প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, দক্ষতা উন্নয়ন ও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার মাধ্যমে বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘চায়না-বাংলাদেশ সিরামিকস অ্যানুয়াল কনফারেন্স ২০২৬’।
বাংলাদেশ সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএমইএ) ও চীনের ফোশান ইউনিসেরামিকস এক্সপোর যৌথ আয়োজনে শনিবার (৮ আগস্ট) ঢাকার লেকশোর হোটেলে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
‘এমপাওয়ারিং টেকনোলজি, উইনিং টুমরো টুগেদার’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ সম্মেলনে আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও সিরামিক শিল্পের উদ্যোক্তারা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্যে বিসিএমইএর মহাসচিব ও ফার সিরামিকস লিমিটেডের পরিচালক ইরফান উদ্দিন বলেন, আধুনিক যুগে শিল্পের অগ্রগতি অংশীদারত্ব ও সহযোগিতার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। জ্ঞান বিনিময়, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে আরও শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক সিরামিক শিল্প গড়ে তুলতে হবে।
ইউনিসিরামিকস চীনের ওভারসিজ বিজনেস ডিপার্টমেন্টের ব্যবস্থাপক ইভা চ্যান বাংলাদেশের সিরামিক বাজারের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে মাথাপিছু সিরামিক পণ্যের ব্যবহার প্রায় এক বর্গমিটার, যেখানে চীনে সর্বোচ্চ ব্যবহার ছিল ৬ দশমিক ৯ বর্গমিটার। এ পরিসংখ্যান বাংলাদেশের বাজারে বড় প্রবৃদ্ধির সুযোগ নির্দেশ করে।
একই সঙ্গে মূল্যনির্ভর প্রতিযোগিতার পরিবর্তে মান, নকশা ও ব্র্যান্ডিংয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশ-চীন বাণিজ্যিক সম্পর্কের প্রসঙ্গে বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিসিসিসিআই) সভাপতি মোহাম্মদ খোরশেদ আলম বলেন, চীনা ব্যবসায়িক অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক- উভয় বাজারে নতুন সুযোগ তৈরি করা সম্ভব।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিসিএমইএর সভাপতি ও মন্নু গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান ময়নুল ইসলাম বলেন, এটি শুধু একটি সম্মেলন নয়, বরং দুই দেশের শিল্প খাতের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের একটি প্ল্যাটফর্ম। শিল্পের প্রবৃদ্ধির জন্য চীনের উৎপাদন দক্ষতা ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তি থেকে শিক্ষা নিতে হবে।
পাশাপাশি জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বৈদ্যুতিক কিলন ও হাইড্রোজেন-সমৃদ্ধ হিটিং সিস্টেমের মতো বিকল্প প্রযুক্তি ব্যবহারের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
আরএম/এমএসএ
