বিজ্ঞাপন

সাইফুজ্জামান-নজরুলের যুক্তরাষ্ট্র-ব্রিটিশ দ্বীপে অর্থপাচারের তথ্য দুদকে

সাইফুজ্জামান-নজরুলের যুক্তরাষ্ট্র-ব্রিটিশ দ্বীপে অর্থপাচারের তথ্য দুদকে

সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী এবং নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের বিদেশে থাকা বিপুল পরিমাণ অপরাধলব্ধ সম্পদের তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় সাফল্য পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী এবং তার স্ত্রী রুকমীলা জামানের সম্পদ পাচারের বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা ফিন্যান্সিয়াল ইনভেস্টিগেশন ইউনিট-এফবিআই তথ্য-উপাত্ত পাঠিয়েছে। অন্যদিকে, ব্রিটিশ রাজকীয় অধীন দ্বীপ আইল অব ম্যানে নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার ও তার স্ত্রী নাসরিন ইসলাম মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ওয়ান প্রপার্টি লিমিটেডের সম্পত্তির তথ্য দুদকের হাতে এসেছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সংস্থাটির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম বিষয় জানিয়েছেন। 

তিনি বলেন, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী এবং নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের বিদেশে থাকা বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ জব্দ ও অনুসন্ধানে বড় ধরনের সাফল্য এসেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই এবং ব্রিটিশ রাজকীয় অধীন দ্বীপ আইল অব ম্যান কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এমএলএআরের মাধ্যমে অধীনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও সহায়তা পেয়েছে দুদক।

দুদক সূত্রে জানা যায়, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী এবং তার স্ত্রী রুকমীলা জামানের বিরুদ্ধে বিদেশে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে। যুক্তরাষ্ট্রে থাকা তাদের অপরাধলব্ধ সম্পদ চিহ্নিত, জব্দ ও বাজেয়াপ্ত করার লক্ষ্যে দুদক মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকুয়েস্ট বা এমএলএআর পাঠায়। দুদকের উক্ত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল অথরিটি ও অফিস অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের সহায়তায় মার্কিন তদন্তকারী সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বিস্তারিত অনুসন্ধান চালিয়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদন দুদকে পাঠিয়েছে। এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ব্যাংক হিসাব, ব্যবসা ও স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া আরও ত্বরান্বিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অন্যদিকে নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার, তার স্ত্রী নাসরিন ইসলাম এবং তাদের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘ওয়ান প্রপার্টি লিমিটেড’-এর বিরুদ্ধে আইল অব ম্যান কর্তৃকের কাছে পাঠানো এমএলএআর সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে বলে জানা গেছে। দুদকের এমএলএআরের পরিপ্রেক্ষিতে আইল অব ম্যান কর্তৃপক্ষ আন্তর্জাতিক আইনি সহায়তা চুক্তির অধীনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা সব সম্পত্তি ফ্রিজ করেছে বলে নিশ্চিত করেছে।

সাইফুজ্জামান দুর্নীতি ইস্যুতে অনুসন্ধানের শুরুতে দুদক, সিআইডি ও এনবিআরের সমন্বয়ে ৭ সদস্যে টাস্কফোর্স টিম কাজ করেছে। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর দুদকের উপপরিচালক মো. মশিউর রহমানের নেতৃত্বে ৯ সদস্যের টিম অনুসন্ধান ও তদন্ত কাজ পরিচালনা করছে। টিম ইতোমধ্যে ৩০টি মামলা দায়ের করেছে।

অন্যদিকে, ২০২৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ৭৮১ কোটি ৩১ লাখ ২২ হাজার ৪৫৪ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে নাসা গ্রুপের কর্ণধার ও এক্সিম ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দুদক। এ ছাড়া, তার স্ত্রী নাসরিনের বিরুদ্ধে ২০ কোটি ২৬ লাখ ৫৯ হাজার ৮৫০ টাকার সম্পদের মালিকানা অর্জনে ওই বছরে আরও একটি মামলা করে দুদক।  

আরএম/এসএএস

বিজ্ঞাপন