২০২৬-২০২৭ করবর্ষে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। করসেবা সহজ, স্বচ্ছ এবং করদাতাবান্ধব করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবার বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
চলতি অর্থবছরে করদাতাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিলে উৎসাহিত করতে বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা করেছে। নিয়মানুযায়ী, করদাতারা জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে তাদের নিট প্রদেয় করের ওপর ৫ শতাংশ প্রণোদনা পাবেন। একজন করদাতা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কর ছাড় সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।
এনবিআর সূত্রে জানা যায়, করদাতারা যদি বছরের প্রথম প্রান্তিকে অর্থাৎ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করেন, তবে তারা তাদের মোট প্রদেয় করের ওপর ৫ শতাংশ হারে রিবেট বা প্রণোদনা পাওয়ার যোগ্য বিবেচিত হবেন। এই প্রণোদনা করদাতাকে সরাসরি আর্থিক সুবিধা প্রদান করবে, অর্থাৎ করদাতাকে তার প্রকৃত কর থেকে কিছুটা কম পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করতে হবে।
প্রণোদনার শর্ত ও সীমার বিষয় এনবিআর কিছু সুনির্দিষ্ট নীতিমালা করেছে। যার মধ্যে রয়েছে- নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিলকারী ব্যক্তিশ্রেণির করদাতারা তাদের নিট প্রদেয় করের ওপর ৫ শতাংশ প্রণোদনা পাবেন। এই প্রণোদনার আওতায় একজন করদাতা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কর ছাড় সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন। যারা শুধু চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলেই এই প্রণোদনা কার্যকর হবে।
বিলম্ব করলে কী হবে
এনবিআরের নির্দেশনা অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসের পর রিটার্ন দাখিল করলে করদাতারা আর এই বিশেষ প্রণোদনা পাবেন না। এমনকি ডিসেম্বর মাসের পর রিটার্ন দাখিল করলে বিদ্যমান আয়কর আইন অনুযায়ী করদাতাকে বিলম্বের জন্য অতিরিক্ত কর বা জরিমানাও পরিশোধ করতে হবে। তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করা করদাতাদের জন্য আর্থিকভাবে সাশ্রয়ী।
করসেবা সহজ করার লক্ষ্যে সকল স্বাভাবিক ব্যক্তিশ্রেণির করদাতার জন্য অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। করদাতারা এনবিআর-এর ওয়েবসাইটে গিয়ে তাদের বাৎসরিক আয়কর রিটার্ন প্রস্তুত ও দাখিল করতে পারবেন। অনলাইনে কর পরিশোধের জন্য ব্যাংক ট্রান্সফার, ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড এবং বিভিন্ন মোবাইল ফাইন্যানশিয়াল সার্ভিস ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যার সম্মুখীন হলে সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত অফিস চলাকালীন সময়ে কল সেন্টারের (০৯৬৪৩৭১৭১৭১) মাধ্যমে সহায়তা পাওয়া যাবে।
অন্যদিকে সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২০২৬ করবর্ষে রেকর্ড প্রায় ৪৭ লাখ করদাতা ই-রিটার্ন সিস্টেমের মাধ্যমে তাঁদের আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন। নতুন করবর্ষে সকল স্বাভাবিক ব্যক্তিশ্রেণির করদাতার জন্য অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
তবে বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে করদাতারা পেপার রিটার্ন দাখিলের সুযোগ পাবেন। ওই তালিকায় রয়েছে– ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের প্রবীণ করদাতা, সনদপত্র দাখিল সাপেক্ষে শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা,বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশী করদাতা, মৃত করদাতার পক্ষে প্রতিনিধি, বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশী নাগরিক। এছাড়া ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধন সংক্রান্ত সমস্যার কারণে যারা অনলাইনে রিটার্ন দাখিলে সমর্থ নন, তারা সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত বা যুগ্মকর কমিশনারের অনুমোদনক্রমে পেপার রিটার্ন জমা দিতে পারবেন।
আরএম/বিআরইউ
