প্রশ্নপত্র ফাঁস : নিখিল রঞ্জনসহ পরিবারের ৪ জনের ব্যাংক হিসাব তলব

Dhaka Post Desk

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

০৭ ডিসেম্বর ২০২১, ০৪:৪৯ পিএম


প্রশ্নপত্র ফাঁস : নিখিল রঞ্জনসহ পরিবারের ৪ জনের ব্যাংক হিসাব তলব

সরকারি ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের তদন্তে নাম আসা অধ্যাপক নিখিল রঞ্জন ধর ও তার স্ত্রী, ছেলে মেয়েসহ চার জনের ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়েছে।

আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) ব্যাংকগুলোকে চিঠি দিয়ে তার সব ধরনের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়েছে।  

গতকাল সোমবার (৬ ডিসেম্বর) দেওয়া চিঠিতে নিখিল রঞ্জন ধরের স্ত্রী অনুরূপা ধর, ছেলে ভাস্কর ধর ও তার মেয়ে দেবী ধরের সব ধরনের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়েছে বিএফআইইউ। চিঠিতে তাদের নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র ও ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছে।

নিখিল রঞ্জন ধর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) শিক্ষক। রাষ্ট্রায়ত্ত পাঁচ সরকারি ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের তদন্তে নাম আসায় সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে বুয়েট কর্তৃপক্ষ। তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধানের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিখিল রঞ্জন ধরকে কোনো পরীক্ষায় দায়িত্ব পালন না করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

এর আগে ৬ নভেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীন পাঁচটি সরকারি ব্যাংকের ১ হাজার ৫১১টি ‘অফিসার ক্যাশ’ পদের নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। বিকেলে এক ঘণ্টার পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর একাধিক প্রার্থী অভিযোগ করেন, পরীক্ষা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ১০০টি প্রশ্নের প্রিন্ট করা উত্তরপত্র ফেসবুকে পাওয়া গেছে। ওই পরীক্ষা নেওয়ার দায়িত্বে ছিল আহছানউল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠার পর পরীক্ষাটি বাতিল করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকার সিলেকশন কমিটি। এ ঘটনায় আহছানউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন কর্মচারীসহ কিছু ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে বুয়েটের অধ্যাপক নিখিল রঞ্জন ধরের নাম সংবাদমাধ্যমে উঠে আসে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, ছাপাখানায় প্রশ্নপত্র ছাপা হওয়ার পর তিনি একটি বা দুটি সেট নিজের ব্যাগে ঢুকিয়ে নিতেন।

প্রশ্নপত্র ব্যাগে ঢোকানোর বিষয়টি স্বীকার করলেও নিখিল রঞ্জন ধর সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেছেন, ‘চেক’ করার পর সেই প্রশ্নপত্রগুলো তিনি ময়লার স্তূপে ফেলে আসতেন। ওই ময়লার স্তূপ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন আহছানউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীরাই।

এসআই/এইচকে 

Link copied