বিজ্ঞাপন

মার্জিন বিধিমালা সংশোধনের প্রস্তাব

ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পিবি রেশিও বিবেচনার সুপারিশ

ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পিবি রেশিও বিবেচনার সুপারিশ

শেয়ারবাজারে ঋণ ব্যবস্থাকে আরও সহজ, কার্যকর ও বিনিয়োগবান্ধব করতে ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মার্জিন) বিধিমালা, ২০২৫’-এ বড় ধরনের সংশোধনের উদ্যোগ হয়েছে। এর মধ্যে ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে মূল্য-আয় অনুপাতের (পিই রেশিও) বদলে প্রাইস-টু-বুক (পিবি) রেশিও বিবেচনা করার সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়াও খসড়ায় আরো বেশ কিছু পরিবর্তন আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এই লক্ষ্যে বিধিমালার খসড়া সংশোধনী গত রোববার জনমত যাচাইয়ের জন্য প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

বিধিমালার খসড়া সংশোধনীতে নতুন পরিবর্তনগুলোর মধ্যে গ্রাহকের ইকুইটির বিপরীতে মার্জিন অর্থায়নের সর্বোচ্চ অনুপাত সব ক্ষেত্রে এক অনুপাত এক নির্ধারণ করা হয়েছে। আগে পরিস্থিতিভেদে এটি এক অনুপাত এক, এক অনুপাত শূন্য দশমিক পাঁচ ও এক অনুপাত শূন্য দশমিক ২৫ ছিল। তবে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান নিজস্ব নীতিমালার আলোকে চাইলে এর চেয়ে কম ঋণ দিতে পারবে। পাশাপাশি, প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ বিতরণের সক্ষমতা বাড়াতে নিট সম্পদের বিপরীতে অর্থায়নের সীমা তিন গুণ থেকে বাড়িয়ে পাঁচ গুণ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। 

গ্রাহকের ইকুইটি ৭৫ শতাংশের নিচে নামলে আগে মার্জিন কল দেওয়া হলেও এখন তা ৭০ শতাংশ করা হচ্ছে। তবে ইকুইটি ৫০ শতাংশের নিচে নামলে ফোর্সড সেলের বিধানটি আগের মতো থাকছে অপরিবর্তিত।

মার্জিন যোগ্য শেয়ার নির্ধারণেও আসছে বড় পরিবর্তন। ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিমা কোম্পানির ক্ষেত্রে মূল্য-আয় অনুপাতের (পিই রেশিও) বদলে প্রাইস-টু-বুক (পিবি) রেশিও বিবেচনা করা হবে।

খসড়া অনুযায়ী, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে পিবি রেশিও ৩- এর বেশি এবং বিমার ক্ষেত্রে ১- এর বেশি হলে ওই শেয়ারে আর ঋণ মিলবে না। অন্য খাতের কোম্পানিগুলোর পিই রেশিও সর্বশেষ চার প্রান্তিকের বদলে সর্বশেষ নিরীক্ষিত বার্ষিক ইপিএসের ভিত্তিতে হিসাব করা হবে। 

এছাড়া এখন থেকে ‘এ’ ও ‘বি’ ক্যাটাগরির সব শেয়ারকেই মার্জিন যোগ্য করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যেখানে আগে ‘বি’ ক্যাটাগরির ক্ষেত্রে কমপক্ষে ৫ শতাংশ লভ্যাংশ দেওয়ার শর্ত ছিল।

বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে খসড়ায় বেশ কিছু পুরোনো শর্ত বাতিলের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থী, গৃহিণী ও অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মার্জিন ঋণ নেওয়ার বাধা কাটতে যাচ্ছে। 

বাতিল হচ্ছে ওভারঅল মার্কেট পিইর ভিত্তিতে মার্জিন অনুপাত কমানো, এক বছরে গড়ে ৫ লাখ টাকা বিনিয়োগের বাধ্যবাধকতা, ৫০ কোটি টাকার ফ্রি-ফ্লোট মার্কেট ক্যাপ এবং ক্যাপিটাল অ্যাডিকোয়েসি কমপ্লায়েন্স-সংক্রান্ত শর্তগুলো। এছাড়া প্রতি বছর মার্জিন চুক্তি নবায়নের বাধ্যবাধকতা তুলে দিয়ে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়নের সুযোগ রাখা হয়েছে।

এমএমএইচ/জেআই

বিজ্ঞাপন