বিজ্ঞাপন

ডিসিসিআইয়ের উদ্বেগ

উৎসে কর মনিটরিংয়ে উদ্যোক্তাদের অহেতুক হয়রানি না করার আহ্বান

উৎসে কর মনিটরিংয়ে উদ্যোক্তাদের অহেতুক হয়রানি না করার আহ্বান

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কর্তৃক আয়কর আইন, ২০২৩ এর ১৪৭(২) ধারার আওতায় যে কোনো ব্যবসায়িক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের উৎসে কর (টিডিএস) কর্তন জমা, মনিটরিং ও যাচাইকরণ কার্যক্রম জোরদারের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। তবে এ কার্যক্রম বাস্তবায়নের সময় উদ্যোক্তাদের অযথা হয়রানি না করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

সোমবার (২০ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটির সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, যেসব ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এখনও পুরোপুরি কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করতে পারেনি, তাদেরকে তা বাস্তবায়নে সময় ও সুযোগ দেওয়ার মাধ্যমে ন্যায্য অধিকার প্রাপ্তির জন্য এনবিআরের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে ডিসিসিআই। এ ছাড়া, সরকারের রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ ও করজাল সম্প্রসারণে দেশের সামগ্রিক রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় অটোমেশন ও ডিজিটাল কার্যক্রমের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে আমাদের বেসরকারিখাতের সবার অনাকাঙ্ক্ষিত ভোগান্তি বহুলাংশে লাঘব হবে।

তিনি আরও বলেন, ঢাকা চেম্বার বিশ্বাস করে, রাজস্ব আহরণ ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ— এই দুটি লক্ষ্য একসঙ্গে অর্জন করা সম্ভব। তবে এ ক্ষেত্রে এনবিআরের সঙ্গে গঠনমূলক সংলাপ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি সব শ্রেণির ব্যবসায়ীদের কীভাবে কর ব্যবস্থাপনায় আরো শৃঙ্খলাবদ্ধ করা যায়, সে বিষয়ে সরকার-বেসরকারিখাতের একযোগে কাজের বিকল্প নেই।

প্রসঙ্গত, গতকাল শনিবার (১৯ জুলাই) জারি করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এনবিআর জানায়, উৎসে কর সঠিকভাবে কর্তন ও সরকারি কোষাগারে জমা নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে বিশেষ মনিটরিং কার্যক্রম শুরু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। এ লক্ষ্যে কর অঞ্চলগুলোর বিশেষ টিম বিভিন্ন বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানে সরেজমিনে পরিদর্শন, নথিপত্র যাচাই এবং ডিজিটাল তথ্য পরীক্ষা করছে। আয়কর আইন, ২০২৩-এর ১৪৭ ধারার আওতায় কর কর্মকর্তাদের আইনগত ক্ষমতা সম্পর্কে করদাতা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সচেতন করার অংশ হিসেবে এ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

এনবিআরের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, আইন অনুযায়ী কর কর্মকর্তারা যেকোনো বাণিজ্যিক বা অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়, ব্যবসা কেন্দ্র বা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে সরেজমিনে পরিদর্শন করতে পারবেন। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের হিসাবের বই, ভাউচার, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, রসিদসহ আর্থিক কার্যক্রম-সংক্রান্ত বিভিন্ন নথিপত্র পরীক্ষা ও তলব করার ক্ষমতা রয়েছে তাদের। এ ছাড়া, প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার সিস্টেম, ক্লাউড সার্ভার, ডিজিটাল রেকর্ড কিংবা অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইসে সংরক্ষিত তথ্যও পরীক্ষা করা যাবে। প্রয়োজনে পাসওয়ার্ড বা এনক্রিপশন ভেঙে তথ্যে প্রবেশেরও সুযোগ রয়েছে।

এমএমএইচ/এসএএস

বিজ্ঞাপন