বিজ্ঞাপন

‘পুঁজিবাজারকে আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে যেতে চাই’

দীর্ঘদিন ধরে ‘সংকটে’ থাকা দেশের পুঁজিবাজারের উন্নয়নে বড় পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ উদ্দেশ্যে বেশ কিছু নতুন আইন ও বিধিমালা প্রণয়নের পাশাপাশি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পুঁজিবাজারে ভালো কোম্পানির অংশগ্রহণ বাড়ানো, বড় বড় দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্ত করা, প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) প্রক্রিয়া দ্রুত করা, ডাইরেক্ট লিস্টিং প্রক্রিয়া সহজ করা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক নজরদারিসহ বেশ কিছু সংস্কারের মাধ্যমে দেশের পুঁজিবাজারকে এগিয়ে নিতে কাজ করছে বিএসইসি।

বাজারের উন্নয়নে এসব পরিকল্পনা ও রূপরেখা নিয়ে ঢাকা পোস্টের সঙ্গে কথা বলেছেন বিএসইসির নতুন চেয়ারম্যান মাসুদ খান। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন নিজস্ব প্রতিবেদক মেহেদী হাসান সজল

ঢাকা পোস্ট : আপনার নেতৃত্বাধীন কমিশন বাজার উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদে অনেকগুলো উদ্যোগ নিয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি এসব উদ্যোগের পাশাপাশি স্বল্পমেয়াদে কোন বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দিতে চান?

মাসুদ খান : আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর দেখতে পেলাম ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) তাদের আইনগত ক্ষমতার অভাবে কিছু কাজ করতে সমস্যা হচ্ছে। আমরা শুরুতেই তাদের লিস্টিং রেগুলেশন এবং বাজার তদারকির ক্ষেত্রে আইনের ক্ষমতা দিলাম। অস্বাভাবিক লেনদেন রোধে ডিএসইকে কালক্ষেপণ না করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিলাম। তারপর দীর্ঘদিনের চাহিদা বিবেচনা করে শেয়ারের ‘ফ্লোর প্রাইস’ তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। যা বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের গ্লোবাল ডিপোজিটরি রিসিপ্ট (জিডিআর) লিস্টিংয়ের মতো বড় বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের কোম্পানিগুলোর ভবিষ্যৎ লিস্টিংয়ের পথ সুগম করা হয়েছে।

এ ছাড়া লেনদেন প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করতে ‘টি প্লাস ওয়ান’ সেটেলমেন্ট এবং ‘স্ক্রিপ নেটিং’ পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ ৬ বছরের স্থবিরতা কাটিয়ে সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি বাংলাদেশ লিমিটেডকে (সিসিবিএল) একটি পৃথক ও আন্তর্জাতিক মানের কার্যকর ক্লিয়ারিং সিস্টেমে রূপান্তর করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিএসইসির প্রত্যক্ষ প্রচেষ্টায় চলতি অর্থবছরের বাজেটে পুঁজিবাজারের জন্য বেশ কিছু বাজারবান্ধব সিদ্ধান্ত অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ইন্টার কোম্পানি ডিভিডেন্ড ট্যাক্স প্রত্যাহার, ব্যক্তি পর্যায়ের ডিভিডেন্ড ট্যাক্স ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনা, মিউচুয়াল ফান্ডের বিনিয়োগ সীমা তুলে দেওয়া এবং বন্ডের মুনাফাকে করমুক্ত রাখা। এই নীতিগত সহায়তার ফলে বাজারে বর্তমানে একটি ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

dhakapost

ঢাকা পোস্ট : বাজেটে এই ছাড় দিয়ে স্থানীয় বড় কোম্পানি, মুনাফায় থাকা সরকারি কোম্পানি এবং বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে আনা সম্ভব হবে কি না। এরপরও না এলে কী ধরনের উদ্যোগ নেবেন?

মাসুদ খান : দেশের পুঁজিবাজারে মেটলাইফ বা স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের মতো বিশ্বখ্যাত বহুজাতিক কোম্পানি এবং বড় বড় স্থানীয় শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো তালিকাভুক্ত নয়। এই কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারে এলে বাজারের ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরবে এবং ইতিবাচক প্রভাব বাড়বে। যদিও এই প্রতিষ্ঠানগুলো অনেক আগেই পুঁজিবাজারে আসা উচিত ছিলো। দুঃখজনক হলেও সত্য, এদের এখনো আনা সম্ভব হয়নি। বড় কোম্পানিগুলো তাদের ব্যবসায়িক পুঁজির একটি বড় অংশ ব্যাংক ঋণ বা বন্ডের মাধ্যমে সংগ্রহ করে। এই অর্থের নেপথ্যে থাকে হাজার হাজার সাধারণ মানুষের আমানত বা সঞ্চয়। তাই পরোক্ষভাবে এসব বড় কোম্পানি পাবলিক ইন্টারেস্ট কোম্পানি (পিআইসি) বা জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান হিসেবে গণ্য হয়।

