বিজ্ঞাপন

৭০ লাখ ক্ষুদ্র দোকান ব্যবসায়ীকে সিএমএসএমই খাতে অন্তর্ভুক্তির দাবি

৭০ লাখ ক্ষুদ্র দোকান ব্যবসায়ীকে সিএমএসএমই খাতে অন্তর্ভুক্তির দাবি

দেশের প্রায় ৭০ লাখ ক্ষুদ্র দোকান ব্যবসায়ীকে ক্ষুদ্র শিল্প বা সিএমএসএমই খাতের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি। একই সঙ্গে সহজ শর্তে স্বল্পসুদের ঋণ, পুনঃঅর্থায়ন ও কার্যকরী মূলধন সুবিধা, চাঁদাবাজি বন্ধ এবং ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমাতে সরকারি উদ্যোগ নেওয়ার দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।

রোববার (৬ জুলাই) সংবাদ মাধ্যমে বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির পাঠানো এক খোলা চিঠিতে এসব দাবির কথা জানানো হয়। খোলা চিঠিটি প্রধানমন্ত্রী বরাবর দেওয়া হয়েছে।

সংগঠনটি বলছে, রাজধানী থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত লাখ লাখ ক্ষুদ্র দোকান ব্যবসায়ী নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও বিভিন্ন সেবা সরবরাহের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু তাদের বড় একটি অংশ ক্ষুদ্র শিল্পের আওতায় যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত না থাকায় সরকারি ঋণ, প্রণোদনা ও অন্যান্য আর্থিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

খোলা চিঠিতে বলা হয়, বর্তমানে ক্ষুদ্র দোকান ব্যবসায়ীরা কঠিন সময় পার করছেন। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়া, দোকানভাড়া, কর্মচারীদের বেতন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, পরিবহন ব্যয়সহ বিভিন্ন খরচ বেড়েছে। এর সঙ্গে চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন ধরনের অতিরিক্ত ব্যয় যুক্ত হওয়ায় ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ আরও বেড়েছে।

অনেক দোকান ব্যবসায়ীর বিক্রি স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। কেউ কর্মচারী ছাঁটাই করছেন, কেউ ব্যবসার মূলধন ভেঙে দৈনন্দিন ব্যয় মেটাচ্ছেন। আবার অনেকে দীর্ঘদিনের লোকসান সামলাতে না পেরে ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার কথা ভাবছেন।

বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি বলেছে, বর্তমান সংকট মোকাবিলায় আমাদের আরও ৮টি দাবি রয়েছে। দাবিগুলো হচ্ছে– ক্ষুদ্র দোকান ব্যবসায়ীদের জন্য সহজ শর্তে, স্বল্পসুদের ও দীর্ঘমেয়াদি পরিশোধ সুবিধাসহ ঋণ এবং কার্যকরী মূলধনের ব্যবস্থা করতে হবে; ব্যবসায়ীদেরও সরকারি ঘোষিত সিএমএসএমই ঋণ, পুনঃঅর্থায়ন ও অন্যান্য আর্থিক সহায়তার আওতায় আনতে হবে এবং এসব সুবিধা দ্রুত মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দিতে হবে; অতিরিক্ত জামানত, জটিল কাগজপত্র, অপ্রয়োজনীয় শর্ত ও দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে প্রকৃত ক্ষুদ্র দোকান ব্যবসায়ীদের জন্য ঋণপ্রাপ্তির প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে; বিভিন্ন মার্কেট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব এবং বিভিন্ন নামে অতিরিক্ত বা অবৈধ সার্ভিস চার্জ আদায়ের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে; ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য নিরাপদ, স্থিতিশীল ও হয়রানিমুক্ত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে; বিদ্যুৎ, জ্বালানি, পরিবহনসহ ব্যবসা পরিচালনার বিভিন্ন ব্যয় কমাতে কার্যকর সরকারি উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে; মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে এবং বর্তমান সংকট বিবেচনায় ক্ষুদ্র দোকান ব্যবসায়ীদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা, ব্যবসা পুনরুদ্ধার ও কার্যকরী মূলধন সহায়তা কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে।

সংগঠনের সভাপতি মো. নাজমুল হাসান মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুর রহমান টিপু স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকার সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত ও কার্যকর সহযোগিতা দিলে দেশের লাখ লাখ ক্ষুদ্র দোকান ব্যবসায়ী তাদের ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে পারবেন এবং তাদের ওপর নির্ভরশীল মানুষের জীবন-জীবিকা সুরক্ষিত থাকবে। এ জন্য ক্ষুদ্র দোকান ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সঙ্গে দ্রুত আলোচনা করে বর্তমান সংকট মোকাবিলায় একটি সমন্বিত, বাস্তবসম্মত ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।

এমএইচএন/বিআরইউ