দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা বৈধ বিমা দাবি পরিশোধে ধারাবাহিক উদ্যোগ নিয়েছে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। এরই অংশ হিসেবে দ্বিতীয় দফায় পাঁচটি জীবন বিমা কোম্পানির ৫ হাজার ৮৬৮ জন পলিসিধারীর ২৩ কোটি ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৯৭১ টাকা বিমা দাবি পরিশোধ করা হচ্ছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দ্বিতীয় দফায় এসব দাবি পরিশোধ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন আইডিআরএর চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পাঁচটি কোম্পানির সারাদেশের পলিসিধারীদের দাবির বিপরীতে এসব অর্থ পরিশোধ করা হবে।
আইডিআরএ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট জীবন বিমা কোম্পানিগুলোর সম্পদ, সিকিউরিটি বন্ডসহ বিভিন্ন উৎস থেকে অর্থের সংস্থান করে বৈধ ও দীর্ঘদিনের অপরিশোধিত বিমা দাবি নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে পলিসিধারীদের ন্যায্য পাওনা দ্রুত পরিশোধের পাশাপাশি বিমা খাতে গ্রাহকদের আস্থা পুনর্গঠনের চেষ্টা করা হচ্ছে।
দ্বিতীয় দফায় সবচেয়ে বেশি পলিসিধারীর দাবি পরিশোধ করা হচ্ছে পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের। প্রতিষ্ঠানটির ৩ হাজার ৬০০ জন পলিসিধারী পাবেন ১২ কোটি টাকা।
এ ছাড়া হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের ১ হাজার ১৪৫ জন পলিসিধারীর ৪ কোটি ৯৮ লাখ ৮ হাজার ৫১৪ টাকা, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের ৫৮০ জনের ৫ কোটি টাকা, সানফ্লাওয়ার লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের ৩০০ জনের ৫৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা এবং সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের ২৪৩ জন পলিসিধারীর ৫০ লাখ ১৮ হাজার ৪৫৭ টাকা পরিশোধ করা হচ্ছে।
এর আগে গত ৩ সেপ্টেম্বর প্রথম দফায় সাতটি জীবন বিমা কোম্পানির ২ হাজার ৫৪৯ জন পলিসিধারীর ১৪ কোটি ৫১ লাখ ৩ হাজার ১৪৬ টাকা ৫৮ পয়সা বিমা দাবি পরিশোধ করে আইডিআরএ।
প্রথম ও দ্বিতীয় দফা মিলিয়ে এখন পর্যন্ত মোট ৮ হাজার ৪১৭ জন পলিসিধারীর ৩৭ কোটি ৫৪ লাখ ৬০ হাজার ১১৭ টাকা ৫৮ পয়সা বিমা দাবি পরিশোধ করা হচ্ছে।
আইডিআরএর চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিনের নেতৃত্বে পলিসিধারীদের ন্যায্য দাবি পরিশোধ, বিমা খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং গ্রাহকদের আস্থা পুনর্গঠনের লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অপরিশোধিত বৈধ বিমা দাবি নিষ্পত্তির কার্যক্রম এখানেই শেষ হচ্ছে না।
আইডিআরএ চেয়ারম্যান জানান, অবশিষ্ট বৈধ ও অপরিশোধিত দাবিগুলো যাচাই-বাছাই এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পর্যায়ক্রমে পরিশোধ করা হবে।
পলিসিধারীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এ উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলেও জানান আইডিআরএর চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন।
এমএমএইচ/এমএসএ
