স্ক্রিপ নেটিং বা ইন্ট্রাডে ট্রেডিং চালুর সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিলসহ ছয় দফা দাবি জানিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খানের কাছে চিঠি দিয়েছে পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী সম্মিলিত পরিষদের (বিসিএমআইইউএ)।
রোববার (১৯ জুলাই) বিকালে বিনিয়োগকারীদের এই সংগঠনটির পক্ষ থেকে বিএসইসি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে তাকে নতুন চেয়ারম্যান নিযুক্ত হওয়ায় ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। এ সময় পুঁজিবাজারের বর্তমান সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয় এবং চেয়ারম্যানের কাছে ছয় দফা জানিয়ে এই চিঠি হস্তান্তর করা হয়।
ছয় দফা দাবি সম্বলিত চিঠি বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খানের কাছে হস্তান্তর করেন বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী সম্মিলিত পরিষদের সভাপতি আ ন ম আতাউল্লাহ নাঈম।
এ সময় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শেখ আতিক ইখতিয়ার, সিনিয়র সহ-সভাপতি একিউএম সিদ্দিক উল্লাহ, সহ-সভাপতি জহিরুল আলম জামাল, সিনিয়র সাধারণ সম্পাদক মো. নিজাম উদ্দিন এবং যুগ্ম সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সংগঠনটির দাবিগুলো হলো—
১. বর্তমান পুঁজিবাজারের সার্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা, পর্যাপ্ত পরিমাণে মৌলভিত্তিক স্টক না থাকা, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ ঝুঁকিতে পড়ার প্রবল আশঙ্কা থাকায়, পুঁজির নিরাপত্তার স্বার্থে স্ক্রিপ নেটিং বা ইন্ট্রাডে ট্রেডিং চালুর বিষয়ে গৃহীত সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল এবং বর্তমান বিদ্যমান ব্যবস্থা চালু রাখতে হবে। অন্যথায় এর দায়ভার বিএসইসি এবং সংশ্লিষ্ট স্টেক হোল্ডারদের বহন করতে হবে।
২. মার্জার হওয়া পাঁচ ব্যাংকের শেয়ারধারী বিনিয়োগকারীদের শেয়ার শূন্য ঘোষণা করায় তারা হতাশায় মুষড়ে পড়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এমতাবস্থায়, ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বা বিনিয়োগের অর্থ ফেরতের বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাথে সমন্বিত আলোচনা পূর্বক প্রয়োজনীয় কার্যকর ব্যবস্থা করতে হবে।
৩. বিএসইসি আইনে মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোর ৩০ শতাংশ অর্থ ব্যাংক এবং নন ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ফিক্সড ডিপোজিট (এফডিআর) করার নিয়ম থাকলেও (ক্ষেত্রবিশেষে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত ফিক্সড ডিপোজিট), ফান্ডগুলো পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ না করে বেআইনিভাবে ফান্ড ম্যানেজাররা ৭০-৭৫ শতাংশ অর্থ পর্যন্ত ফিক্সড ডিপোজিট করে রাখে, যা আইনের পরিপন্থি। পাশাপাশি বিভিন্ন দুর্বল ব্যাংকে ফিক্সড ডিপোজিট (এফডিআর) করায় বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ হুমকির সম্মুখীন। এমতাবস্থায় আইন অনুযায়ী প্রথম সারির ব্যাংকে ডিপোজিট হিসাব খোলার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ নিরাপদ রাখার প্রয়োজনীয় আইনগত উদ্যোগ গ্রহণ করা একান্ত জরুরি।
৪. পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিভিন্ন ব্যাংকের শেয়ার ক্রয় করে বিনিয়োগকারীরা বছরের পর বছর আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে এবং তাদের পুঁজি আটকে যাচ্ছে। কারণ, অনেক ব্যাংক ডেফারেল প্রভিশনিং হিসাব উহ্য রেখে মুনাফা দেখানোর কারণে বিনিয়োগকারীরা বিভ্রান্ত হয়ে বিনিয়োগ করে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। এমতাবস্থায়, ব্যাংকের প্রকৃত বর্তমান হিসাব, বাৎসরিক প্রকৃত মুনাফা, বর্তমান ক্যাশফ্লো, প্রভিশন এবং ডেফারেলসহ কত হবে, তার বিস্তারিত বিবরণী, বার্ষিক প্রতিবেদন উল্লেখ থাকা বাধ্যতামূলক করতে হবে। যাতে বিনিয়োগকারীরা সময়োপযোগী সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে বিনিয়োগ নিরাপদ রাখতে পারে।
৫. বিএসইসির কনসেন্ট পেপার দেখিয়ে (সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যপক ড. খায়রুল হোসেনের আমলে) অনেক কোম্পানি ক্যাপিট্যাল রেঞ্জের জন্য বিভিন্ন শ্রেণির বিনিয়োগকারীদের কাছে উচ্চ মূল্যে প্লেসমেন্ট শেয়ার বিক্রি করা হলেও, অনেক কোম্পানি এখনো পর্যন্ত বিনিয়োগকারীদেরকে শেয়ার বরাদ্দ দেয়নি। নির্ধারিত সময়ে ইজিএম, এজিএম না করা, শেয়ার বরাদ্দ না দেওয়া, বিনিয়োগকৃত অর্থ আটকে থাকায় বিনিয়োগকারীরা বছরের পর বছর অনিশ্চয়তায় দিনাতিপাত করছেন। এই বিষয়ে তদন্তপূর্বক দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরতের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৬. পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত টেক্সটাইল সেক্টরের কোম্পানিগুলো যেন প্রতি কোয়ার্টারে আন-অডিটেড রিপোর্ট না দিয়ে ৬ মাস অন্তর অডিটেড রিপোর্ট দেয়, এর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ খুবই প্রয়োজনীয়। কারণ আন- অডিটেড রিপোর্টের ভিত্তিতে বিনিয়োগ ঝুঁকিতে পড়ে। উক্ত বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে বিনিয়োগকারীদের পুঁজির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
চিঠিতে পুঁজিবাজারের গতিশীলতা ও পুঁজির নিরাপত্তার স্বার্থে উপরে উল্লিখিত দাবিসমূহ দ্রুত বাস্তবায়ন করে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন রাখার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জোর আবেদন জানানো হয়।
এমএমএইচ/এমএন
