পুঁজিবাজারে আতঙ্ক সৃষ্টি করে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের শেয়ার হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদ (বিসিআইএ) সভাপতি কাজী মো. নজরুল।
মঙ্গলবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সামনে পুঁজিবাজারের অব্যাহত দরপতনের প্রতিবাদে আয়োজিত এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।
কাজী মো. নজরুল বলেন, পুঁজিবাজারের দেখভাল ও বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষার দায়িত্ব নিয়ন্ত্রক সংস্থার। কিন্তু বর্তমানে যেভাবে বাজার তদারকি করা হচ্ছে, তাতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হচ্ছে। এই আতঙ্কের সুযোগ নিয়ে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের শেয়ার হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, আমরা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করে বাজারের মনিটরিং জোরদার করার দাবি জানিয়েছিলাম। যাতে কোনো পক্ষ বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কিত করে তাদের শেয়ার কম দামে হাতিয়ে নিতে না পারে।
পুঁজিবাজারের বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, একসময় দৈনিক ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেন হলেও এখন বাজারের লেনদেন ও সার্বিক কার্যক্রম আশঙ্কাজনক পর্যায়ে নেমে এসেছে। বাজারে স্বাভাবিক সংশোধন হতে পারে, কিন্তু বর্তমানে যে ধরনের পতন দেখা যাচ্ছে, তা স্বাভাবিক নয়।
বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে কাজী মো. নজরুল বলেন, ২০১০ সালের পর থেকে পুঁজিবাজারের ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অনেক বিনিয়োগকারী সর্বস্ব হারিয়ে চরম হতাশায় পড়েছেন। ভবিষ্যতে যেন এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না হয়, সেজন্য সরকারকে এখনই বাজারের দিকে নজর দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, পুঁজিবাজারকে বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি হিসেবে দাঁড় করাতে হলে সরকারের উচ্চপর্যায়ের নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে শক্ত হাতে বাজার তদারকি করতে হবে।
কাজী মো. নজরুল বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক বা অন্য কোনো সংস্থা বাজার-সংশ্লিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চাইলে বিএসইসির সঙ্গে সমন্বয় করে তা করতে হবে। পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিএসইসির নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে বিনিয়োগকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। একসময় প্রায় ৩৩ লাখ বিনিয়োগকারী থাকলেও বর্তমানে সেই সংখ্যা ১৫ লাখের কাছাকাছি নেমে এসেছে কি না, তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।
মানববন্ধনে বিনিয়োগকারীরা পুঁজিবাজারে অস্বাভাবিক দরপতন বন্ধ, বাজারে আতঙ্ক সৃষ্টি করে শেয়ার হাতিয়ে নেওয়া বন্ধ এবং ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষার দাবি জানান।
বিসিআইএ সভাপতি বলেন, বিনিয়োগকারীদের যেন তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য বারবার রাস্তায় নামতে না হয়, সে ব্যবস্থা সরকারকেই করতে হবে। পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সরকারের অবস্থান ও করণীয় দ্রুত স্পষ্ট করার দাবি জানান তিনি।
মানববন্ধন শেষে পরবর্তী কর্মসূচি পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ঘোষণা করা হবে বলে জানান বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের নেতারা।
এমএমএইচ/এমএন
