জনপ্রিয় বাহন মেট্রোরেলে বিজ্ঞাপন প্রচারের আয় ‘স্থাবর সম্পত্তি ভাড়া’ নাকি ‘বিজ্ঞাপন সেবা’ সে বিষয়ে করসংক্রান্ত অস্পষ্টতা নিরসনের দাবি জানিয়েছে অ্যানেক্স কমিউনিকেশনস লিমিটেড।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে সেবা হিসাবে বিবেচনার দাবি জানিয়ে চিঠিও দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সম্প্রতি এ বিষয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে এনবিআর সূত্রে জানা গেছে।
এনবিআর সূত্রে জানা যায়, ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) মেট্রোরেলের ভেতরে বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য অ্যানেক্স কমিউনিকেশনস একটি চুক্তিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে ভ্যাট আইনের সংজ্ঞা নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা ও অস্পষ্টতার কারণে কর নির্ধারণে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। চিঠিতে প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এনবিআরের বর্তমান এসআরও অনুযায়ী, মেট্রোরেলে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন কোনোভাবেই ‘স্থাবর সম্পত্তি ভাড়া’র আওতাভুক্ত হতে পারে না।
চিঠিতে প্রতিষ্ঠানটি তাদের দাবির পক্ষে বেশ কিছু যৌক্তিক কারণ তুলে ধরেছে। যার মধ্যে রয়েছে— মেট্রোরেলের ভেতরে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন কোনো স্থায়ী অবকাঠামো বা সম্পত্তি ভাড়া দেওয়ার বিষয় নয়, বরং এটি একটি সুনির্দিষ্ট বিজ্ঞাপন সেবা। মেট্রোরেলের ট্রেনের ওপর বিজ্ঞাপন সংস্থার কোনো একচেটিয়া দখল বা নিয়ন্ত্রণ নেই; এটি মূলত নির্দিষ্ট দর্শক গোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানোর একটি মাধ্যম মাত্র। ভারতের মেট্রোরেলসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশে মেট্রো রেলের বিজ্ঞাপন প্রচারকে ‘বিজ্ঞাপন সেবা’ হিসেবেই গণ্য করা হয় এবং সে অনুযায়ী কর আদায় করা হয়।
অ্যানেক্স কমিউনিকেশনস চিঠিতে দাবি করেছে, ‘স্থাবর সম্পত্তি ভাড়া’ এবং ‘বিজ্ঞাপন সেবা’র ওপর ভ্যাটের হার ভিন্ন। ফলে সঠিক শ্রেণিবিভাগ না হওয়ায় ব্যবসায়িক ও করসংক্রান্ত জটিলতা বাড়ছে। কর বিভাগের এই অস্পষ্টতা নিরসন হলে মেট্রোরেলের বিজ্ঞাপনী খাতের পরিধি আরও বাড়বে এবং রাজস্ব আহরণ প্রক্রিয়া সহজ হবে। তাই এ বিষয়ে দ্রুত যথাযথ নীতিমালা প্রণয়ন ও কর সংক্রান্ত অস্পষ্টতা দূর করার জন্য এনবিআর কর্তৃপক্ষের নিকট অনুরোধ জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
আরএম/এসএএস
