বিজ্ঞাপন

টালমাটাল বাজার পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি বৈঠকে বসছে ডিএসই-ডিবিএ

টালমাটাল বাজার পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি বৈঠকে বসছে ডিএসই-ডিবিএ

সাম্প্রতিক সময়ে পুঁজিবাজারে টানা দরপতন, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার সংকট এবং অস্বাভাবিক বিক্রির চাপ বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি বৈঠকে বসতে যাচ্ছে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও ডিএসই ব্রোকারেজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)।

আগামীকাল মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় ডিএসই’র বোর্ডরুমে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে চলমান বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি অস্থিরতা মোকাবিলায় ব্রোকারেজ হাউসগুলোর করণীয় নিয়ে আলোচনা করা হবে। বিষয়টি ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন ডিবিএ’র সভাপতি সাইফুল ইসলাম।

এর আগে রোববার, সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসেই বড় ধরনের দরপতনের মুখে পড়ে পুঁজিবাজার। ডিএসই’র প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১০৩ পয়েন্ট বা প্রায় ১.৮৩ শতাংশ কমে ৫ হাজার ৫৫৮ পয়েন্টে নেমে আসে। গত প্রায় আড়াই মাসের মধ্যে এটিই সূচকটির সর্বনিম্ন অবস্থান। এদিন লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৮৯টি কোম্পানির মধ্যে ৩৪৮টির শেয়ারদর কমেছে; বেড়েছে মাত্র ২০টির।

টানা দরপতন ও আস্থার সংকটে টালমাটাল দেশের পুঁজিবাজার। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ১০৩ পয়েন্ট কমে আড়াই মাসের সর্বনিম্ন ৫,৫৫৮ পয়েন্টে নেমেছে। দর হারিয়েছে ৩৪৮টি কোম্পানি। একই দিনে লেনদেন ১৭৫ কোটি টাকা কমার পাশাপাশি বাজারের মূলধন কমেছে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা, যা বিনিয়োগকারীদের মাঝে উদ্বেগ বাড়িয়েছে

দরপতনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কমেছে লেনদেনের পরিমাণও। রোববার ডিএসইতে মোট ৫৪৫ কোটি ২৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা আগের কার্যদিবসের চেয়ে ১৭৫ কোটি ৬৫ লাখ টাকা কম। একই দিনে ডিএসই’র বাজারমূলধন প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা কমে ৬ লাখ ৯১ হাজার কোটি টাকায় নেমে আসে।

বাজারের সাম্প্রতিক এই মন্দাভাবের পেছনে কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করেছেন বিশ্লেষকরা। এর মধ্যে দীর্ঘায়িত গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা এবং তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর ভবিষ্যৎ আয় ও মুনাফা নিয়ে অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শেয়ার বিক্রির প্রবণতা বাড়িয়ে দিয়েছে।

dhakapost
 
এছাড়া, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার লেনদেনের তথ্য চেয়ে ডিএসই ব্রোকারেজ হাউসগুলোকে একাধিক চিঠি পাঠিয়েছে। পাশাপাশি কিছু ব্রোকারেজ হাউসে তদন্তেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে বড় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন একাধিক ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তা।

তাদের মতে, কোনো কোম্পানির লেনদেন নিয়ে তথ্য চেয়ে চিঠি দেওয়ার পরপরই সংশ্লিষ্ট বড় বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছেন, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সামগ্রিক বাজারে। বিক্রির চাপের পাশাপাশি বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং জ্বালানি সংকটও বিনিয়োগকারীদের মনস্তাত্ত্বিক বলয়কে দুর্বল করে দিয়েছে।

শেয়ারবাজারের সাম্প্রতিক বড় পতন ও বিনিয়োগকারীদের আতঙ্ক কাটাতে আগামীকাল মঙ্গলবার জরুরি বৈঠকে বসছে ডিএসই ও ডিবিএ। গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট, আয়ের অনিশ্চয়তা এবং বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউসে তদন্তের চিঠিতে বড় বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রির চাপ বেড়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলা, স্বাভাবিকতা ফেরানো এবং আস্থার সংকট কাটাতে বৈঠকে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তের কথা ভাবছেন খাতসংশ্লিষ্টরা

অবশ্য বাজারসংশ্লিষ্টদের একাংশের মতে, নির্বাচনের পর নতুন সরকার ও পুনর্গঠিত নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে ঘিরে বিনিয়োগকারীদের মনে বড় প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। ফলে বাজার দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী হয়। কিন্তু সেই প্রত্যাশার সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির সামঞ্জস্য না থাকায় এখন বাজারে একধরনের সংশোধন দেখা দিয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত আগস্ট মাসেও ডিএসই’র প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ২৯৭.৫০ পয়েন্ট বা ৫ শতাংশ কমেছিল। একই সময়ে দৈনিক গড় লেনদেন ৩০ শতাংশ কমে ৮৭৬ কোটি টাকায় নেমে আসে।

এমন পরিস্থিতিতে ডিএসই ও ডিবিএ’র এই জরুরি বৈঠক বাজারে আস্থা ফেরাতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে আছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। বিশেষ করে বিনিয়োগকারীদের আতঙ্ক কমানো, বাজারে অস্বাভাবিক বিক্রির কারণ চিহ্নিত করা এবং ব্রোকারেজ হাউসগুলোর দায়িত্ব নির্ধারণে বৈঠক থেকে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এমএমএইচ/এমএআর/