বাংলাদেশে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালুর জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম সাইফুর রহমান মজুমদার।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালু হলে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন বৈচিত্র্য আসবে। একই সঙ্গে পণ্যের মূল্য-অস্থিরতা ব্যবস্থাপনা, ব্যবসায়িক ঝুঁকি কমানো এবং দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে এ বাজার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের এমএস ট্রেড সেন্টারে ‘কমোডিটি এক্সচেঞ্জের কার্যক্রম, সুবিধা ও ব্যবসায়িক সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে তিনি এসব কথা বলেছেন। খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সহযোগিতায় সেমিনারটির আয়োজন করে সিএসই।
সাইফুর রহমান মজুমদার বলেন, বাংলাদেশের আর্থিক কাঠামোয় একটি কার্যকর কমোডিটি মার্কেট অত্যাবশ্যকীয়। প্রতিবেশী ভারত, পাকিস্তান এমনকি মিয়ানমারেও কমোডিটি এক্সচেঞ্জ রয়েছে। বাংলাদেশে এ বাজার চালু হলে বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং বিদ্যমান আর্থিক বাজার কাঠামোয় নতুন মাত্রা যোগ হবে।
তার মতে, একটি মানসম্মত কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালু হলে পণ্যের মূল্য-অস্থিরতা ব্যবস্থাপনার সুযোগ তৈরি হবে। এতে ব্যবসায়ীরা ভবিষ্যৎ মূল্য ঝুঁকি মোকাবিলায় কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারবেন। পাশাপাশি সামষ্টিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার এবং দেশের জিডিপিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার সম্ভাবনা রয়েছে।
সিএসইর এমডি আরো বলেন, কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালুর জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। মার্কেট ইকোসিস্টেমের বিভিন্ন অংশের প্রস্তুতিও এগিয়ে চলছে। বাজারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীজন, ব্যবসায়ী ও অন্যান্য অংশগ্রহণকারীদের প্রস্তুত করতে সিএসই নিয়মিত সেমিনার, কর্মশালা ও প্রশিক্ষণের আয়োজন করছে।
সেমিনারে সিএসইর পরিচালক মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলাম বলেন, গত তিন বছর ধরে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করছে সিএসই। প্রয়োজনীয় আইন ও বিধিবিধান প্রণয়ন এবং লেনদেন পরিচালনার প্রযুক্তিগত প্ল্যাটফর্ম প্রস্তুত হয়েছে। বর্তমানে বাজারের অংশগ্রহণকারীদের প্রস্তুতির কাজ চলছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সহযোগিতা পেলে দ্রুতই এ নতুন এক্সচেঞ্জের যাত্রা শুরু হবে।
সেমিনারে খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ আব্দুস সালাম বলেন, কার্যকর কমোডিটি মার্কেট চালু হলে স্পট মার্কেটে বিদ্যমান বিভিন্ন ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে। এ বিষয়ে আমরা সিএসইর সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। কমোডিটি মার্কেট সম্পর্কে ব্যবসায়ীদের ধারণা বাড়াতে আরও প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি আয়োজন খুবই জরুরি।
এমএমএইচ/বিআরইউ
