বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বহিঃস্থ চাপের পরিবর্তে দেশের নিজস্ব অর্থনৈতিক বাস্তবতা অনুযায়ী নীতি প্রণয়ন ও নীতিগত স্বাধীনতা অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকরা।
রোববার (২ আগস্ট) পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআরআই) আয়োজিত 'উন্নয়ন কৌশল ও নীতিগত স্বাধীনতা : বাংলাদেশের উন্নয়ন পথপরিক্রমা' শীর্ষক এক ফায়ারসাইড আলোচনায় বক্তারা এই গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে ওয়েস্টার্ন সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য নীতিগত স্বাধীনতা বা স্বায়ত্তশাসন অপরিহার্য। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের নীতিগত স্বায়ত্তশাসন সংকুচিত হয়ে এসেছে এবং দেশীয় অগ্রাধিকারের চেয়ে বহিঃস্থ চাপের প্রভাবে সংস্কার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি ভিয়েতনাম ও দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনৈতিক সাফল্যের উদাহরণ টেনে বলেন, ওই দেশগুলোর সাফল্যের মূল কারণ ছিল তাদের স্বাধীন ও সামঞ্জস্যপূর্ণ নীতিনির্ধারণ।
পিআরআইর চেয়ারম্যান ড. জাইদী সাত্তার বলেন, নব্বইয়ের দশকের অর্থনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশ বাজার-ভিত্তিক উদার অর্থনীতির দিকে অগ্রসর হয়। তবে গত ৩০ বছরে অনেক সংস্কার তার প্রয়োজনীয় গভীরতা হারিয়েছে। ১৯৭০-এর দশকে বৈদেশিক সাহায্য জিডিপির ৬ শতাংশ ছিল, যা বর্তমানে ২ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে।
আলোচনায় অংশ নিয়ে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, প্রকৃত নীতিগত স্বাধীনতার জন্য বহিঃস্থ চাপ ও দেশীয় স্বার্থান্বেষী মহলের বিরুদ্ধে সহনশীলতা প্রয়োজন। যা শক্তিশালী সুশাসন ও সক্ষম সরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল।
সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান বলেন, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীরা এখন দেশের প্রেক্ষাপট বুঝে সম্পৃক্ত হওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। তাই বাংলাদেশের নিজস্ব দর-কষাকষির সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. একেএম ওয়ারেসুল করিম বর্তমান সরকারি ঋণ ও ব্যাংক খাতের ঝুঁকি মোকাবিলায় বিচক্ষণ রাজস্ব ব্যবস্থাপনার আহ্বান জানান।
এছাড়াও বিজিএমইএর সহ-সভাপতি মো. রেজওয়ান সেলিম শিক্ষার মান এবং মেধা পাচার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
আরএম/জেডএস
