চীনা প্রযুক্তি জায়ান্ট আলিবাবা গ্রুপের বিনিয়োগ কৌশলে পরিবর্তনের প্রভাব পড়েছে দক্ষিণ এশিয়ার ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম দারাজে। বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে পরিচালিত দারাজের কার্যক্রমে ব্যয় সংকোচন, কর্মী ছাঁটাই এবং পরিচালন ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
জানা গেছে, আলিবাবা বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ক্লাউড কম্পিউটিং এবং ব্যবসা-টু-ব্যবসা (বিটুবি) খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। এর ফলে খুচরা ই-কমার্স খাতে নতুন বিনিয়োগ সীমিত করার নীতি অনুসরণ করছে প্রতিষ্ঠানটি। বাজারসংশ্লিষ্টদের দাবি, এর প্রভাব দারাজের বিভিন্ন দেশীয় কার্যক্রমেও পড়তে শুরু করেছে।
সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, দারাজ বাংলাদেশকে এখন নিজেদের আয় থেকেই পরিচালন ব্যয় মেটানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি ব্রেক-ইভেনে পৌঁছাতে না পারলে অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা বা ভর্তুকি পাওয়া কঠিন হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ব্যয় কমাতে বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মী ছাঁটাই চলছে।
বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন কর্মীর ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে দারাজে জনবল কমানো হয়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। একই সঙ্গে রাজধানীর বনানীতে থাকা কার্যালয়ের কিছু ফ্লোর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে থাকা কয়েকটি হাব, অফিস ও অপারেশনাল স্পেসও গুটিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক অবস্থা এতটাই শোচনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, গত মাসে কর্মীদের যে বেতন পাওয়ার কথা ছিল তা তারা পেয়েছেন চলতি মাসের ১৪ তারিখে।
এদিকে মার্চেন্টদের বকেয়া পরিশোধ, লজিস্টিকস কার্যক্রম এবং কিছু সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের পাওনা নিয়ে অসন্তোষের কথাও জানা গেছে। তবে এসব বিষয়ে দারাজের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে জানতে দারাজ বাংলাদেশের বর্তমান হেড অব কমিউনিকেশন মোহাম্মদ রাইসুল ইসলাম বাপ্পীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে ক্ষুদেবার্তা পাঠানো হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে আলিবাবা দারাজ গ্রুপ অধিগ্রহণ করে। বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও মিয়ানমারে দারাজের কার্যক্রম রয়েছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের ব্যবসায়িক কাঠামো পুনর্বিন্যাসের মধ্য দিয়ে পরিচালন ব্যয় কমিয়ে লাভজনক অবস্থানে যাওয়ার চেষ্টা করছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
আরএইচটি/এমএন
