বিজ্ঞাপন

আমদানিনির্ভর সয়াবিন তেলের বিকল্প হতে পারে ‘রাইস ব্র্যান অয়েল’

আমদানিনির্ভর সয়াবিন তেলের বিকল্প হতে পারে ‘রাইস ব্র্যান অয়েল’

বাংলাদেশে ভোজ্যতেলের চাহিদার একটি বড় অংশ এখনো আমদানিকৃত সয়াবিন তেলের ওপর নির্ভরশীল। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যের ওঠানামা, সরবরাহ সংকট এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের চাপের কারণে দেশীয় ভোজ্যতেলের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে সয়াবিন তেলের একটি সম্ভাবনাময় ও স্বাস্থ্যসম্মত বিকল্প হতে পারে ‘রাইস ব্র্যান অয়েল’।

রাইস ব্র্যান অয়েল মূলত ধানের তুষের পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ অংশ থেকে উৎপাদিত হয়। বাংলাদেশ একটি প্রধান ধান উৎপাদনকারী দেশ হওয়ায় এই তেলের কাঁচামাল স্থানীয়ভাবেই পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া সম্ভব। এটি দেশীয় শিল্পের বিকাশে যেমন সহায়ক হবে, তেমনি আমদানিনির্ভরতা কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

পুষ্টিগুণের দিক থেকেও রাইস ব্র্যান অয়েল একটি তুলনামূলক স্বাস্থ্যকর ভোজ্যতেল। এতে ‘গামা-ওরাইজানল’-এর মতো প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা শরীরের ক্ষতিকর ও খারাপ কোলেস্টেরল (এলডিএল) কমাতে সাহায্য করে। এ ছাড়া টোকোফেরল ও টোকোট্রিয়েনল (ভিটামিন ই-এর বিভিন্ন রূপ) এই তেলে বিদ্যমান থাকায় এটি একটি সুষম খাদ্যাভ্যাসের অন্যতম অংশ হতে পারে।

দৈনন্দিন রান্নার ক্ষেত্রেও রাইস ব্র্যান অয়েল বহুমুখী। উচ্চতাপে ভাজাপোড়া, রেগুলার রান্না কিংবা সালাদ ড্রেসিংয়ের মতো হালকা খাবার তৈরিতে এটি নির্দ্বিধায় ব্যবহার করা যায়। এর নিজস্ব কড়া ফ্লেভার বা গন্ধ না থাকায় খাবারের আসল স্বাদ ও ঘ্রাণ অটুট থাকে।

আজকাল বিভিন্ন সুপারশপগুলোতে বিশেষ ছাড়ে ও সাশ্রয়ী মূল্যে রাইস ব্র্যান অয়েল পাওয়া যাচ্ছে, যা স্বাস্থ্যসচেতন ভোক্তাদের কাছে এটিকে একটি আকর্ষণীয় বিকল্পে পরিণত করেছে। সুপারশপের একজন নিয়মিত ক্রেতা মুনতাহা তার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, আমি প্রায় দুই বছর ধরে সুপারশপ থেকে নিয়মিত রাইস ব্র্যান অয়েল কিনছি। তেলটা অনেক হালকা ও স্বাস্থ্যকর মনে হয় এবং রান্নার স্বাদও দারুণ থাকে।

বিভিন্ন সুপারশপের বিক্রয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ক্রেতাদের কাছে আকিজ ইনসাফ গ্রুপের ‘সানশাইন রাইস ব্র্যান অয়েল’-এর চাহিদা বেশ উল্লেখযোগ্য। আকিজ ইনসাফ গ্রুপের সানশাইন ব্র্যান্ড ছাড়াও বাজারে বর্তমানে বাংলাদেশ এডিবল অয়েল লিমিটেড, এসিআই ও মেঘনা গ্রুপসহ বেশ কিছু ব্র্যান্ডের রাইস ব্র্যান অয়েল পাওয়া যাচ্ছে।

বর্তমান সময়ে যখন দেশীয় কাঁচামালের সর্বোত্তম ব্যবহার এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি, তখন রাইস ব্র্যান অয়েল কেবল একটি ভোজ্যতেলই নয়; এটি হতে পারে আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশের পথে একটি কার্যকর পদক্ষেপ। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, স্থানীয় কাঁচামাল থেকে উৎপাদিত এই তেলের ব্যবহার বাড়লে একদিকে যেমন দেশীয় শিল্প উপকৃত হবে, অন্যদিকে আমদানিকৃত সয়াবিন তেলের ওপর দীর্ঘদিনের নির্ভরশীলতাও ধীরে ধীরে কমে আসবে।

স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা, স্বাস্থ্যসচেতনতা এবং দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক অবদান—এই তিনের সমন্বয়ে রাইস ব্র্যান অয়েলই হতে পারে আগামী দিনের স্মার্ট ভোজ্যতেল।

এমএন

বিজ্ঞাপন