সরকারি ও বেসরকারি বড় প্রকল্পে স্থানীয়ভাবে সনদপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরামর্শক (ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্ট) নিয়োগ দিলে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় সম্ভব বলে জানিয়েছেন ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্টস বাংলাদেশ (আইএমসিবি)-এর নেতারা।
রোববার (২১ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে তারা বলেন, বাংলাদেশি অনেক পরামর্শক ইতোমধ্যে বিদেশের বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছেন, যা তাদের আন্তর্জাতিক সক্ষমতার প্রমাণ। তাই সরকারি প্রকল্পে অন্তত ৬০ শতাংশ দেশীয় পরামর্শক নিয়োগের দাবি জানান তারা।
অনুষ্ঠানে আইএমসিবি সভাপতি নদিম এ চৌধুরী, চেয়ারম্যান এম জাকির হোসেন এবং অ্যাডভাইজরি কমিটির প্রধান অধ্যাপক ড. আবদুর রব গণমাধ্যমের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। আসন্ন বার্ষিক সম্মেলন উপলক্ষ্যে এ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
দেশীয় ও বিদেশি পরামর্শকদের পারিশ্রমিকের বৈষম্যের বিষয়ে বক্তারা বলেন, সমমানের যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও বিদেশি পরামর্শকদের স্থানীয়দের তুলনায় অনেক বেশি ফি দেওয়া হয়, যা দীর্ঘদিনের অনিয়ম। এতে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় বাড়ছে এবং দেশীয় দক্ষ জনশক্তি অবমূল্যায়নের শিকার হচ্ছে।
এই বৈষম্য দূর করতে সরকারি ও বেসরকারি নিয়োগদাতাদের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে কাজ করবে আইএমসিবি। একই সঙ্গে নীতিগত পরিবর্তনের মাধ্যমে দেশীয় প্রতিভাকে অগ্রাধিকার ও ন্যায্য পারিশ্রমিক নিশ্চিত করার আহ্বান জানায় সংগঠনটি।
আইএমসিবির সদস্যরা বলেন, দেশে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ কনসালট্যান্ট থাকা সত্ত্বেও সরকারি বড় প্রকল্পগুলোতে তাদের যথাযথ সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। ফলে বিদেশি বিশেষজ্ঞদের পেছনে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হচ্ছে।
তাদের দাবি, সুইজারল্যান্ডভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা আইসিএমসিআইয়ের স্বীকৃত সিএমসি (সার্টিফাইড ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্ট) সনদধারী দেশীয় বিশেষজ্ঞরা বিদেশি কনসালট্যান্টদের সমমানের সেবা দিতে সক্ষম। তাই বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ে দেশীয় অভিজ্ঞ কনসালট্যান্টদের অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দেন তারা।
১৯৯৭ সালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের লাইসেন্সের অধীনে প্রতিষ্ঠার পর থেকে আইএমসিবির অগ্রগতির কথা তুলে ধরে সভাপতি নদিম এ. চৌধুরী বলেন, প্রতিষ্ঠানটি সুইজারল্যান্ডভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল অব ম্যানেজমেন্ট কনসালটিং ইনস্টিটিউটস (আইসিএমসিআই)-এর স্থায়ী সদস্য। সংস্থাটি বিশ্বের ৫২টি দেশের সমন্বয়ে গঠিত।
তিনি বলেন, এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির ফলে বাংলাদেশে সিএমসি পদবি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে, যা পেশাগত দক্ষতা, নৈতিকতা ও যোগ্যতার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড নিশ্চিত করে।
আইএমসিবি চেয়ারম্যান এম. জাকির হোসেন বলেন, দেশের পরামর্শক খাত এখন অত্যন্ত প্রতিযোগিতাপূর্ণ ও খণ্ডিত হয়ে পড়েছে। ফলে প্রকৃত যোগ্য ও সনদপ্রাপ্ত পরামর্শকদের আলাদা করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকারকে সময়োপযোগী বিধিমালা প্রণয়নের আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, পেশাগত নৈতিকতা, স্বচ্ছতা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে আইএমসিবি তাদের উপবিধি ও আচরণবিধি আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে।
আগামী বার্ষিক সম্মেলনকে সামনে রেখে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা ইন ম্যানেজমেন্ট কনসালটিং (পিজিডিএমসি) এবং সিএমসি পদবি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান সংগঠনের নেতারা। পাশাপাশি জ্বালানি, অবকাঠামো, অর্থনীতি ও নিয়ন্ত্রক খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশের পরামর্শক সেবাকে আরও শক্তিশালী করতে কাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তারা।
এসআই/আরএফ
