটি সঞ্চয়পত্রের আয়ের সঙ্গে এডজাস্ট না হলেও, এই কর দিয়ে অন্য কোনো খাতের আয়ের ওপর কর দেওয়া যেত না। ফলে এই আয়ের টাকাটা আসলে নষ্ট হত। টাকা করদাতা ফের ও পেত না। এবার এটাকে অগ্রিম করার ফলে করদাতার কর অনেক কমবে।
উদাহারণ দিয়ে তিনি বলেন, একজন করদাতার ৫০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র আছে। এর ওপর ১০ শতাংশ হারে ৫ লাখ টাকা সুদ নেন। এই ৫ লাখ টাকার ওপর ৫ শতাংশ হারে ২৫ হাজার টাকা কর আসে। এখন ৫ লাখ টাকার মধ্যে সাড়ে তিন লাখ টাকা (করমুক্ত আয়ের সীমা) যদি বাদ দেই; ২ লাখ টাকার ওপর কর আসে ১৫ হাজার টাকা। আগের আইনে তার যে ২৫ হাজার টাকা কর কাটা ছিল; এটাই ফাইনাল সেটেলমেন্ট। আর এখনকার আইনে ২৫ হাজার টাকা কাটা আছে, ১৫ হাজার টাকা হচ্ছে তার কর। ১০ হাজার টাকা করদাতা ফেরত পাবে।
অথবা তার অন্য কোন খাতের সঙ্গে এডজাস্ট হবে। তাহলে তার কর কমলো। রিফান্ডের প্রসিডিউর নিয়ে আমরা কাজ করছি। রিটার্ন জমা দেওয়ার পর্যায়ে সিস্টেম যখনে চেক করে দেখবেন রিফান্ড ক্রিয়েট হয়েছে, সিস্টেম রিটার্ণ পূরণ করার সময় একটা ফরম দিবে সেখানে করদাতার ব্যাংক হিসাব নাম্বার নিয়ে নিবে; সিস্টেম দেখবে অডিট করবে তারপর ১২০ দিনের মধ্যে অটো টাকা চলে যাবে।
আর সঞ্চয়পত্রের ব্যাপারে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, সঞ্চয়পত্রের সুদের ওপর কর বাড়ায়নি। সঞ্চয়পত্রের উপর নিয়মটা এসেছে, তাতে যেটা হবে হাজার হাজার করদাতা যাদের সঞ্চয়পত্রের আয় ছাড়া আর কোন আয় নেই। তার কিছুটাকা হলেও ফেরত পাবে, অটোমেশনের কারণে। রিটার্ন সাবমিটের পর রিফান্ডের কথা বলেছেন জাফর। আমি আরেক ধাপ এগোতে চাই।
তিনি বলেন, সকল হিসান নিকেশ করে দেখেছি নতুন নিয়মে কর কমবেই। ফের উদাহারণ দিয়ে বলেন, একজনের ৫০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র আছে। তার বেতন বছরে ১০ লাখ টাকা। আর হাউজ প্রোপার্টি আয় আরও ১০ লাখ টাকা। তাহলে ৫০ লাখের উপর সুদ আসে ৫ লাখ টাকা তার উপর ১০ শতাংশ হারে কর কাটা হলে; কর হবে ৫০ হাজার টাকা। আর বাকী ২০-২৫ লাখের উপর কর আসে প্রায় ৩ লাখ টাকার মত। আগের আইনে ছিল সঞ্চয় পত্র বাদে তার আয় ২০ লাখ টাকা। তার ওপর কর ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা। ওই যে ৫০ হাজার টাকার উৎসে কর কেটে রাখছে সঞ্চয়পত্রের বিপরীতে এটা এই আয়ের ওপর এডজাস্ট হতো না। এই আয়ের করের জন্য বিবেচনার সুযোগ ছিল না। কারণ সেটা ন্যূনতম কর। সুতরাং আগের নিয়মে ওইকরদাতার ২ লাখ ৮৫ হাজার টাকা দেওয়া লাগতো। সঞ্চয়পত্রের জন্য দেওয়া লাগতো আরও ৫০ হাজার টাকা। তার ৩ লাখ ৩৫ হাজারটাকা দেওয়া লাগতো। এখন তার তিন লাখ টাকা টোটালের ওপর ৫০ হাজার টাকা এডজাস্ট হচ্ছে। তাকে দেওয়া লাগছে ৩ লাখ টাকা।
সঞ্চয়পত্রের বিষয়ে আরেক প্রশ্নের জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, যারা ধনী লোক। সঞ্চয়পত্র আছে, বাড়িও আছে, ফ্ল্যাট আছে, চাকুরি আছে অন্য আয় ও আছে। তাদের ক্ষেত্রে কর বাড়বে। কারণ আপনি ১০ শতাংশ কর দিচ্ছেন। আপনার করহার ২০ হতে পারে, ২৫ হতে পারে, ৩০ ও হতে পারে। ফলে কর বেশি দিতে হবে।
কালোটাকা সাদা করার কোনো সুযোগ নেই
কালো টাকা বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, কালোটকা সাদা করার সুযোগ দেওয়ার কোন ইনটেনশন আমাদের নেই। এ ধরণের কোন বিধি বিধান আসে নাই। গতবার একটা বিধান এনেছিলাম শুরুতে, যারা বাড়ি বানাবে বা ফ্লাট বানাবে তারা প্রতি স্কয়ার ফিট হিসাব করে টাকা দিবে। এটা এক্সেপ্ট করা হবে। এটা পরবর্তীতে বাদ হয়ে গেছে। বর্তমান সরকার ওই স্প্রীটটাকে ধারণ করে প্রথমেই বলেছে কালো টাকার কোন প্রভিশন থাকবে না। বাজেটে এ ধরণের কোনো সুযোগ দেই নাই।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগে ছিল; আপনি আয়ের কোনো উৎস দেখাননি। আপনি এটা ফ্ল্যাট কিনলেন। কোনো উৎস না দেখিয়ে বললেন, সোর্স না দেখিয়ে স্কয়ার ফিট মেপে কর দিয়ে দিলেন। এটা ছিল আগে। এখন যে বিষয়টা আসছে, সেটা হয়তো শব্দ চয়নে ক্রুটি থাকতে পারে। যে জমি গুলো কেনাবেচা হয়। যেহেতু মৌজামূল্যে রেজিস্ট্রেশন হয়। ফলে বিক্রেতার জন্য বিরাট ঝামেলা হয়। বাকীটা কী করবো? ১০ কোটি টাকায় বায়না হয়েছে, কিন্তু দলিল হয়েছে ২ কোটি টাকা। বাকি ৮ কোটি যে কালো থাকলো এটা কী করবো। এটার সমাধান গত বছরই আইনে নিয়ে এসেছি। রেগুলার রেটে কর দিলে চলবে। এটা এ বছর আনা (অর্থবিলে) দরকার ছিল না।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতার মালা এবং সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাসেম। যেখানে আরও উপস্থিত ছিলেন এনবিআরের দ্বিতীয় সচিব (মূসক) বদরউদ্দিন মুন্সী, কাস্টমস নীতির প্রথম সচিব তারেক হাসান ও হিসাববিদ স্নেহাশীষ বড়ুয়া।
আরএম/ডিএ
