বিজ্ঞাপন

লুটেরাদের বিচারে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল চান ইসলামী ব্যাংক গ্রাহকরা

লুটেরাদের বিচারে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল চান ইসলামী ব্যাংক গ্রাহকরা

বিভিন্ন ব্যাংক লুটেরাদের বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের দাবি জানিয়েছেন ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের নেতারা। একইসঙ্গে ইসলামী ব্যাংকের সংকট নিরসনে পূর্বঘোষিত সাত দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক নুরুন্নবী মানিক।

তিনি বলেন, সুষ্ঠুভাবে ইসলামী ব্যাংক পরিচালনার জন্য এরইমধ্যে সাত দফা দাবি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমাদের কোনো দাবিই মানা হয়নি। সাত দফা দাবির তৃতীয়টি হলো ব্যাংক লুটেরাদের বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন। ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংক থেকে শেখ হাসিনার সরকারের সময় যারা হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট ও বিদেশে পাচার করেছে, তাদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে এ ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হবে। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে কেউ ব্যাংক দখল ও লুটপাটের সাহস করবে না।

এছাড়া অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠন, প্রকৃত মালিকদের কাছে মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়া, অপপ্রচার রোধ, লুট করা অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনা ও ১৮(ক) ধারা বাতিলসহ বাকি দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের ব্যাংকিং অঙ্গনে যখন আস্থার সংকট তৈরি হয়েছিল, ঠিক তখনই চব্বিশের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে ইসলামী ব্যাংকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে ওমর ফারুক খানকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপরই এই ব্যাংকটি ঘুরে দাঁড়ায়। এমনকি অল্প সময়ের মধ্যে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত আমানত সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। কিন্তু এই ব্যবস্থাপনা পরিচালককে বাধ্যতামূলকভাবে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়। তৎকালীন চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ওবায়েদুর রহমানকেও পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছিল। এর পরিবর্তে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে এস আলমের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত খুরশিদ আলমকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে আমাদের সচেতন গ্রাহক ফোরামের আন্দোলনের মুখে তাকে অপসারণ করা হয়। ফলে ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রম অনেকটাই স্বাভাবিক হয় ও গ্রাহকদের মধ্যে আস্থা ফিরে আসে।

তারা আরও বলেন, খুরশিদ আলমকে অপসারণের পর একজন কর্মকর্তাকে চেয়ারম্যানসহ পরিচালনা পর্ষদের পুরো দায়িত্ব দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে একজন ব্যক্তির পক্ষে ব্যাংক পরিচালনা করা কোনোভাবেই সমীচীন নয়। তাই অনতিবিলম্বে ইসলামী ব্যাংকের পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ ঘোষণা করতে হবে।

এমআরআর/আরএফ/জেডএস

বিজ্ঞাপন