বাংলাদেশের নির্মাণশিল্পে গুণগত মান ও উদ্ভাবনের অগ্রযাত্রায় অগ্রণী প্রতিষ্ঠান শাহ্ সিমেন্ট, ‘নেক্সট ফিফটি’ (NEXT50)-এর সহযোগিতায় রাজধানীর র্যাডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেনে আয়োজন করে ‘আর্কিটেকচার : কানেক্টিং গ্লোবাল মডার্নিটি উইথ লোকাল আইডেন্টিটি’ (স্থাপত্য : স্থানীয় পরিচয়ের সঙ্গে বৈশ্বিক আধুনিকতার সংযোগ) শীর্ষক একটি বিশেষ সেমিনার।
স্থাপত্য, নির্মাণ ও নকশা বিষয়ক সমসাময়িক ভাবনা এবং জ্ঞান বিনিময়ের এই আয়োজনে দেশের বিশিষ্ট স্থপতি, প্রকৌশলী, শিক্ষাবিদ, শিক্ষার্থী এবং নির্মাণখাতের পেশাজীবীরা অংশগ্রহণ করেন।
সেমিনারটি বৈশ্বিক আধুনিক স্থাপত্যচর্চার সঙ্গে স্থানীয় সংস্কৃতি, পরিবেশ ও পরিচয়ের সংযোগ নিয়ে একটি অর্থবহ আলোচনা ও চিন্তা বিনিময়ের মঞ্চ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ছিল বিশ্বখ্যাত স্থপতি এবং ২০২০ সালের ‘এআইএ গোল্ড মেডেল’ বিজয়ী মার্লন ব্ল্যাকওয়েলের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনা।
তিনি তার বক্তব্যে তুলে ধরেন, কীভাবে সমসাময়িক স্থাপত্য স্থানীয় ইতিহাস, জলবায়ু, উপকরণ, সংস্কৃতি এবং মানুষের জীবনধারার সঙ্গে সংযুক্ত থেকে আন্তর্জাতিক মানের নকশা তৈরি করতে পারে। তাঁর এই উপস্থাপনা অংশগ্রহণকারীদের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি, সৃজনশীল চিন্তা এবং ভবিষ্যৎ স্থাপত্যচর্চার জন্য মূল্যবান অনুপ্রেরণা জোগায়।
মূল প্রবন্ধের পর একটি প্রাণবন্ত প্যানেল আলোচনা (আলোচক সভা) অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টস বাংলাদেশ (আইএবি)-এর প্রতিনিধি এবং দেশের প্রখ্যাত স্থপতি ও শিক্ষাবিদরা অংশ নেন। আলোচনায় বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আধুনিক স্থাপত্য, সাংস্কৃতিক পরিচয় সংরক্ষণ এবং টেকসই নগর উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় হয়।
অনুষ্ঠানে শাহ্ সিমেন্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্থাপত্য শুধুমাত্র ভবন নির্মাণের বিষয় নয়; এটি মানুষের জীবনযাত্রা, সংস্কৃতি, সমাজ এবং ভবিষ্যৎ গঠনের অন্যতম ভিত্তি। এই বিশ্বাস থেকেই শাহ্ সিমেন্ট বিশ্বমানের স্থাপত্যচিন্তা ও স্থানীয় অভিজ্ঞতার মধ্যে সেতুবন্ধন গড়ে তুলতে এবং দেশের স্থাপত্য ও নির্মাণখাতে জ্ঞানভিত্তিক আলোচনা ও উদ্ভাবনী চিন্তার প্রসারে নিয়মিত ভূমিকা রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় সিমেন্ট ব্র্যান্ড হিসেবে শাহ্ সিমেন্ট কেবল উন্নতমানের নির্মাণসামগ্রী সরবরাহেই নয়, বরং স্থাপত্য, প্রকৌশল ও নির্মাণখাতের টেকসই উন্নয়নে জ্ঞানচর্চা, উদ্ভাবন এবং পেশাগত উৎকর্ষকে উৎসাহিত করতেও সমানভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ। এই সেমিনার প্রতিষ্ঠানটির সেই দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকারেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন।
অনুষ্ঠানের সমাপনীতে অংশগ্রহণকারীরা এমন উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। সেই সঙ্গে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের স্থাপত্যচর্চাকে আরও সমৃদ্ধ ও বিশ্বমানের করে তুলতে এ ধরনের জ্ঞানভিত্তিক আয়োজনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
এমএন
