বিজ্ঞাপন

শিগগিরই আমাদের আগামী বছরের স্ট্র্যাটেজি শেয়ার করব : নুজহাত আনোয়ার

শিগগিরই আমাদের আগামী বছরের স্ট্র্যাটেজি শেয়ার করব : নুজহাত আনোয়ার

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নুজহাত আনোয়ার। তিনি বলেছেন, ‘আশা করছি, খুব শিগগিরই আমরা আপনাদের সঙ্গে আগামী বছরের জন্য আমাদের যে স্ট্র্যাটেজি তৈরি করেছি, সেটিও শেয়ার করতে পারব।’

সোমবার (৩১ আগস্ট) রাজধানীর নিকুঞ্জ-২ এলাকায় ডিএসই টাওয়ারে ‘বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের বর্তমান অবস্থা, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক এক উন্মুক্ত আলোচনায় এ কথা বলেন তিনি। ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) এ আলোচনার আয়োজন করে।

নুজহাত আনোয়ার বলেন, কিছু ক্ষেত্রে সবকিছু একসঙ্গে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না বা কোনো কোনো বিষয়ে আরও সময় প্রয়োজন হচ্ছে। তবে কাজের ক্ষেত্রে তাদের অঙ্গীকার ও নিষ্ঠার কোনো ঘাটতি নেই।

তিনি বলেন, ডিএসই ও তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর গভর্ন্যান্সের ক্ষেত্রে সবকিছু একেবারে নিখুঁতভাবে করা হয়েছে- এমন দাবি করা ঠিক হবে না। তবে বর্তমানে ডিএসই ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও কর্তৃপক্ষের দেওয়া গাইডেন্স অনুযায়ী অত্যন্ত গুরুত্ব ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করছে।

ডিএসইর এমডি বলেন, ‘আমরা মূলত ইনভেস্টরদের প্রটেকশন নিশ্চিত করার জন্য কাজ করছি। আমাদের লিস্টেড কোম্পানিগুলোর গভর্ন্যান্সের ক্ষেত্রে আমরা সবকিছু একদম নিখুঁতভাবে করতে পেরেছি-এটা হয়তো বলা ঠিক হবে না। তবে আমি এটুকু বলতে পারি যে, এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে ডিএ এবং বিসির গাইডেন্স অনুযায়ী আমরা যে কাজগুলো করছি, সেগুলো অত্যন্ত গুরুত্ব ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে করছি।’

রেগুলেটর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দেওয়া নির্দেশনা তাদের কাছে পরিষ্কার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘রেগুলেটর এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আমাদের যে নির্দেশনা দিচ্ছেন, সেগুলো আমাদের জন্য যথেষ্ট পরিষ্কার। সেই নির্দেশনার ভিত্তিতে আমরা ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছি।’

তবে সব কার্যক্রম একই সময়ে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না বলেও জানান তিনি। তার ভাষায়, ‘হয়তো কিছু ক্ষেত্রে সবকিছু একসঙ্গে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না, কিংবা কিছু জায়গায় আরও সময় প্রয়োজন হচ্ছে; কিন্তু আমাদের অঙ্গীকার এবং অধ্যবসায়ের কোনো ঘাটতি নেই।’

বিনিয়োগকারীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়কে ডিএসই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে জানিয়ে নুজহাত আনোয়ার বলেন, ফ্রি লিমিট, মেম্বার মার্জিন, সিসি অ্যাকাউন্ট ও আইপিও-সংক্রান্ত বিষয়সহ আলোচনায় যেসব বিষয় উঠে এসেছে, প্রতিটি বিষয় নিয়েই তারা সতর্কতার সঙ্গে কাজ করছেন।

তিনি বলেন, ‘আপনারা ইতোমধ্যে যেসব বিষয় উল্লেখ করেছেন-ফ্রি লিমিট, মেম্বার মার্জিন, সিসি অ্যাকাউন্ট, আইপিও-সংক্রান্ত বিষয়সহ—প্রতিটি বিষয় নিয়েই আমরা অত্যন্ত সতর্কতা ও গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছি।’