বহুজাতিক কোম্পানি, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাংক কিংবা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নির্দিষ্ট সীমার বেশি ঋণ নিলে অথবা ওইসব কোম্পানির বার্ষিক টার্নওভার (লেনদেন) একটি নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করলে আমরা সেগুলোকে পিআইসি হিসেবে সংজ্ঞায়িত করার পরিকল্পনা করছি। তখন কোনো প্রতিষ্ঠান পিআইসি হিসেবে চিহ্নিত হলে তাদের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির জন্য বাধ্যতামূলক আবেদন করতে হবে। তালিকাভুক্তির জন্য অনুমোদন পাবে কি না সেটি আমরা যাচাই-বাছাই করে পরে সিদ্ধান্ত নেব। তবে যেসব কোম্পানি পিআইসি হিসেবে চিহ্নিত হবে সেগুলোকে তালিকাভুক্ত হওয়ার জন্য আবেদন করতেই হবে।

ঢাকা পোস্ট : অতীতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা যেমন বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব (এনবিআর) বোর্ড এবং বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) সঙ্গে বরাবরই কমিশনের সমন্বয়হীনতা দেখা গেছে। এই সমন্বয়হীনতা দূর করতে আপনার কমিশন কী ধরনের পদক্ষেপ নেবে?

মাসুদ খান : বাংলাদেশ ব্যাংক, এনবিআর এবং আইডিআরএ’র মধ্যে দীর্ঘদিনের সমন্বয়হীনতা দূর করতে বর্তমান কমিশন কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে। এনবিআরের সঙ্গে বাজেট প্রণয়নে সরাসরি সম্পৃক্ত হয়ে কাজ করা এই সফল সমন্বয়ের একটি বড় উদাহরণ। বর্তমান প্রেক্ষাপটে পুঁজিবাজারের উন্নয়নই সব নিয়ন্ত্রক সংস্থার মূল লক্ষ্য। বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গেও কোনো ধরনের দ্বন্দ্ব ছাড়াই পারস্পরিক স্বার্থ বজায় রেখে এবং নিবিড়ভাবে কাজ করার বিষয়ে কমিশন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের বক্তব্যেও এরইমধ্যে পুঁজিবাজারের উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে। আমাদের বড় তিনটি নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে একটি সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার আওতায় আনতে নিয়মিত বৈঠকের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে প্রতি তিন মাস অন্তর শীর্ষ পর্যায়ে বৈঠক এবং নিয়মিত বিরতিতে দ্বিতীয় স্তরের কর্মকর্তাদের মধ্যে সমন্বিত আলোচনার ব্যবস্থা করা হবে।

ঢাকা পোস্ট : অন্তত ৭টি ব্রোকারেজ হাউজ থেকে অর্থ ও শেয়ার লুটপাটে বিনিয়োগকারীদের আস্থায় ভাটা পড়েছে। এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি বন্ধে কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে চান?

মাসুদ খান : এখানে প্রথমে বলতে চাই যে স্টক এক্সচেঞ্জ হচ্ছে প্রাইমারি রেগুলেটর। আমরা এরইমধ্যে এই বিষয়টি নিয়ে স্টক এক্সচেঞ্জের সঙ্গে আলোচনা করেছি। তাদেরকে বলেছি যে নজরদারি অনেক বাড়াতে হবে। অতীতে যারা বিনিয়োগকারীর অর্থ ও শেয়ার লুটপাট করেছে তারা দেখতে পেয়েছে যে এখানে নজরদারির গ্যাপ ছিল। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এক বছর বা দুই বছর পর স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে তাদের কাছে ইন্সপেকশনে (পরিদর্শনে) এসেছে। এই যদি সিচুয়েশন হয়, তাহলে তাদের কোনো ভয় থাকার কথা নয়। এজন্য আমরা ডিএসইকে বলেছি ঘন ঘন ইন্সপেকশনে যেতে হবে। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ ব্রোকারেজ হাউজগুলোকে বেশি নজরদারিতে রাখতে হবে। রিস্ক মেজারমেন্ট করে কোনটা বড়, কোনটা মিডিয়াম, কোনটা ছোট- সেই অনুযায়ী নজরদারি করতে বলা হয়েছে।

ঢাকা পোস্ট : আপনার কমিশন বাজারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে কি না?

