চট্টগ্রাম বন্দরের দীর্ঘদিন ধরে খালাস না নেওয়া পণ্য ও নিলামযোগ্য ৪৪২ কনটেইনার পণ্য ই-নিলামের মাধ্যমে বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস। বন্দরের কর্মক্ষমতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি, কনটেইনার জট নিরসন এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধে নিয়মিত নিলাম কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানিয়েছে, আগস্ট ২০২৬ মাসের নিলাম কার্যক্রমে দুটি ই-অকশনের মাধ্যমে এসব পণ্য বিক্রি করা হবে। এর মধ্যে বিশেষ ই-অকশন নম্বর-১০/২০২৬-এর আওতায় ১০১টি লটে রয়েছে ২৯০টি কনটেইনার পণ্য।
এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল, যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ, প্লাস্টিক ওয়েস্টেজ (স্ক্র্যাপ), চেস্ট ফ্রিজার, পাইপ, সুতা, কাপড়, সোলার মডিউল, লবণ, কাগজ, টাইলস, গৃহস্থালি পণ্য এবং পুরোনো খালি কনটেইনার।
অন্যদিকে ই-অকশন নম্বর-০৯/২০২৬-এর আওতায় ১০৯টি লটে ১৫২টি কনটেইনার পণ্য নিলামে বিক্রি করা হবে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ক্যাপিটাল মেশিনারিজ, ফেব্রিক্স, পিভিসি ফ্লেক্স ব্যানার, কেমিক্যাল, এসির যন্ত্রাংশ, স্টেইনলেস স্টিল কয়েল, স্ক্যানার, ব্যাডমিন্টন র্যাকেট, এলিভেটরসহ বিভিন্ন সামগ্রী।
এনবিআর জানিয়েছে, নিলাম কার্যক্রম সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে। আগ্রহী ক্রেতারা বাংলাদেশ কাস্টমসের ই-অকশন পোর্টালে নিবন্ধনের মাধ্যমে অনলাইনে দরপত্র জমা দিতে পারবেন।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ই-অকশন নম্বর-০৯/২০২৬-এর পণ্য ৩০ আগস্ট থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর এবং বিশেষ ই-অকশন নম্বর-১০/২০২৬-এর পণ্য ৩০ আগস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরেজমিনে পরিদর্শনের সুযোগ থাকবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে দরপত্র জমা দিতে হবে।
কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রযুক্তিনির্ভর এ নিলাম কার্যক্রমের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, কনটেইনার ব্যবস্থাপনা সহজীকরণ এবং জাতীয় সম্পদের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত হবে।
চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার মো. আবু সুফিয়ান বলেন, বন্দরে দীর্ঘদিন পড়ে থাকা নিলামযোগ্য পণ্য দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে কনটেইনার জট কমানো এবং বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম গতিশীল রাখাই আমাদের লক্ষ্য। ই-অকশন ব্যবস্থার মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হচ্ছে। আগ্রহী ক্রেতারা নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে অনলাইনে অংশ নিতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর এই নিলাম কার্যক্রমের ফলে বন্দরের জায়গার কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত হবে এবং সরকারি রাজস্ব আহরণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এসএম
