বিজ্ঞাপন

নতুন করে নেওয়া হচ্ছে আবেদন

চার দিনে ৩৬ হাজার গ্রাহক তুলেছেন ১৪শ কোটি টাকা

চার দিনে ৩৬ হাজার গ্রাহক তুলেছেন ১৪শ কোটি টাকা

সমস্যাগ্রস্ত পাঁচ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক একীভূত করে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে আমানতের টাকা ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তবে আবেদন করলেও প্রতিদিন সব গ্রাহক টাকা তুলছেন না। গত চার দিনে ৩৬ হাজার ৯৭ জন গ্রাহক ১ হাজার ৪৩১ কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন। এর পাশাপাশি ব্যাংকে নতুন করে অর্থ জমা পড়া এবং স্বাভাবিক লেনদেনও অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে ব্যাংকটি।

ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১০ সেপ্টেম্বর নতুন করে ১১ হাজার ৩৮৫টি আবেদন নেওয়া হয়েছে, যার বিপরীতে টাকার পরিমাণ ৩৭৪ কোটি টাকা। একই দিনে আবেদন অনুযায়ী ৯ হাজার ৪১ জন গ্রাহককে ৩৯১ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। ব্যাংকটির দাবি, গ্রাহকদের টাকা পরিশোধের পাশাপাশি ব্যক্তিগত হিসাবে স্বাভাবিক লেনদেন এবং ব্যাংকে অর্থের প্রবাহও অব্যাহত রয়েছে।

এর আগে গত ৭ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন দিনে ২৭ হাজার ৫৬ জন গ্রাহক মোট ১ হাজার ৪০ কোটি টাকা উত্তোলন করেছেন। এর মধ্যে ৭ সেপ্টেম্বর ৮ হাজার ১২৫ জন গ্রাহক ৩১৯ কোটি টাকা, ৮ সেপ্টেম্বর ৮ হাজার ২৩৪ জন ৩৪০ কোটি টাকা এবং ৯ সেপ্টেম্বর ১০ হাজার ৬৯৭ জন গ্রাহক ৩৮১ কোটি টাকা উত্তোলন করেন।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গত ১ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যক্তি আমানতকারীদের কাছ থেকে টাকা ফেরতের আবেদন নেওয়া শুরু করে। মোট ৭৪ হাজার ২২১টি আবেদনের বিপরীতে প্রায় ৩ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা ফেরতের চাহিদা আসে। তবে আবেদন অনুযায়ী নির্ধারিত দিনে সবাই টাকা উত্তোলন করছেন না।

এদিকে ৭ সেপ্টেম্বর থেকে অনলাইনে টাকা স্থানান্তরের সুবিধাও চালু করেছে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক। ফলে গ্রাহকদের টাকা ফেরতের পাশাপাশি ব্যাংকে অর্থের প্রবাহ ও স্বাভাবিক লেনদেনও ধীরে ধীরে বাড়ছে।

ব্যক্তি আমানতকারীদের মূল আমানতের টাকা ফেরত দিতে তারল্য সহায়তা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক সোমবার সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। এই অর্থের মাধ্যমে ব্যক্তি আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যক্তি আমানতকারীরা চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাবের টাকা এবং মেয়াদি আমানতের মূল টাকা উত্তোলন করতে পারবেন। তবে মেয়াদি আমানতের পুরো মূল টাকা এককালীন তুলে নিলে সেটিকে পূর্ণ ও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হিসেবে গণ্য করা হবে। সে ক্ষেত্রে কোনো মুনাফা দেওয়া হবে না।

অন্যদিকে, যারা এখনই টাকা তুলবেন না এবং আমানত চালু রাখবেন, তারা চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত হারে মুনাফা পাবেন। ব্যাংকের সার্বিক কার্যক্রম স্বাভাবিক হলে পরবর্তী সময়ে মুনাফাসহ অর্থ জমা ও উত্তোলনের সুযোগ থাকবে।

চরম অনিয়ম ও ঋণ জালিয়াতির কারণে সংকটে পড়া এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়েছে।

এসব ব্যাংকে প্রায় ৭৬ লাখ আমানতকারীর মোট ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকার আমানত ছিল। এর মধ্যে ব্যক্তি আমানতকারীদের সঞ্চয়ী হিসাবেই রয়েছে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা।

এসআই/এসএম