মাসুদ খান : আমাদের কমিশন প্রথাগত বা সৌজন্যমূলক বৈঠকের চেয়ে নির্দিষ্ট সমস্যা সমাধানকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ব্রোকার হাউজ, মার্চেন্ট ব্যাংক এবং মিউচুয়াল ফান্ডের মতো সব বাজার মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মার্জিন রুল, পাবলিক ইস্যু রুল বা মিউচুয়াল ফান্ড সংক্রান্ত নতুন বিধিমালাও অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতেই তৈরি করা হচ্ছে। এসব বিষয়ে কমিশনের একক সিদ্ধান্তের চেয়ে বাজারের সামগ্রিক চাহিদাকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। আইপিও প্রক্রিয়ার ধীরগতি বা শেয়ারের সঠিক দাম নির্ধারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে নিবিড় ও কার্যকর আলোচনা চলছে। কমিশনের কার্যক্রম গুছিয়ে নেওয়ার পর ভবিষ্যতে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর সঙ্গেও বৈঠক করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তাদের সমস্যাগুলো শোনা হবে এবং সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

dhakapost

ঢাকা পোস্ট : অর্থনীতির আকারের তুলনায় পুঁজিবাজারের ব্যাপ্তি বাড়াতে আপনার কমিশন কী ধরনের উদ্যোগ নেবে?

মাসুদ খান : বর্তমানে দেশের পুঁজিবাজারে প্রায় ৯০ শতাংশই ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী, যা বাজারের স্থিতিশীলতার জন্য টেকসই নয়। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা অনেক সময় শেয়ারের প্রকৃত মূল্য বা ভ্যালুয়েশন বুঝতে না পেরে কারসাজিকারীদের খপ্পরে পড়েন। এই ঝুঁকি এড়াতে বাজারকে পেশাদার ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী-নির্ভর করে গড়ে তোলা জরুরি। এজন্য আমরা উন্নত বিশ্বের মতো মিউচুয়াল ফান্ড খাতে গুরুত্ব বাড়াব। মিউচুয়াল ফান্ড খাতে স্বচ্ছতা বাড়াতে আমরা ‘কি পারফরম্যান্স ইন্ডিকেটর’ (কেপিআই) ভিত্তিক মনিটরিং করবে। ফান্ডের মুনাফা, ঝুঁকি এবং ব্যবস্থাপনার ওপর ভিত্তি করে কেন্দ্রীয়ভাবে গ্রেডিং করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ সহজেই ভালো ফান্ড বাছাই করতে পারেন।

এ ছাড়া উন্নত দেশের মতো বাংলাদেশের প্রভিডেন্ট ও গ্রাচুইটি ফান্ডগুলোকে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হবে। বর্তমানে এসব তহবিল মূলত সঞ্চয়পত্র বা সরকারি বন্ডে সীমাবদ্ধ থাকে। এই বিশাল তহবিলকে সুনির্দিষ্ট আইনের আওতায় এনে সরকারি বন্ডের পাশাপাশি কর্পোরেট বন্ড এবং পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হচ্ছে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়াতে এসব ফান্ডের জন্য মিউচুয়াল ফান্ডে অন্তত ১০ শতাংশ বিনিয়োগের কোটা রাখার পরিকল্পনা চলছে। সরাসরি শেয়ার লেনদেনে অভিজ্ঞতা না থাকলেও মিউচুয়াল ফান্ডের মাধ্যমে বিনিয়োগ করলে এসব ফান্ডের অর্থ অনেক বেশি নিরাপদ থাকবে এবং বাজারও গতিশীল হবে।

ঢাকা পোস্ট : আপনার মেয়াদকালে পুঁজিবাজারকে কোন অবস্থানে দেখতে চান?

মাসুদ খান : আগামী দুই-তিন বছরে আমি কয়েকটি বড় পরিবর্তন আনতে চাই। আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো, বাজারে ভালো কোম্পানির অংশগ্রহণ বাড়ানো। এজন্য অনেক কোম্পানিকে আইপিও অথবা ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের মাধ্যমে বাজারে নিয়ে আসতে হবে। বর্তমানে বিনিয়োগযোগ্য ভালো কোম্পানির সংখ্যা কমে গেছে, তাই ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের প্রক্রিয়াটি আমরা সহজ করছি। এর ফল দ্রুতই দেখা যাবে। এটি আমাদের একটি মেজর উদ্যোগ। এছাড়া আইপিও অনুমোদন প্রক্রিয়াকে ঢেলে সাজিয়ে ৬০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করছি। 

