আর্থিক সংকট মোকাবিলায় একীভূত হওয়া শরিয়াহভিত্তিক পাঁচ ব্যাংকের সার্বিক নিয়ন্ত্রণ বুঝে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় আরও এক ধাপ এগোলো নতুন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক। এক্সিম ব্যাংকের পর দ্বিতীয় ব্যাংক হিসেবে এবার সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক (এসআইবিএল) থেকে প্রশাসক প্রত্যাহার করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের।
এর আগে এক্সিম ব্যাংক থেকেও প্রশাসক সরিয়ে নেওয়া হয়। ফলে পাঁচ ব্যাংকের মধ্যে দুটি ব্যাংকের সার্বিক কার্যক্রম ও নিয়ন্ত্রণ আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের নতুন পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক থেকেও প্রশাসক সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং খুব দ্রুত বাকি ব্যাংকগুলো থেকেও পর্যায়ক্রমে প্রশাসক প্রত্যাহার করা হবে।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এক্সিম ব্যাংক ছিল ব্যাংক মালিকদের সংগঠন বিএবি’র সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের নিয়ন্ত্রণে। আর বাকি চারটি ব্যাংক-সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী ও ইউনিয়ন ব্যাংক ছিল চট্টগ্রামের বিতর্কিত এস আলম গ্রুপের দখলে। পরবর্তীতে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় তৈরি হওয়া আর্থিক বিপর্যয় সামাল দিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এ পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক একত্রিত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠন করে।
একীভূত এই ব্যাংকটি ৩৫ হাজার কোটি টাকার পরিশোধিত মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে। এর মধ্যে সরকার দিয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা এবং বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা আমানতকারীদের জমানো টাকার বিপরীতে শেয়ারে রূপান্তর করা হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ব্যাংকগুলো কাগজে-কলমে একীভূত হলেও প্রযুক্তিগত ও প্রক্রিয়াগত নানা জটিলতা এখনও বিদ্যমান। বিশেষ করে ব্যাংকগুলোর আইটি ব্যবস্থা পুরোপুরি একীভূত করার কাজ এখনও শেষ হয়নি। ফলে বর্তমানে ব্যাংকগুলোকে তাদের পুরোনো নামেই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিদেশের ব্যাংকে রক্ষিত ‘নস্ট্রো’ হিসাবের লেনদেন পরিচালনা করতে হচ্ছে। প্রযুক্তিগত এই সমন্বয় শেষ হলেই পাঁচ ব্যাংকের পৃথক পরিচিতি মুছে দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে একক নামে 'সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক' হিসেবে পূর্ণাঙ্গ পথচলা শুরু হবে। একই সঙ্গে গ্রাহকদের হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনতে শিগগিরই ব্যাংকটির পক্ষ থেকে নতুন নতুন আমানত ও ঋণ প্রকল্প চালু করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এসআই/বিআরইউ
