বিজ্ঞাপন

জনতা ব্যাংকের অর্গানোগ্রাম দ্রুত অনুমোদনের দাবি

জনতা ব্যাংকের অর্গানোগ্রাম দ্রুত অনুমোদনের দাবি

রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক পিএলসির প্রস্তাবিত সাংগঠনিক কাঠামো (অর্গানোগ্রাম) ২০২৫ দ্রুত অনুমোদনের দাবি জানিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক কর্মকর্তা ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ।

আজ (শনিবার) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন। 

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত অর্গানোগ্রাম দীর্ঘদিন ধরে অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকায় ব্যাংকের পদোন্নতি প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে পড়েছে। এতে কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়ছে।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ২০১৯ সালে জনতা ব্যাংকের ১ হাজার ৯২৬ জন কর্মকর্তাকে সুপারনিউমারারি ভিত্তিতে সিনিয়র অফিসার পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছিল। পরে ২০২২ সালের ২১ নভেম্বর সুপারনিউমারারি পদোন্নতি না দেওয়ার নির্দেশনা জারি করা হয়। তবে ওই নির্দেশনা উপেক্ষা করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে আরও ৭ হাজার ২১৫ জন কর্মকর্তাকে সুপারনিউমারারি পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে জনতা ব্যাংকের বিভিন্ন গ্রেডের ৫৭৯ জন কর্মকর্তা রয়েছেন।

সংগঠনটি জানায়, ২০২৫ সালের ৭ জুলাই আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠন ও সংশোধনের নির্দেশনা দেয়। পরে একই বছরের ১৪ অক্টোবর সুপারনিউমারারি পদোন্নতির সমন্বয় না হওয়া পর্যন্ত নিয়মিত পদোন্নতি না দেওয়ার নির্দেশনা জারি করা হয়।

তাদের দাবি, জনতা ব্যাংকের প্রস্তাবিত অর্গানোগ্রাম ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পাঠানো হলেও এখনো অনুমোদন পাওয়া যায়নি। অথচ সোনালী, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকের অর্গানোগ্রাম ইতোমধ্যে অনুমোদিত হয়েছে। এসব ব্যাংকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪-কে কাট-অফ তারিখ ধরে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে সেই ভিত্তিতে পদোন্নতির প্রক্রিয়াও চলমান। কিন্তু জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তারা এখনো ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ ও ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ কাট-অফ তারিখভিত্তিক পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের শেষে পদোন্নতির জন্য যোগ্য কর্মকর্তার সংখ্যা ছিল ৫ হাজার ৮৩২ জন। ২০২৫ সালের শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ২৮৬ জনে। নতুন পদ সৃষ্টি না হওয়ায় পদোন্নতির অপেক্ষায় থাকা কর্মকর্তার সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে, যা প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি করছে।

সংগঠনটির মতে, প্রস্তাবিত অর্গানোগ্রাম অনুমোদিত হলে জনতা ব্যাংকের মোট জনবল ১৮ হাজার ৩৭ জন থেকে বেড়ে ২১ হাজার ৮১৭ জন হবে। এতে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় ভারসাম্য আসবে, নিয়মিত পদোন্নতি নিশ্চিত হবে এবং গ্রাহকসেবা, ডিজিটাল ব্যাংকিং, এসএমই ও সিএমএসএমই কার্যক্রম, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং খেলাপি ঋণ আদায়ের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

বক্তারা আরও জানান, নতুন অর্গানোগ্রাম বাস্তবায়নে তিন বছরে অতিরিক্ত ব্যয় হবে প্রায় ১৩ কোটি ৮২ লাখ টাকা, যা ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতার তুলনায় খুবই সামান্য।

এমএমএইচ/এনএফ

বিজ্ঞাপন