বিজ্ঞাপন

মন্ত্রিত্ব পেলে কেন শ্রমিকের কথা মুখ দিয়ে আসে না?

মন্ত্রিত্ব পেলে কেন শ্রমিকের কথা মুখ দিয়ে আসে না?

রাজপথে যখন থাকি, তখন শ্রমিকের অধিকার নিয়ে কত কথাই না বলি। কিন্তু সেই জায়গা পার হয়ে যখন মন্ত্রিত্ব পাওয়া যায়, তখন কেন শ্রমিকের কথা মুখ দিয়ে আর আসে না?

রোববার (২১ জুন) রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে বাজেট পর্যালোচনা নিয়ে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত এক সংলাপে বাংলাদেশ পোশাক শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক তাসলিমা আখতার ক্ষোভ প্রকাশ করে এমন মন্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন।

তাসলিমা আখতার বলেন, আমাদের শ্রমিকনেতা মন্ত্রী হন, শ্রমিকের কথা অনেক কিছুই বলেন। কিন্তু আমার মনে হয়... কিছু মনে করবেন না, মন্ত্রিত্ব পেলে কি শ্রমিকের কথা ভুলে যাই? আমরা রাজপথে শ্রমিকের কথা বলি, কিন্তু সেই জায়গায় গেলে, সেই মন্ত্রিত্ব পেলে কেন শ্রমিকের কথা আমাদের মুখ দিয়ে আর আসে না?

বক্তব্যের শুরুতেই তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ-এর ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, অত্যন্ত দুঃখজনক যে বিজিএমইএ-এই সরকারকে স্বাগত জানাচ্ছে। কিন্তু আমরা শ্রমিক পক্ষ এই সরকারকে কোনোভাবেই স্বাগত জানাতে পারছি না। আমরা দুঃখিত। করোনাকালীন চরম সংকটের সময়ে যে গার্মেন্টস শ্রমিকরা নিজের জীবন বাজি রেখে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছিলেন, বিগত বা বর্তমান কোনো সরকারই তাদের অবদানের প্রকৃত মূল্যায়ন করেনি।

তাসলিমা আখতার বলেন, আমরা বরাবরই বিগত সরকারকে দোষারোপ করেছি, দোষ দিয়েছি। কিন্তু এ সরকার কি করলেন? ফ্যামিলি কার্ড দিয়েছেন, কিন্তু শ্রমিক কার্ড কেন চালু করলেন না? তাহলে কি আমরা বলব ফ্যামিলি কার্ড নারী ক্ষমতায়নের কথা বলছেন, সেই ফ্যামিলি কার্ড কি শুধু একটি ভোট ব্যাংকের জন্য, ভবিষ্যতের ভোট ব্যাংক? যেই শ্রমিকরা অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছে, তাদের কথা কি ভাবার দরকার ছিল না? এই শিল্পে অনেক নারী শ্রমিক। যে নারী শ্রমিকরা এআই-এর যুগে, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্ট যুগে অটোমেশনের ফলে চাকরি হারাচ্ছে, তাদের জন্য তো একটা বরাদ্দ রাখা দরকার ছিল। এই শ্রমিকগুলো এখন কোথায় যাবে?

তিনি বলেন, ঘোষিত বাজেটে এখনো সংযোজন-বিয়োজনের সুযোগ রয়েছে। বাজারদরের ঊর্ধ্বগতি বিবেচনায় অন্তত ভর্তুকি মূল্যে ১ হাজার টাকার মধ্যে শ্রমিকদের জন্য একটি ওএমএস বা বিশেষ খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করতে পারেন। দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে ডরমিটরির দাবি জানানো হলেও সরকার তা বাস্তবায়নে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। আর কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় পতিত শ্রমিকদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের সুরক্ষার একটি জাতীয় দুর্ঘটনা স্কিম বা নীতিমালা প্রণয়ন করার দাবি করছি। 

আক্ষেপ করে তাসলিমা বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে এই গার্মেন্টস শিল্প চলছে শুধু ব্যবসায়ীদের ব্যবসা করে আরও উপরে ওঠার জন্য, আর শ্রমিক শ্রেণি প্রতিনিয়ত পদদলিত হওয়ার জন্য। আমরা চাই অবিলম্বে শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা করে আরেকটি সুন্দর ও সম্মানজনক নতুন মজুরি ঘোষণা করা হোক।

সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি (জুনায়েদ সাকি) বলেন, একটি ধ্বংসপ্রায় ও ভঙ্গুর অর্থনৈতিক কাঠামো উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়ে দেশের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক ব্যবস্থা পুনর্গঠনে জোর চেষ্টা চালাচ্ছে নতুন রাজনৈতিক সরকার। সরকারের নীতিনির্ধারক মহলের মতে, ব্যাংকিং খাতসহ অর্থনীতির প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রই পূর্ববর্তী আমল থেকে অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় পাওয়া গেছে। এমতাবস্থায়, মানুষের প্রবল প্রত্যাশার মুখে কোনো রক্ষণশীল নীতি না নিয়ে, অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার এবং জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনাই এখন সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ।

তিনি বলেন, বাজেটের প্রধান ১০টি অগ্রাধিকারের মধ্যে অন্যতম হলো সব শ্রেণির মানুষের জন্য এটিকে অন্তর্ভুক্তিমূলক করা, যেখানে শ্রমিক, কৃষক ও প্রান্তিক মানুষের স্বার্থ বিবেচনা করা হয়েছে। শ্রম আইনের ভিত্তিতে মজুরি বাড়ানোর প্রক্রিয়াগুলোর প্রতি সরকার মনোযোগী। অর্থনীতিতে গতি ফিরিয়ে আনতে কিছুটা সময় লাগবে। প্রথম দুই বছর কুশন হিসেবে এবং তৃতীয় বছর থেকে উত্তরণের পরিকল্পনা রয়েছে। জনগণের সুবিধার্থে 'সোশ্যাল সেফটি নেট' বা সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান ও কর্মসংস্থানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

আরএম/আরএফ/জেডএস