বিজ্ঞাপন

বাংলা কিউআরে লেনদেন খরচ কমাতে ১০০ কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল গঠন

বাংলা কিউআরে লেনদেন খরচ কমাতে ১০০ কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল গঠন

ক্যাশলেস লেনদেনকে দেশের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে দিতে এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করতে ১০০ কোটি টাকার এক বিশেষ প্রণোদনা তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামী ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই সিদ্ধান্তের ফলে ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোর খরচ কমার পাশাপাশি, বাংলা কিউআর ব্যবহারে আরও স্বস্তি পাবেন প্রান্তিক বিক্রেতারা।

সোমবার (১০ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ৪৫১তম সভায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলা কিউআর লেনদেন সম্প্রসারণের লক্ষ্যে এই প্রণোদনা বাজেট অনুমোদন পায়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, ব্যক্তিপর্যায়ে নিবন্ধিত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক বিক্রেতা এবং সেবা প্রদানকারীদের দোকানে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেনের ক্ষেত্রে এই তহবিল থেকে প্রণোদনা দেওয়া হবে। এর ফলে যে প্রতিষ্ঠান মার্চেন্ট পয়েন্টে কিউআর কোড স্থাপন করবে অর্থাৎ একুয়ারিং প্রতিষ্ঠান, তারা পাবে লেনদেনের ০ দশমিক ১০ শতাংশ প্রণোদনা।

অন্যদিকে গ্রাহক যে ব্যাংক বা এমএফএস অ্যাপের মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করবেন, সেই ইস্যুয়িং প্রতিষ্ঠান পাবে লেনদেনের ০ দশমিক ২০ শতাংশ প্রণোদনা।

দেশে ক্যাশলেস পেমেন্ট বাড়াতে বাংলা কিউআর বেশ কার্যকর হলেও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা এতে খুব একটা আগ্রহ দেখাতেন না। কারণ, তাদের লাভের পরিমাণ কম হওয়ায় ১ থেকে ১ দশমিক ১৫ শতাংশ লেনদেন মাশুলকে বাড়তি খরচ মনে করতেন। ফলে তারা ডিজিটাল মাধ্যমের চেয়ে নগদ টাকা লেনদেনে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন। মূলত, ব্যবসায়ীদের এই আর্থিক চাপ কমাতে এবং একটি শক্তিশালী ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা গড়ে তুলতেই বাংলাদেশ ব্যাংক এই সহায়তার পদক্ষেপ নিয়েছে।

এ ছাড়া, অন্য এক প্রজ্ঞাপনে ‘ইন্টারচেঞ্জ রেইম্বার্সমেন্ট ফি’ পুরোপুরি তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগে লেনদেনের ১ থেকে ১ দশমিক ১৫ শতাংশ মাশুলের একটা বড় অংশ (০ দশমিক ৩৫ থেকে ০ দশমিক ৭০ শতাংশ) গ্রাহকের ব্যাংক বা এমএফএস প্রতিষ্ঠানকে দিতে হতো। ফলে কিউআর কোড বসানো প্রতিষ্ঠানগুলো চাইলেও ব্যবসায়ীদের খরচ কমাতে পারত না। এখন এই ফি শূন্য করায় ব্যবসায়ীদের মাশুল অনেকটাই কমে আসবে।

তবে এই সুবিধার অপব্যবহার রুখতে কঠোর শর্ত দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট বলা হয়েছে, বেশি প্রণোদনা পেতে বড় কোনো লেনদেনকে ভেঙে একাধিক ছোট লেনদেনে রূপান্তর করা যাবে না। এ ছাড়া, যেসব লেনদেন ব্যর্থ, ফেরত, কিংবা বিরোধপূর্ণ হবে, সেগুলোতে কোনো প্রণোদনা মিলবে না।

এসআই/এসএএস

বিজ্ঞাপন