ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ওয়েবসাইট ও ডিলার নিয়োগ থেকে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় শো-রুম দিয়ে বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে আলফা ই-শপ। দামি ব্র্যান্ডের ফ্যান, ডেকোরেটিভ ফ্যান, ঝাড়বাতি, গৃহসজ্জার সামগ্রী, ইলেকট্রনিক্স, এসি ও টেলিভিশনসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রির বড় পরিসর গড়লেও রাজস্বের হিসাবে বড় ধরনের গড়মিল পেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভ্যাট বিভাগের নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ২ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির তথ্য শনাক্ত করা হয়েছে। গত ৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীর দুটি শো-রুমে একযোগে অভিযান চালিয়ে বাণিজ্যিক ক্রয়-বিক্রয়সংক্রান্ত বিভিন্ন নথি জব্দ করে এমন ফাঁকির রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) এনবিআরের জনসংযোগ কর্মকর্তা আল আমিন শেখ বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা পোস্টকে বলেন, ভ্যাট গোয়েন্দা জব্দ করা নথিপত্র পর্যালোচনা ও যাচাই-বাছাই করছে। প্রাথমিকভাবে পাওয়া প্রায় ২ কোটি টাকার গড়মিল চূড়ান্তভাবে নির্ধারণের পর আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসঙ্গে অনুসন্ধানে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তার ভিত্তিতেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
ভ্যাট গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, অনলাইনভিত্তিক ব্যবসা দ্রুত সম্প্রসারিত হলেও অনেক প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত বিক্রয় ও রাজস্ব হিসাবের মধ্যে গরমিল থাকার অভিযোগ রয়েছে। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের ব্যবসার ধরন, বিক্রির মাধ্যম এবং প্রকৃত লেনদেন যাচাই করতে মাঠপর্যায়ে জরিপ ও অনুসন্ধান চালাচ্ছে ভ্যাটে গোন্দার বিশেষ টিম। এরই ধারাবাহিকতায় আলফা ই-শপকে অনুসন্ধানের আওতায় আনা হয়। অনুসন্ধানে আলফা ই-শপ ব্যবহার করে করপোরেট, শোরুম, অনলাইন শোরুম, অনলাইন কল, ফেসবুক হোয়াটসঅ্যাপ, ডিলার এবং ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিক্রির কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠানটির বনানী-১১ ও মিরপুর-১২ এলাকায় দুটি শোরুম রয়েছে। অর্থাৎ শুধু একটি ওয়েবসাইট বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমনির্ভর ব্যবসা নয়, সরাসরি শোরুম, করপোরেট গ্রাহক, ডিলার এবং অনলাইন যোগাযোগ সবগুলো মাধ্যম ব্যবহার করে পণ্য বিক্রি করছে প্রতিষ্ঠানটি। আলফা ই-শপের দুটি শোরুমে একযোগে অভিযানের সময় প্রতিষ্ঠানটির বাণিজ্যিক ক্রয়-বিক্রয়সংক্রান্ত বিভিন্ন নথি জব্দ করা হয়।
নথি পর্যালোচনা করে প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত ক্রয়, বিক্রয়, সরবরাহ, অনলাইন লেনদেন এবং রাজস্ব পরিশোধের হিসাব মিলিয়ে প্রাথমিক যাচাইয়ে প্রায় ২ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির তথ্য পাওয়া গেছে। তবে নথিপত্রের পূর্ণাঙ্গ যাচাই ও হিসাব পর্যালোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত গড়মিলের চূড়ান্ত পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়নি। যদিও আলফা ই-শপের পক্ষ থেকে শনাক্ত হওয়া রাজস্ব পরিশোধে মৌখিকভাবে একমত হয়েছেন। জব্দ করা নথিপত্রের বিস্তারিত পর্যালোচনা শেষে প্রকৃত রাজস্ব দায় নির্ধারণ করা হবে। এরপর প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আলফা ই-শপ মূলত উচ্চমূল্যের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ফ্যান, ডেকোরেটিভ ফ্যান, ঝাড়বাতি ও গৃহসজ্জার আলো, ইলেকট্রনিক পণ্য, ইন্টেরিয়র সামগ্রী, এসি ও টেলিভিশনসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করে। প্রতিষ্ঠানটি বিদেশ থেকে পণ্য আমদানির পাশাপাশি স্থানীয় বাজার থেকেও পণ্য সংগ্রহ করে। নিজস্ব ইন্টেরিয়র ডিজাইন টিমের মাধ্যমে বাসাবাড়ি ও অফিসের ইন্টেরিয়র ডিজাইনের কাজও করে থাকে।
আরএম/এমএসএ
