বিজ্ঞাপন

অবরুদ্ধ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে বকেয়া কর আদায়ের উপায় নির্ধারণে কমিটি

অবরুদ্ধ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে বকেয়া কর আদায়ের উপায় নির্ধারণে কমিটি

বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদের ফ্রিজ বা অবরুদ্ধ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে সরকারের বকেয়া শুল্ক ও কর আদায়ের উপায় নির্ধারণ এবং এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের লক্ষ্যে ৭ সদস্যের একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করেছে সরকার। 

আদালতের আদেশে অবরুদ্ধ হিসাবগুলো থেকে দ্রুত ও সমন্বিত উপায়ে প্রাপ্য রাজস্ব আদায়ের উদ্যোগ হিসেবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কেন্দ্রীয় ব্যাংক শাখা থেকে সম্প্রতি এই প্রজ্ঞাপনটি জারি করা হয়।

উপ-সচিব আফরোজা আক্তার রিবা স্বাক্ষরিত এই প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, গঠিত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে অ্যাটর্নি জেনারেলকে। কমিটিতে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মানিলন্ডারিং শাখার মহা-পরিচালক, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান কর্মকর্তা, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সিআইসি-এর মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অর্গানাইজড ক্রাইম শাখার ডিআইজি-কে।

এ ছাড়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইআইডি) মহা-পরিচালক কমিটির সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। 

কমিটির কার্যপরিধিতে বলা হয়েছে, বিদেশে পাচারকৃত সম্পদের মধ্যে আদালত কর্তৃক ফ্রিজ বা অ্যাটাচমেন্ট করা হিসাব থেকে সরকারের শুল্ক ও কর আদায়ের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আইনগত ও অন্যান্য পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে করণীয় নির্ধারণ করবে কমিটি।

এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধান পর্যালোচনা করে কী ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, কোন প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রের প্রাপ্য অর্থ আদায় করা সম্ভব এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে কীভাবে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা যায়, এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত ও সুপারিশ প্রণয়ন করবে কমিটি।

পাচার হওয়া সম্পদের বিষয়ে অনুসন্ধান, তথ্য সংগ্রহ, আর্থিক লেনদেনের গতিপথ শনাক্ত এবং আদালতের নির্দেশে অবরুদ্ধ সম্পদের ব্যবস্থাপনার সঙ্গে একাধিক সরকারি সংস্থা যুক্ত থাকায় সমন্বিতভাবে কাজ করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে সরকার। কমিটি এ-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়ন করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এর ফলে বিদেশে পাচার সম্পদের বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি সরকারের প্রাপ্য শুল্ক ও কর আদায়ের ক্ষেত্রেও একটি সমন্বিত কাঠামো তৈরি হবে। এছাড়া সরকারের রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করার পাশাপাশি পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ দেশে ফিরিয়ে আনার চলমান উদ্যোগকে আরও কার্যকর করতেই এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বিশেষ করে আদালতের আদেশে বিদেশে কোনো অর্থ বা সম্পদ অবরুদ্ধ হওয়ার পর সেখান থেকে রাষ্ট্রের প্রাপ্য কর ও শুল্ক আদায়ের ক্ষেত্রে যেসব আইনগত ও প্রশাসনিক জটিলতা দেখা দিতে পারে, সেগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করবে কমিটি।

/এমএসএ