অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের পরিবেশ আরও প্রতিযোগিতামূলক ও ব্যবসাবান্ধব করতে নিরবচ্ছিন্ন পরিষেবা সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সার্ভিস চার্জ মওকুফের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা।
সেই সঙ্গে তারা জোনভুক্ত শিল্পে সমপরিমাণ নগদ প্রণোদনা, লিজ ট্যারিফের ওপর ভ্যাট প্রত্যাহার এবং প্রচ্ছন্ন রপ্তানিতে প্রশাসনিক জটিলতা দূর করার দাবি তুলেছেন। তাদের মতে, এসব সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ ও শিল্প উৎপাদনের সক্ষমতা আরও বাড়বে।
সোমবার (১০ আগস্ট) বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ ইকোনমিক জোনস ইনভেস্টরস অ্যাসোসিয়েশনের (বেজিয়া) মধ্যে এক দ্বিপক্ষীয় মতবিনিময় সভায় এ দাবি জানানো হয়।
রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত সভায় বেজিয়া প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন সংগঠনের সভাপতি এম এ জব্বার। সঙ্গে ছিলেন সহ-সভাপতি মো. হালিমুজ্জামান, পরিচালক দেলোয়ার এইচ টিটু, সিইও ড. অপরূপ চৌধুরী ও সদস্য মো. মুস্তাফিজুর রহমান। বিজিএমইএর পক্ষে বৈঠকে নেতৃত্ব দেন সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। আলোচনায় আরও অংশ নেন সংগঠনের সহ-সভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান।
সভায় সরকারের স্বল্পমেয়াদি অগ্রাধিকারের অংশ হিসেবে প্রথম ধাপে পুরোপুরি কার্যকর করার জন্য পাঁচটি সরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলের অনুকূলে বরাদ্দ প্লটগুলোর বর্তমান অগ্রগতি এবং বিনিয়োগকারীদের বিভিন্ন নীতিনির্ধারণী প্রতিবন্ধকতা নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।
বেজিয়া চেয়ারম্যান এম এ জব্বার জানান, বহু উদ্যোক্তা প্লটের জন্য বিশাল অঙ্কের অর্থ পরিশোধ করলেও অবকাঠামো ও পরিষেবা সুবিধার ধীরগতির কারণে আস্থাহীনতায় ভুগছেন। ফলে উল্লেখিত পাঁচটি জোনে ৩৯ হাজার একর জমির ওপর মাত্র ২৭টি প্রতিষ্ঠান উৎপাদনে রয়েছে। মোট বরাদ্দ জমির মাত্র ৩৭ শতাংশ বর্তমানে পরিচালনায় আছে। নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও শিল্প-পানির সংকট কাটিয়ে উঠতে এবং কারখানা পূর্ণাঙ্গভাবে সচল হওয়ার আগে অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ আরোপের বিরুদ্ধে যৌথ লবিংয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়।
বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে উভয় সংগঠন কয়েকটি মূল পলিসি ইস্যুতে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে যৌথভাবে তুলে ধরার ব্যাপারে একমত পোষণ করে।
সভায় জোর দাবি জানানো হয়, প্রতিশ্রুত নিরবচ্ছিন্ন পরিষেবা সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ব্যবহৃত পরিষেবা বিলের ওপর বেজা আরোপিত সার্ভিস চার্জ সম্পূর্ণ মওকুফ করতে হবে। অর্থনৈতিক অঞ্চলের বাইরের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমতা রক্ষার্থে জোনভুক্ত ইউনিট বিনিয়োগকারীদের জন্য খাতভিত্তিক সমপরিমাণ নগদ প্রণোদনার ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরি।
এছাড়া মাস্টার লিজ হোল্ডার এবং পরবর্তীতে সাব-লিজ গ্রহীতা উভয় স্তরে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট পরিশোধের বাধ্যবাধকতা অর্থাৎ দ্বৈত করারোপ দূর করে লিজ ট্যারিফের ওপর ভ্যাট সম্পূর্ণ মওকুফ করার দাবি জানানো হয়। দেশীয় বন্ড-লাইসেন্সধারী রপ্তানিকারকদের কাছে প্রচ্ছন্ন রপ্তানির ক্ষেত্রে প্রশাসনিক জটিলতা ও বাড়তি সময় অপচয় রোধে প্রচ্ছন্ন রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতির বিষয়টির ওপর বিশেষভাবে জোর দেওয়া হয়।
এছাড়া সভায় ৯৯ বছরের লিজ মিউটেশন ব্যাংকযোগ্য করা, ওয়ান-স্টপ সার্ভিস কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
এম এ জব্বার বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলায় অবস্থিত জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিজিএমইএর ৪১টি ইউনিট ইনভেস্টর রয়েছে। ফলে গার্মেন্টস খাতের জাতীয় ও নীতিগত বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিজিএমইএ ও বেজিয়ার একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ ও যৌক্তিকতা রয়েছে।
এই পরিপ্রেক্ষিত বিবেচনায় রেখে, অর্থনৈতিক অঞ্চলে টেকসই শিল্পায়ন নিশ্চিত করা ও উভয় সংগঠনের পারস্পরিক সমন্বয়কে আরও সুসংহত করার লক্ষ্যে বেজিয়া চেয়ারম্যান বিজিয়ার পরিচালনা বোর্ডে বিজিএমইএর প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করার আন্তরিক আহ্বান জানান। বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে এতে সম্মতি প্রকাশ করেন এবং দ্রুততার সঙ্গে বিজিএমইএর পক্ষ থেকে যোগ্য প্রতিনিধি মনোনীত করার প্রতিশ্রুতি দেন।
বৈঠকের সমাপনীতে দুই সংগঠনের শীর্ষ নেতারা দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন, বিজিএমইএ ও বেজিয়ার এই সুদূরপ্রসারী যৌথ পলিসি অ্যাডভোকেসি বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষকে (বেজা) অবকাঠামোগত চ্যালেঞ্জ ও নীতিগত জটিলতা নিরসনে দ্রুত ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করবে।
এমএমএইচ/জেডএস
