বিজ্ঞাপন

হাজি আহমদ ব্রাদার্স সিকিউরিটিজকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা

হাজি আহমদ ব্রাদার্স সিকিউরিটিজকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা

গ্রাহকদের সমন্বিত গ্রাহক হিসাবে (সিসিএ) বড় ধরনের তহবিল ঘাটতি রাখা এবং সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের দায়ে পুঁজিবাজারের ব্রোকারেজ হাউজ হাজি আহমদ ব্রাদার্স সিকিউরিটিজ লিমিটেডকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

সম্প্রতি বিএসইসির এনফোর্সমেন্ট বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করা হয়েছে।

বিএসইসির আদেশে বলা হয়েছে, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিদর্শন দলের প্রতিবেদনে হাজি আহমদ ব্রাদার্স সিকিউরিটিজের পরিচালনায় বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ অনিয়ম ও আইন লঙ্ঘন পরিলক্ষিত হয়। এর মধ্যে গ্রাহকের সমন্বিত হিসাবে (সিসিএ) ঘাটতি অন্যতম।

পরিদর্শন শেষে দেখা যায়, ২০২২ সালের ১৩ জুনের তথ্য অনুযায়ী ব্রোকারেজ হাউজটির সিসিএ হিসাবে ২ কোটি ৯ লাখ ৫০ হাজার ৬৮২ টাকার ঘাটতি ছিল। এছাড়া ২০২৪ সালের জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের একাধিক তারিখেও হিসাবটিতে ঋণাত্মক ব্যালান্স বা ঘাটতি বজায় ছিল। এটি সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ রুলস, ২০২০-এর বিধি ৬(১) ও ৬(৫)-এর স্পষ্ট লঙ্ঘন।

সিসিএ হিসাব থেকে নগদ অর্থ উত্তোলনের বিষয়টিও পরিদর্শনে উঠে এসেছে। সিটি ব্যাংকে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানটির সমন্বিত গ্রাহক হিসাব থেকে সরাসরি নগদ উত্তোলন করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী গ্রাহকদের সব লেনদেন কেবল অ্যাকাউন্ট পেয়ি চেক বা ব্যাংকিং চ্যানেলে হওয়ার বিধান থাকলেও তা অমান্য করা হয়েছে। 

এছাড়া বিএসইসির ২০১৯ সালের একটি সার্কুলার অমান্য করে একই মোবাইল নম্বর, ই-মেইল ঠিকানা ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে একাধিক বিও অ্যাকাউন্ট খোলা ও পরিচালনা করা হয়েছে।

বিএসইসির শুনানিতে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সফটওয়্যার পরিবর্তন ও সুদের হিসাবসংক্রান্ত ব্যাখ্যার পার্থক্যের কারণে ঘাটতি তৈরি হয়েছিল, যা পরে ডিএসইর দিকনির্দেশনা মেনে সিসিএ অ্যাকাউন্টে ৩০ লাখ টাকা স্থানান্তরের মাধ্যমে নিয়মিত করা হয়েছে। পাশাপাশি নগদ উত্তোলন ও তথ্যের অনিয়মের বিষয়ে পরিচালনা পর্ষদের পুরোনো কাঠামোর দায় এবং তথ্য হালনাগাদ প্রক্রিয়ার যুক্তি দেওয়া হয়।

কমিশন তাদের এসব ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য মনে করেনি। বিএসইসি উল্লেখ করে, ইচ্ছাকৃতভাবে সিকিউরিটিজ আইন ভঙ্গ করায় পুঁজিবাজারের সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আইন অনুযায়ী, আদেশ জারির ৩০ দিনের মধ্যে জরিমানার অর্থ বিএসইসির অনুকূলে ব্যাংক ড্রাফট বা পে-অর্ডারের মাধ্যমে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, অন্যথায় পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এমএমএইচ/জেআই