ডিএসইর এমডি বলেন, ‘আমরা বিষয়গুলোকে খুব সিরিয়াসলি নিয়েছি।’ একই সঙ্গে আগামী বছরের জন্য ডিএসইর কৌশল ও কর্মপরিকল্পনা শিগগিরই সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

তিনি বলেন, আগামী দিনের জন্য ডিএসইর একটি সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা ও কর্মপরিকল্পনা তৈরি হয়েছে। সেই পরিকল্পনা এবং রেগুলেটরি গাইডেন্সের আলোকে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ‘মোটামুটি আমাদের একটি সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা এবং কর্মপরিকল্পনা এখন দাঁড়িয়ে গেছে, এবং আমরা সেই পরিকল্পনা ও রেগুলেটরি গাইডেন্সের আলোকে এগিয়ে যাচ্ছি।’

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএসইসির কমিশনার তানভীর হাবিব রহমান, নাহিদ মাহতাব, মো. নাফিজ আল তারিক ও হোসাইন সাদাত এবং ডিএসইর চেয়ারম্যান মোমিনুল ইসলাম।

আলোচনায় পুঁজিবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং বাজারের ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে বাজারসংশ্লিষ্টদের মধ্যে মতবিনিময় হয়। সাম্প্রতিক সময়ে বাজারের কাঠামোগত উন্নয়ন ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ানোর বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হয়। 

আলোচনার শুরুতে আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, মার্কেটে একটি সিগনিফিকেন্ট পরিবর্তন আনা সম্ভব। কারণ, আমরা সবাই জানি, আমাদের ক্যাপিটাল মার্কেটের ডেপথ এখনো তুলনামূলকভাবে কম। তাই মার্কেটে নতুন নতুন ইন্সট্রুমেন্ট এবং নতুন নতুন কোম্পানি আসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, আমরা দেখেছি সেন্ট্রাল ব্যাংকের পক্ষ থেকে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার ফান্ড বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে নতুন উদ্যোক্তা, নতুন কোম্পানি এবং পুরোনো যেসব কোম্পানি বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে, তাদের সহায়তা করার জন্য। একই সঙ্গে ব্যাংকগুলোও বিভিন্ন ধরনের রিফাইন্যান্সিং স্কিমের মাধ্যমে নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করছে। অন্যদিকে, ক্যাপিটাল মার্কেট থেকেও কোম্পানিগুলোকে ফান্ড দেওয়ার জন্য লিস্টিং, ডাইরেক্ট লিস্টিং এবং আইপিওর মতো বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমার মনে হয়, এই দুটো উদ্যোগকে যদি আমরা একসঙ্গে নিয়ে আসতে পারি এবং এর মাধ্যমে নতুন ধরনের ইন্সট্রুমেন্ট, যেমন- কনভার্টিবল বন্ড, জিরো-কুপন বন্ড, এমনকি আইপিওর সঙ্গে সমন্বিত কোনো নতুন ফাইন্যান্সিং মেকানিজম মার্কেটে চালু করতে পারি, তাহলে সেটি আমাদের মার্কেটের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক হবে। এর মাধ্যমে মূলত দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অর্জন করা সম্ভব হবে।’

তিনি বলেন, এটি হলে প্রথমত, মার্কেটে একটি শক্তিশালী কনফিডেন্স তৈরি হবে। কেননা, সেন্ট্রাল ব্যাংক এবং বিএসইসি যৌথভাবে মার্কেট ডেভেলপমেন্টের জন্য কাজ করছে। দ্বিতীয়ত, এর মাধ্যমে মার্কেটে নতুন ও ইনোভেটিভ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্সট্রুমেন্ট তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা মার্কেটের ডেপথ বাড়াতে এবং কোম্পানিগুলোর জন্য বিকল্প অর্থায়নের পথ তৈরি করতে সহায়তা করবে। 

তিনি আরও বলেন, আমার অনুরোধ থাকবে, আমাদের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সম্মানিত সদস্যরা যদি এই দুটি উদ্যোগকে সমন্বয় করে এমন কোনো নতুন ইন্সট্রুমেন্ট মার্কেটে আনার বিষয়ে চিন্তা করেন, তাহলে সেটি আমাদের ক্যাপিটাল মার্কেটের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক একটি পদক্ষেপ হবে। 

এমএমএইচ/আরএফ