অভ্যন্তরীণ বাজার ও রপ্তানি খাত, উভয় ক্ষেত্রেই দেশের ওষুধ শিল্পের ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। ওই খাত থেকে সরকার প্রতি বছর শুল্ক, কর ও অন্যান্য রাজস্ব বাবদ আনুমানিক ৮ থেকে ১০ হাজার কোটি টাকা পায়। কিন্তু, রাজস্বে অবদান রাখা খাতটির ১৮টি শীর্ষ ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উৎপাদনসংক্রান্ত নথিপত্র জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বৃহৎ করদাতা ইউনিটকে (এলটিইউ) সরবরাহে গড়িমসি বা অপারগতা প্রকাশের অভিযোগ উঠেছে।
এলটিইউ থেকে দফায় দফায় দেওয়া চিঠি ও তাগিদপত্রে কোম্পানিগুলোর ২০২১-২০২২ অর্থছরের আইটেমভিত্তিক উৎপাদন প্রতিবেদন জমা দেওয়ার অনুরোধ করার প্রায় তিন মাস পেরিয়ে গেলেও, তা পাঠানো হয়নি বলে জানা গেছে। এলটিইউ কমিশনার সৈয়দ আতিকুর রহমান সই চিঠির সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
যদিও মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর ধারা ৮২ অনুযায়ী এনবিআর যে কোনো করদাতার কাছ থেকে তাদের ব্যবসায়িক ও উৎপাদন সংক্রান্ত তথ্য তলব করার অধিকার রাখে।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনবিআরের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমরা যখনই তাদের কাছে তথ্য চেয়েছি, তারা নানা দাপ্তরিক মারপ্যাঁচে সময়ক্ষেপণ করছে। অথচ আইন অনুযায়ী তারা এই তথ্য দিতে বাধ্য। কোম্পানিগুলো যদি স্বচ্ছ থাকে তাহলে রেকর্ডপত্র দিতে সমস্যা কোথায়?
যেসব ওষুধ কোম্পানির রেকর্ডপত্র চাওয়া হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে- অ্যাডভান্সড কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (এসিআই) পিএলসি, এরিস্টোফার্মা লিমিটেড, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসি, ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড, জেনারেল ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসি, নুভিস্তা ফার্মা পিএলসি, ওরিয়ন ফার্মা লিমিটেড,প্যাসিফিক ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, রেনাটা পিএলসি, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসি, সাইনোভিয়া ফার্মা পিএলসি, দি একমি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড এবং দি ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রি পিএলসি। কোম্পানিগুলোকে গত ১২ মে চিঠি দেওয়ার পরও কয়েক দফায় তাগিদ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এছাড়াও গত এপ্রিল মাসে হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের মতো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও আলাদাভাবে উৎপাদন প্রতিবেদন দাখিলের তাগিদ দেওয়া হয় বলেও জানা গেছে।
এনবিআর সূত্রে জানা যায়, রেকর্ডপত্র চাওয়ার মূল কারণ হলো আইটেমভিত্তিক উৎপাদন প্রতিবেদন পাওয়া গেলে স্পষ্ট হয়ে যাবে কত ইউনিট ওষুধ তৈরি হয়েছে এবং কত ইউনিট বিক্রি হয়েছে। যদি উৎপাদন ও বিক্রয়ের তথ্যে বিস্তর ফারাক থাকে, তবে সহজেই বোঝা যাবে বাজারে বিপুল পরিমাণ ওষুধ অনানুষ্ঠানিক বা কালো বাজারে বিক্রি হচ্ছে কিনা। ভ্যাট বা ট্যাক্স সরকারি কোষাগারে ঠিকঠাকভাবে জমা পড়ছে কিনা। যদি প্রতিষ্ঠানগুলো শেষ পর্যন্ত তথ্য প্রদানে ব্যর্থ হয়, তবে এনবিআর আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবে। প্রয়োজনে অডিট টিম পাঠিয়ে সরাসরি তাদের কারখানা থেকে তথ্য সংগ্রহ করবে বলে জানা গেছে।
আরএম/জেডএস
