বিজ্ঞাপন

স্পেকট্রামের দাম নির্ধারণে ‘স্বচ্ছ ও পরীক্ষাযোগ্য’ কাঠামোর প্রস্তাব

স্পেকট্রামের দাম নির্ধারণে ‘স্বচ্ছ ও পরীক্ষাযোগ্য’ কাঠামোর প্রস্তাব

মোবাইল অপারেটরদের জন্য স্পেকট্রামের মূল্য নির্ধারণে ‘স্বচ্ছ ও পরীক্ষাযোগ্য’ একটি কাঠামো প্রণয়নের প্রস্তাব দিয়েছেন টেলিকম বিশেষজ্ঞ মুনির হাসান। 

তার মতে, স্পেকট্রামের অর্থনৈতিক মূল্য নির্ধারণে নেটওয়ার্ক অর্থনীতি, ব্যবসায়িক মূল্য ও আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনামূলক বিশ্লেষণ পদ্ধতির সমন্বয় করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অপারেটরদের আর্থিক সক্ষমতা, বাজারে প্রতিযোগিতা এবং সরকারের নীতিগত লক্ষ্য বিবেচনায় নিয়ে মূল্য নির্ধারণের ভিত্তি জনসম্মুখে প্রকাশ করা উচিত।

শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ের হলিডে ইন হোটেলে টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (টিআরএনবি) আয়োজিত ‘স্পেকট্রাম ফর এ কানেক্টেড বাংলাদেশ : এনাবলিং ইন্টারনেট ফর অল’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন তিনি। 

বিভিন্ন সময়ে দেশে স্পেকট্রাম বিক্রির মূল্য, নিলামে অপারেটরদের অংশগ্রহণ এবং ২০২৬ সালের ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের নিলাম বিশ্লেষণ করে মুনির হাসান বলেন, মুদ্রার বিনিময় হার ওঠানামার কারণে স্পেকট্রামের মূল্য সমন্বয়ের প্রয়োজন হয়েছিল। অপারেটরদের ব্যবসা টেকসই রাখতে ২০২৪ সালে ডলারের মূল্যের সঙ্গে সরাসরি মিল না রেখে টাকার অঙ্কে মূল্য সমন্বয় করা হয়। তবে ২০২৬ সালের ৭০০ মেগাহার্টজ নিলামে মাত্র একজন দরদাতা অংশ নেন। ফলে শেষ পর্যন্ত রিজার্ভ প্রাইসেই স্পেকট্রাম বিক্রি হয়।

তিনি উপস্থাপনায় দেখান, ২০১৩ সালে ২১০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের মূল্য ছিল প্রতি মেগাহার্টজ ২০ লাখ মার্কিন ডলার। ২০২৬ সালে ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের মূল্য ডলারের হিসাবে প্রায় ওই পর্যায়ে পৌঁছায়। অথচ দুই ব্যান্ডের বৈশিষ্ট্য, ব্যবহার, কভারেজ ও নেটওয়ার্কে ভূমিকা এক নয়। টাকার হিসাবে ২০২৬ সালের ৭০০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রামের দাম ছিল প্রায় ২৩৭ কোটি টাকা, যা ২০১৮ সালে ৯০০ ও ১৮০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের নির্ধারিত দামের কাছাকাছি।

মুনির হাসান বলেন, বিভিন্ন ব্যান্ডের মূল্য নির্ধারণে কোন বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে এবং কীভাবে সেগুলো মূল্যায়ন করা হয়েছে, সে বিষয়ে প্রকাশ্য ও বিশ্লেষণভিত্তিক নথি থাকা প্রয়োজন। ২০১৮ সালে ৯০০ ও ১৮০০ মেগাহার্টজের দাম একই হওয়ার পেছনের যুক্তি যেমন স্পষ্ট হওয়া দরকার, তেমনি ২০২৬ সালে ৭০০ মেগাহার্টজের দাম কেন ২০১৩ সালের ২১০০ মেগাহার্টজের কাছাকাছি হলো, সেটিও ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন।

বিভিন্ন বছরের নিলাম বিশ্লেষণ করে তিনি বলেন, ২০১৮ সালে অফার করা স্পেকট্রামের মাত্র ৩৩ শতাংশ বিক্রি হয়েছিল। বিপরীতে ২০২১ সালের নিলামে উল্লেখযোগ্য প্রতিযোগিতা ছিল। ২১০০ মেগাহার্টজের একটি ৫ মেগাহার্টজ ব্লকের দাম রিজার্ভ প্রাইসের তুলনায় ৭০ শতাংশের বেশি বেড়ে যায়। একই নিলামে ২৩০০ ও ২৬০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ স্পেকট্রাম বিক্রি হয়। ২০০ মেগাহার্টজের বেশি স্পেকট্রাম অফার করা হলেও অপারেটররা প্রায় ১৯০ মেগাহার্টজ কিনেছিলেন।

তিনি আরও বলেন, কোনো একটি পদ্ধতিই এককভাবে সঠিক মূল্য দিতে পারে না। তিন পদ্ধতি থেকে পাওয়া মূল্যসীমা সমন্বয় করে অর্থনৈতিক মূল্যসীমা নির্ধারণের পর সেটি অপারেটরদের আর্থিক সক্ষমতা ও নেটওয়ার্ক বিনিয়োগের ওপর কী প্রভাব ফেলবে, তা যাচাই করা প্রয়োজন।

টিআরএনবি সভাপতি এস এম মাসুদুজ্জামান রবিনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসাইনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। 

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. এমদাদ উল বারী (অব.), এমটব সভাপতি ও রবির সিইও জিয়াদ সাতারা, গ্রামীণফোনের সিইও ইয়াসির আজমান, বাংলালিংকের সিইও ইওহান বুসে, টেলিকম বিশেষজ্ঞ নূরুল কবির ও এমটব মহাসচিব মো. জুলফিকারসহ সংশ্লিষ্টরা।

আরএইচটি/আরএফ

বিজ্ঞাপন