বিজ্ঞাপন

সম্পদ বেচে মেটানো হবে গ্রাহকের পাওনা

ফারইস্ট-বায়রাসহ ৭ বিমা কোম্পানির টাকা ফেরত শুরু আগামী সপ্তাহে

ফারইস্ট-বায়রাসহ ৭ বিমা কোম্পানির টাকা ফেরত শুরু আগামী সপ্তাহে

অনিয়মে জড়িয়ে পড়া ও সংকটাপন্ন বিমা কোম্পানিগুলোর জমি ও সম্পত্তি বিক্রি করে গ্রাহকদের আটকে থাকা পাওনা মেটানোর কার্যক্রম শুরু হচ্ছে আগামী সপ্তাহ থেকেই।

প্রথম ধাপে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ, বায়রা ও গোল্ডেন লাইফসহ প্রায় ৭-৮টি দুর্বল কোম্পানিকে এই প্রক্রিয়ার আওতায় এনেছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। এসব কোম্পানির জমি বিক্রি, ট্রেজারি বন্ড ও স্থায়ী আমানত নগদায়নের অর্থ জমা রাখা হয়েছে আইডিআরএ-র কড়া তদারকিতে থাকা পৃথক ব্যাংক হিসাবে; সেখান থেকেই ‘আগে আবেদন, আগে পরিশোধ’ নীতিতে সরাসরি গ্রাহকদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে তাদের পাওনা টাকা। 

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) কুমিল্লার বার্ডে ইন্স্যুরেন্স রিপোর্টার্স ফোরামের (আইআরএফ) কর্মশালায় বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান।

বিমা খাতের তথ্যে স্বচ্ছতা ফেরাতে তথাকথিত দ্বৈত বা গোপন সার্ভার ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে আইডিআরএ প্রধান জানান, কোম্পানিগুলো যদি গ্যারেজে বা বিছানার নিচেও সার্ভার লুকিয়ে রাখে, প্রযুক্তিগত নিরীক্ষার মাধ্যমে তা খুঁজে বের করা হবে। আগামী ছয় সপ্তাহের মধ্যে এসব গোপন বা অতিরিক্ত সার্ভার সরিয়ে তথ্য একীভূত না করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একইসঙ্গে বিমা খাতের ডিজিটাল রূপান্তরে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের প্রথম ‘ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি’ ব্যবস্থা, আগামী চার মাসের মধ্যে ব্যাংকের মতো অভিন্ন ‘ইউনিক পলিসি আইডি’ এবং ব্যাংকে এলসি খোলার আগে আইডিআরএ-র সিস্টেমে কভার নোট অনলাইনে যাচাই করার বাধ্যতামূলক নিয়ম চালু করা হচ্ছে।

বিমা খাতের দুর্নীতি ও তথ্য গোপন বন্ধে বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং বিএসইসির সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার পরিকল্পনার কথা জানান চেয়ারম্যান। ঘুষ লেনদেনের ক্ষেত্রে পুরোপুরি জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণার পাশাপাশি তিনি বলেন, কোনো কর্মকর্তা ঘুষ চাইলে বা কোনো কোম্পানি দেওয়ার চেষ্টা করলে সতর্ক না করে সরাসরি মামলা দেওয়া হবে।

মাত্র ১৫০ জন জনবল নিয়ে ৮২টি কোম্পানি তদারকি করার সীমাবদ্ধতা থাকলেও যেকোনো মূল্যে পলিসিহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষা ও বিমা খাতের ওপর মানুষের হারিয়ে যাওয়া আস্থা ফিরিয়ে আনতে আইডিআরএ শক্ত অবস্থানে থাকবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা কাজীম উদ্দিন বলেন, সময়মতো গ্রাহকের বিমা দাবি পরিশোধ না করাই এই শিল্পের ওপর থেকে বিশ্বাস হারানোর প্রধান কারণ। কয়েকটি ব্যর্থ কোম্পানির কারণে পুরো খাতের ভাবমূর্তি যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে জন্য নির্ধারিত সময়ে বা মেয়াদের দিনেই গ্রাহকের ব্যাংক হিসাবে বা ঘরে টাকা পৌঁছে দেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি। 

আইডিআরএ, বিমা কোম্পানি ও গণমাধ্যমের যৌথ প্রচেষ্টায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশের বিমা শিল্প দ্রুত ঘুরে দাঁড়াবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এসআই/এমএসএ 

বিজ্ঞাপন