দেশের পুঁজিবাজারে আর্থিক ডেরিভেটিভস চালুর লক্ষ্যে ২০২৮ সালের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এ জন্য বিদ্যমান বিধিমালা সংশোধনের পাশাপাশি সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি (সিসিপি) ব্যবস্থা কার্যকর, প্রযুক্তিগত অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বাজারের অংশীজনদের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) আয়োজিত ‘এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড প্ল্যাটফর্মে আর্থিক ডেরিভেটিভস প্রবর্তন বিষয়ে অংশীজনদের সঙ্গে সচেতনতা ও পরামর্শমূলক কর্মসূচি’তে বিএসইসির কমিশনার মো. নাফিজ আল তারেক এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, দেশের পুঁজিবাজারে ডেরিভেটিভ চালুর বিষয়ে কমিশন ইতিবাচক। তবে এর আগে বাজারের প্রস্তুতি, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি। যথাযথ প্রস্তুতি ছাড়া ডেরিভেটিভ চালু করা হলে বাজারে অতিরিক্ত ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
নাফিজ আল তারেক বলেন, ২০২৮ সালের মধ্যে ডেরিভেটিভ চালুর লক্ষ্য সামনে রেখে ইতোমধ্যে একটি সময়ভিত্তিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ জন্য বিদ্যমান বিধিমালার প্রয়োজনীয় সংশোধন, সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি (সিসিপি) ব্যবস্থা কার্যকর করা এবং সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিসিবিএল) প্রযুক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, সিসিপি কার্যকর না হলে ডেরিভেটিভ কার্যক্রম চালু করা কঠিন হবে। একইসঙ্গে ব্রোকার, ট্রেডারসহ বাজারের অন্যান্য অংশীজনের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে।
বিএসইসির এই কমিশনার বলেন, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতায় ফিউচারস মার্কেট বিনিয়োগকারীদের পোর্টফোলিওর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও হেজিংয়ের সুযোগ তৈরি করে। বিশেষ করে বাজারের তারল্য ও অস্থিরতার ঝুঁকি মোকাবিলায় ডেরিভেটিভ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ডেরিভেটিভ চালুর ক্ষেত্রে কমিশন, এক্সচেঞ্জ, সিসিবিএল এবং বাজারের অংশীজনদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় বিধিমালা, অবকাঠামো ও সক্ষমতা নিশ্চিত করেই ডেরিভেটিভ মার্কেট চালুর লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা হবে।
অনুষ্ঠানে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার বলেন, এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড প্ল্যাটফর্মে নতুন আর্থিক পণ্য প্রবর্তনের উদ্যোগ দেশের পুঁজিবাজারের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে বিএসইসির সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, ডিএসই ও কমিশনের সমন্বয়ে এ বিষয়ে একটি নির্দিষ্ট রোডম্যাপ ও সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে উদ্যোগটি ধাপে ধাপে এগিয়ে নেওয়া হবে। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত কর্মশালা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম আয়োজন করা হবে।
বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক মো. আবুল কালাম বলেন, ফাইন্যান্সিয়াল ডেরিভেটিভসের মধ্যে বিশেষ করে ইনডেক্স ডেরিভেটিভস ক্যাশ সেটেলমেন্টের মাধ্যমে তুলনামূলকভাবে সহজে চালু করা সম্ভব। তবে এর সফল বাস্তবায়নের জন্য শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক কাঠামোর পাশাপাশি প্রযুক্তিগত, ক্লিয়ারিং, সেটেলমেন্ট ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে বিদ্যমান এক্সচেঞ্জ ডেরিভেটিভস রুলস যুগোপযোগী করে প্রয়োজনীয় রেগুলেটরি ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করা হবে। পাশাপাশি ডেরিভেটিভ ট্রেডিংয়ের উপযোগী প্ল্যাটফর্ম, সিসিপি, রিয়েল-টাইম মার্জিনিং, পজিশন মনিটরিং এবং মার্ক-টু-মার্কেট ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।
আবুল কালাম আরও বলেন, নির্ধারিত অ্যাকশন প্ল্যান ও সময়সীমা অনুযায়ী প্রস্তুতির অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে। পুঁজিবাজারের গভীরতা ও বৈচিত্র্য বাড়াতে ডেরিভেটিভ মার্কেট চালুর উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।
ডিএসইর মার্কেট ডেভেলপমেন্ট ডিভিশনের জেনারেল ম্যানেজার সাইয়িদ মাহমুদ জুবায়ের বলেন, দেশের পুঁজিবাজারে আধুনিক আর্থিক পণ্য প্রবর্তন ও বাজারের গভীরতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ডিএসই ২০২৮ সালের জানুয়ারিতে ডেরিভেটিভ পণ্য চালুর পরিকল্পনা করছে। এ পরিকল্পনায় বিএসইসির অনুমোদন রয়েছে।
তিনি বলেন, ডেরিভেটিভ চালুর জন্য প্রয়োজনীয় রেগুলেটরি ফ্রেমওয়ার্ক, প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ও অংশীজনদের প্রস্তুত করতে ডিএসই কৌশল ও অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করে বিএসইসির কাছে জমা দিয়েছে। কমিশনের সহযোগিতায় প্রস্তুতি কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।
সাইয়িদ মাহমুদ জুবায়ের জানান, প্রথম ধাপে ডিএসইর নিজস্ব সূচকভিত্তিক স্টক ইনডেক্স ফিউচারস, পরবর্তী ধাপে সিঙ্গেল স্টক ডেলিভারেবল ফিউচারস এবং দীর্ঘমেয়াদে অপশনস মার্কেট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
ডিএসইর উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে শীর্ষস্থানীয় ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান, মার্চেন্ট ব্যাংক, অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনেরা অংশ নেন। কর্মসূচির মাধ্যমে ডেরিভেটিভস পণ্য সম্পর্কে বাজার অংশগ্রহণকারীদের সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি এ ধরনের পণ্য চালুর সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে তাদের মতামত নেওয়া হয়।
এমএমএইচ/জেআই
