দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত সপ্তাহের ধারাবাহিকতায় নতুন সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার (২৬ জুলাই) নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। এদিন অধিকাংশ শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমায় পাশাপাশি সবগুলো মূল্যসূচক কমেছে। একইসঙ্গে ঢাকার এই শেয়ারবাজারে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রোববার ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার দেখা মিলে। তবে অল্প সময়ের ব্যবধানে দাম কমার তালিকায় চলে আসে বেশি প্রতিষ্ঠান। এতে সূচকও ঋণাত্মক হয়ে পড়ে। মাঝে আরেক দফা সূচক ঊর্ধ্বমুখী হলেও লেনদেনের শেষদিকে ঢালাও দরপতনে সবগুলো সূচক নিম্নমুখী হয়ে পড়ে।
দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১১৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ২৪০টির এবং ৩৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
দাম কমার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১৯ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৭৮৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৬ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১৮৬ পয়েন্টে নেমে গেছে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৫ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৭৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
মূল্য সূচক কমার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৭৮০ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৯৩৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে ১৫৮ কোটি ২৫ লাখ টাকা।
শেয়ারবাজারে টেকসই গতি ফেরাতে হলে শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তি প্রয়োজন বলে মনে করেন বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের অধ্যাপক আল আমিন। তার মতে, সম্প্রতি বাজারে যে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ছিল, তাতে কম দামে কেনা শেয়ার থেকে অনেকে মুনাফা তুলে নেওয়া শুরু করায় বিক্রয়চাপ তৈরি হয়েছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের চলমান বৈশ্বিক অস্থিরতাও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করছে, যার কারণে অনেকে সাময়িকভাবে সাইডলাইনে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
তবে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম মনে করেন, বাজারে ধস হওয়ার মতো কোনো সংকট তৈরি হয়নি। নতুন সরকার ও বর্তমান বিএসইসি কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর বাজারে যে ইতিবাচক জোয়ার তৈরি হয়েছিল, সাম্প্রতিক পতনটি মূলত তারই একটি স্বাভাবিক হিসাব-নিকাশ ও দর সংশোধন।
অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ১৪১ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ ২১৯ নেওয়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫৭টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৩৪টির এবং ২৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ২০ কোটি ১৩ লাখ টাকা।
এমএমএইচ/জেডএস
