গত সপ্তাহে (৯-১৩ আগস্ট) দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকে ছিল মিশ্রভাব দেখা গেছে। একইসঙ্গে লেনদেনেও গতি ছিল কম। কমলেও তবে পুরো সপ্তাহজুড়ে দাম বাড়া এবং কমা- উভয় ক্ষেত্রেই দাপট দেখিয়েছে দুর্বল বা ‘জেড’ গ্রুপের কোম্পানিগুলো।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬টিই ছিল 'জেড' গ্রুপের, যার মধ্যে প্রথম তিনটি স্থানই এই গ্রুপের দখলে। আবার দরপতনের ক্ষেত্রেও আধিপত্য বজায় রেখে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের ৮টিই দখল করেছে একই গ্রুপের প্রতিষ্ঠানগুলো।
সাধারণত নিয়মিত লভ্যাংশ না দেওয়া এবং আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশে ব্যর্থ কোম্পানিগুলোকে শেয়ারবাজারে ‘জেড’ গ্রুপ বা পচা কোম্পানি হিসেবে গণ্য করা হয়। গত সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ২০৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর কমেছে, বিপরীতে বেড়েছে ১৬২টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ১৭টির দর। দরপতনের পাল্লা ভারী হওয়ায় সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর মূলধন ২৯৯ কোটি টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৭ হাজার ৬১৫ কোটি টাকায়। পাশাপাশি দৈনিক গড় লেনদেন ১৫.৫৯ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৯৯৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকায়। তবে এসবের মাঝেও প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২২.৯৫ পয়েন্ট বা ০.৩৯ শতাংশ বেড়েছে।
গত সপ্তাহে দর বৃদ্ধির শীর্ষে থাকা জেড গ্রুপের প্রতিষ্ঠান তুং হাই নিটিংয়ের শেয়ার দাম এক সপ্তাহে সর্বোচ্চ ৫২.৭৮ শতাংশ বেড়েছে। ২০১৬ সালের পর লভ্যাংশ না দেওয়া এবং ২০২৩ সালের মার্চের পর আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ না করা এই কোম্পানিটির বাজার মূলধন এক সপ্তাহেই ২০ কোটি ২৬ লাখ টাকা বৃদ্ধি পায়। দর বৃদ্ধির তালিকায় থাকা অন্য দুই জেড গ্রুপের প্রতিষ্ঠান জিবিবি পাওয়ারের শেয়ার দাম বেড়েছে ২৬.৬৭ শতাংশ এবং নূরানী ডাইংয়ের বেড়েছে ২৫.৮১ শতাংশ। এছাড়া দাম বাড়ার শীর্ষ তালিকায় আরও ছিল সেনা ইন্স্যুরেন্স, এনআরবিসি ব্যাংক, বাংলাদেশ ল্যাম্প, মেট্রো স্পিনিং, সিএনএ টেক্সটাইল, রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্স এবং বেক্সিমকো লিমিটেড।
অন্যদিকে, দরপতনের শীর্ষ স্থানটিও ছিল জেড গ্রুপের দখলে। সপ্তাহজুড়ে সবচেয়ে বেশি ২০.৮৩ শতাংশ দর হারিয়েছে পিপলস লিজিং। এর পরপরই পতনের শীর্ষ তালিকায় ধারাবাহিকভাবে জায়গা করে নেয় প্রিমিয়ার লিজিং, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, প্রাইম ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স, এফএএস ফাইন্যান্স এবং বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স। পতনের শীর্ষ ১০-এ থাকা বাকি দুটি প্রতিষ্ঠান ছিল সিএপিএম বিডিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড ও সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স।
মন্দাভাব ও দরপতনের মধ্যেও সপ্তাহে টাকার অঙ্কে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়ে শীর্ষে ছিল বেক্সিমকো লিমিটেড, যার শেয়ার প্রতিদিন গড়ে ৩৬ কোটি ৬৭ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে। এছাড়া শীর্ষ লেনদেনের তালিকায় ছিল শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ, মালেক স্পিনিং, সায়হাম টেক্সটাইল, এমএল ডাইং, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট, ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং, ব্র্যাক ব্যাংক, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস এবং প্রাইম ইন্স্যুরেন্স।
এমএমএইচ/বিআরইউ