বাজারের গভীরতা বাড়াতে বিদেশি বিনিয়োগকারী অত্যন্ত জরুরি। তারা সাধারণত বিচার-বিশ্লেষণ বা ফান্ডামেন্টাল কোম্পানি দেখেই বিনিয়োগ করে। আমাদের বাজারেও তাই ফান্ডামেন্টাল কোম্পানির সংখ্যা দ্রুত বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছি। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা যেসব শেয়ারে বিনিয়োগ করবে, আমাদের সাধারণ বিনিয়োগকারীরাও যদি সেই সেন্স কাজে লাগায়, তবে তারাও বুঝতে পারবে কোনগুলো মৌলভিত্তি-সম্পন্ন শেয়ার। এর মাধ্যমে আমরা পুঁজিবাজারকে আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে যেতে চাই।

dhakapost

এ ছাড়া আমরা সার্ভেইল্যান্স বা নজরদারি আরও জোরদার করছি। ডিএসইর সঙ্গে আলাপ চলছে, যাতে পুরো ব্যবস্থাটি এআইভিত্তিক করা যায়। এতে মানুষের হস্তক্ষেপ কমে আসবে এবং ট্রেডিং হল্ট হওয়ার মতো বিষয়গুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে আন্তর্জাতিক নিয়মে পরিচালিত হবে। কারসাজি বা ম্যানিপুলেশন রোধে সিস্টেমকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে। 

আমরা পুঁজিবাজারকে ফ্রন্টিয়ার থেকে ইমাজিং মার্কেটে নিয়ে যেতে চাই। এজন্য ডেরিভেটিভ মার্কেট চালু করা আমাদের অন্যতম লক্ষ্য। এছাড়া বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড (ইটিএফ) এবং রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টমেন্ট ট্রাস্ট (আরইআইটি) বাংলাদেশেও চালু করার চিন্তা করছি। আবাসন খাতে আমাদের বড় একটি সম্ভাবনা রয়েছে, এটিকে কাজে লাগাতে চাই। মিউচুয়াল ফান্ড এবং ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ইন্ডাস্ট্রিকে আরও গতিশীল করতে উদ্যোগ নেবো। ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা কমাতে বন্ড মার্কেটকে শক্তিশালী করতে চাই। বিএসইসিকে আমরা পুরোপুরি কাগজবিহীন বা ই-নথিতে নিয়ে যেতে উদ্যোগ নিয়েছি। এজন্য আমরা এক্সটেনসিবল বিজনেস রিপোর্টিং ল্যাঙ্গুয়েজ (এক্সবিআরএল) সিস্টেম চালু করতে চাই, যাতে ডিজিটাল ফরম্যাটে ডেটা ম্যাপিং ও দ্রুত বিশ্লেষণ করা সম্ভব হয়।

ঢাকা পোস্ট : এসএমই প্ল্যাটফর্মের উন্নয়নে বর্তমান কমিশনের পরিকল্পনা কী?

মাসুদ খান : এই প্ল্যাটফর্মের মূল্যায়নে প্রধান দুটি দিক বিবেচনা করতে হবে। একটি হলো বেনিফিট (সুবিধা), আরেকটি রিস্ক (ঝুঁকি)। বেনিফিট হচ্ছে পুঁজিবাজার থেকে এই ছোট কোম্পানিটি টাকা তুলতে পারছে। ব্যাংক থেকে তার জন্য টাকা পাওয়া কঠিন। আর ঝুঁকিটা হচ্ছে বিনিয়োগকারীদের জন্য। যেহেতু এই কোম্পানিগুলো ছোট, তাই এদের বাজার মূলধনের পরিমাণও কম। ফলে এখানে ম্যানিপুলেশনের (কারসাজি) সুযোগটা বেশি থাকে। এজন্য এসএমই প্ল্যাটফর্মের আরও উন্নয়ন করা দরকার। কিন্তু, বুঝে শুনে এটি করতে হবে।

ঢাকা পোস্ট : সাধারণ বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ্যে আপনার কোনো বিশেষ পরামর্শ...

মাসুদ খান : বিনিয়োগকারীদের মনে রাখতে হবে- ‘হাই গেইন মানে হাই রিস্ক’। এক সপ্তাহের মধ্যে টাকা দ্বিগুণ করার প্রবণতা থাকলে পুরো পুঁজি হারানোর ঝুঁকি থাকবে। তাই রাতারাতি বড়লোক হওয়ার চিন্তা না করে দীর্ঘমেয়াদি ও মৌলভিত্তি-সম্পন্ন শেয়ারে বিনিয়োগ করা উচিত। যেখানে নিয়মিত ডিভিডেন্ড পাওয়ার সুযোগ থাকে, সেসব শেয়ারে বিনিয়োগ করুন। বিনিয়োগের আগে অবশ্যই কোম্পানি সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নিন।

এমএমএইচ/জেডএস