গাজীপুরে স্ট্যাম্প-ব্যান্ডরোলবিহীন নকল সিগারেট ও সিগারেট তৈরির কাঁচামাল উদ্ধার এবং চট্টগ্রামে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা পণ্য আটকের ঘটনায় অভিযান চালিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
এর মধ্যে চট্টগ্রামের ঘটনায় মিথ্যা ঘোষণার কারণে জরিমানাসহ প্রায় ৬৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় করা হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এনবিআর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে।
কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুরের কালিয়াকৈর এলাকায় অবৈধ ও নকল সিগারেট উৎপাদনের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১-এর সদস্যরা কাস্টমস গোয়েন্দাকে সহযোগিতা করেন। অভিযানে লাকি স্ট্রাইক, ডার্বি ও রয়্যালস ব্র্যান্ডের নকল সিগারেটের পাশাপাশি প্রসেসড টোব্যাকো এবং সিগারেট তৈরির গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল অ্যাসিটেট টো উদ্ধার করা হয়।
বিশেষভাবে উদ্ধার করা সিগারেটের প্যাকেটে কোনো রাজস্ব স্ট্যাম্প বা ব্যান্ডরোল পাওয়া যায়নি। ফলে এসব সিগারেট অবৈধভাবে উৎপাদন ও বাজারজাতের মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে কাস্টমস গোয়েন্দা।
এর আগে, কালিয়াকৈর উপজেলার পাঁচগাছী এলাকায় অবস্থিত শামস টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ব্যান্ডরোলবিহীন বা নকল ব্যান্ডরোল ব্যবহার করে সিগারেট উৎপাদন ও বাজারজাতের অভিযোগ পাওয়া যায়। তবে, এবারের অভিযানে উদ্ধার করা নকল সিগারেট, প্রসেসড টোব্যাকো ও অ্যাসিটেট টোর সঙ্গে শামস টোব্যাকোর সম্পৃক্ততা এখনো চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত হয়নি।
অন্যদিকে, চট্টগ্রামের কাস্টমস হাউজ, আইসিডিতে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা পণ্য আটকের ঘটনায় প্রায় ৬৮ লাখ টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় হয়েছে।
সূত্র জানায়, আমদানিকারক কাহফ করপোরেশন ৩৭ মেট্রিক টন হিট ট্রান্সফার পেপার এবং ১০ মেট্রিক টন পিভিসি ফ্লেক্স ব্যানার ঘোষণা দিয়ে বিল অব এন্ট্রি নম্বর ২২৫৪৮৫-এর মাধ্যমে গত ২৯ জুলাই পণ্য খালাসের শুল্কায়ন কার্যক্রম সম্পন্ন করে। এতে শুল্ক-কর বাবদ ৫৭ লাখ ৩৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়।
পরবর্তীতে সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেলের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানটি লক করে কায়িক পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় ঘোষণার সঙ্গে পণ্যের পরিমাণে বড় ধরনের অসঙ্গতি পাওয়া যায়। কায়িক পরীক্ষায় ৩৭ মেট্রিকটন হিট ট্রান্সফার পেপারের পরিবর্তে ১৯ দশমিক ৮৫ মেট্রিক টন এবং ১০ মেট্রিকটন পিভিসি ফ্লেক্স ব্যানারের পরিবর্তে ২৬ দশমিক ৭৯ মেট্রিক টন পণ্য পাওয়া যায়।
মিথ্যা ঘোষণার বিষয়টি ধরা পড়ার পর জরিমানাসহ শুল্ক-কর বাবদ মোট ১ কোটি ২৫ লাখ ২৯ হাজার ৩২১ টাকা নির্ধারণ করা হয়। ফলে আগের নির্ধারিত ৫৭ লাখ ৩৮ হাজার টাকার তুলনায় অতিরিক্ত প্রায় ৬৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে।
আরএম/জেআই
