দেশীয় বস্ত্র ও তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি বাড়াতে এবং বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়াতে বড় ধরনের সুখবর দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রপ্তানিমুখী দেশীয় বস্ত্রখাতে শুল্ক বন্ড ও ডিউটি ড্র-ব্যাক সুবিধার বিকল্প হিসেবে দেওয়া নগদ সহায়তার হার এক ধাক্কায় তিনগুণেরও বেশি বৃদ্ধি করা হয়েছে।
রোববার (১২ জুলাই) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ-১ থেকে জারি করা এক সার্কুলারের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। এই সহায়তা তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতের জন্য বড় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য রপ্তানির বিপরীতে নগদ সহায়তার ঘোষিত হার ১.৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে সরাসরি ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই ঘোষণা অনুযায়ী, বর্ধিত এই নগদ সহায়তা ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ের মধ্যে জাহাজীকৃত পণ্যের ক্ষেত্রে পুরোপুরি প্রযোজ্য হবে।
তবে তিনগুণেরও বেশি এই বড় সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে রপ্তানিকারকদের জন্য কিছু সুনির্দিষ্ট শর্ত জুড়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই সুবিধা পেতে হলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানকে অবশ্যই বিজিএমইএ, বিকেএমইএ বা অন্যান্য সংশ্লিষ্ট খাতের স্বীকৃত অ্যাসোসিয়েশনের বৈধ সদস্য হতে হবে এবং আবেদন করার সময় দেশীয় উৎস থেকে কাঁচামাল-বিশেষ করে সুতা ও কাপড়-সংগ্রহের সুনির্দিষ্ট ও বৈধ প্রমাণপত্র দাখিল করতে হবে।
এ ক্ষেত্রে পূর্বের প্রযোজ্য অন্যান্য সব নির্দেশনা, বিশেষ করে ২০০১ এবং ২০০৩ সালের সংশ্লিষ্ট বৈদেশিক মুদ্রা সার্কুলারের মূল বিধানসমূহ যথারীতি বহাল থাকবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও বস্ত্রখাতে বহুমুখী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
এই প্রণোদনার ফলে রপ্তানিকারকরা বিদেশি কাঁচামালের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় সুতা ও কাপড় ব্যবহারে বেশি আগ্রহী হবেন, যা স্থানীয় ভ্যালু অ্যাডিশন বাড়াতে এবং স্থানীয় শিল্পের বিকাশে সাহায্য করবে। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে দরকষাকষিতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাতে পারবে।
পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে রপ্তানি সচল রাখতে এবং প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে এই বর্ধিত নগদ সহায়তা দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের বুস্টার ডোজ হিসেবে কাজ করবে।
এসআই/জেডএস
