ডিজিটাল পেমেন্ট বা ক্যাশলেস লেনদেন আরও জনপ্রিয় ও সহজলভ্য করতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এখন থেকে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড এবং বিকাশ-নগদের মতো মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ব্যবহার করে ‘বাংলা কিউআর’-এর মাধ্যমে কেনাকাটায় মার্চেন্ট ফি বা ডিসকাউন্ট রেট সর্বোচ্চ ১ শতাংশের বেশি কাটা যাবে না। এই ১ শতাংশ ফির মধ্যেই ভ্যাটও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
বুধবার (১ জুলাই) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট থেকে জারি করা এক সার্কুলারে এই নির্দেশনা দিয়ে বলা হয়েছে, এই নিয়ম অবিলম্বে কার্যকর হবে। এর ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের ডিজিটাল পেমেন্ট নেওয়ার খরচ যেমন কমবে, তেমনি ক্রেতারাও ক্যাশলেস কেনাকাটায় আরও উৎসাহিত হবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার অনুযায়ী, ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশের (এসপিএসবি) আওতায় কেবল ‘বাংলা কিউআর’ পরিশোধ ব্যবস্থা ব্যবহার করে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ডেবিট ও প্রিপেইড কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, এমএফএস (যেমন- বিকাশ, রকেট, নগদ ইত্যাদি) কিংবা পিএসপি-এর মাধ্যমে মার্চেন্ট পেমেন্ট নেওয়ার ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। মার্চেন্ট বা বিক্রেতাদের কাছ থেকে একোয়ারিং ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠান যে মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট কেটে রাখে, তার সর্বোচ্চ হার হবে ১ শতাংশ যার মধ্যে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
এর আগে ২০১৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি জারি করা এক সার্কুলারের মাধ্যমে এনপিএসবি ব্যবস্থায় পয়েন্ট অব সেলস (পোজ), বাংলা কিউআর ও ই-কমার্স লেনদেনের মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বা এমডিআর-এর সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। আগের সার্কুলারের অন্যান্য সব ফি, চার্জ ও শর্তাবলী অপরিবর্তিত রেখে কেবল ‘বাংলা কিউআর’-এর জন্য এই নতুন সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করে দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
সার্কুলারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মার্চেন্ট চার্জের সর্বোচ্চ সীমা ১ শতাংশ নির্ধারণ করা হলেও দেশে ডিজিটাল লেনদেনের সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে যেকোনো একোয়ারিং প্রতিষ্ঠান (যারা কিউআর সেবাটি দিচ্ছে) চাইলে নিজস্ব উদ্যোগে বিশেষ ছাড় বা প্রমোশনাল ক্যাম্পেইন পরিচালনা করতে পারবে। অর্থাৎ, কোনো প্রতিষ্ঠান চাইলে গ্রাহক বা মার্চেন্ট আকৃষ্ট করতে ১ শতাংশের চেয়ে কম ফি নির্ধারণ করতে পারবে বা ক্যাশব্যাক দিতে পারবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এই নির্দেশনা অবিলম্বে অর্থাৎ আজ থেকেই কার্যকর হবে।
এসআই/এমএসএ
