জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবিকৃত মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট পুরোপুরি পরিশোধ করার পরও মূল টাকার চেয়ে বেশি পরিমাণ সুদ দাবি করার অভিযোগ উঠেছে।
প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকার অসামঞ্জস্যপূর্ণ সুদ বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে তা পুনর্বিবেচনার জন্য চিঠি দিয়েছে পূবালী ব্যাংক পিএলসি। সম্প্রতি এনবিআরের সদস্য (মূসক নীতি) বরাবর পাঠানো এক চিঠির সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
শনিবার (২২ আগস্ট) এনবিআরের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা বিষয়টি জানিয়েছেন।
চিঠির সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সময়ে অনাবাসী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের রেমিট্যান্স থেকে সংগৃহীত ভ্যাট ইস্যুতে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেলের (সিআইসি) অডিটে দাবিকৃত ২ কোটি ৬৯ লাখ ৮৩ হাজার ৭৯৯ টাকা ইতোমধ্যে ই-চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। তবে মূল ভ্যাট পরিশোধ করা হলেও মূসক কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ অনায্যভাবে দীর্ঘ ৯৬ মাসের (৮ বছর) হিসাব টেনে ৩ কোটি ২২ লাখ ৮৬ হাজার ৪৮০ টাকা অতিরিক্ত সুদ দাবি করেছে। যা মূল বকেয়া টাকার চেয়েও অনেক বেশি বলে মনে করছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
চিঠিতে পূবালী ব্যাংক উল্লেখ করে, মূসক কর্তৃপক্ষের নিজস্ব প্রশাসনিক বিলম্ব ও অব্যবস্থাপনার কারণে এই দীর্ঘ সময়ক্ষেপণ হয়েছে। এর দায়ভার ব্যাংকের ওপর চাপিয়ে অহেতুক বিপুল অঙ্কের সুদ দাবি করা যৌক্তিক নয়।
মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ এর নতুন ধারা ১৭৭ক এবং অর্থ আইন-২০২৩-এর বিধান তুলে ধরে তারা জানায়, আইনি নিয়ম অনুযায়ী বকেয়া রাজস্বের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২৪ মাসের সরল সুদ আরোপের সুযোগ রয়েছে।
এ কারণে সরকারের রাজস্ব আহরণে নিজস্ব ভূমিকার কথা উল্লেখ করে পূবালী ব্যাংক আশা প্রকাশ করেছে, এনবিআর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে আইনানুগ ও ন্যায়সংগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
আরএম/এসএএস
