২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে দুর্বল ব্যাংকগুলোর জন্য সরকারের প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে ব্যাংক পরিচালকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি)।
তবে সংগঠনটির দাবি, শুধু সরকারি অর্থ দিয়ে ব্যাংক খাতের সংকট কাটানো সম্ভব নয়। অতীতে লুট ও আত্মসাৎ হওয়া অর্থ দ্রুত উদ্ধার করে ফেরত আনা, দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত করারও দাবি জানায় বিএবি।
রোববার (১৪ জুন) প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে এক বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি এসব দাবি জানায়।
সংগঠনটির মতে, জনসাধারণের অর্থ দিয়ে ব্যাংককে শক্তিশালী করার উদ্যোগ তখনই সফল হবে, যখন সেই অর্থের অপব্যবহারকারীদের জবাবদিহির আওতায় আনা যাবে।
বিএবি আরও উল্লেখ করে, আমানতকারীদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া অপরিহার্য। বিশেষ করে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি এবং যারা ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই তাদের পুনরায় ব্যাংকিং খাতে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া যাবে না। এতে শুধু আর্থিক শৃঙ্খলাই প্রতিষ্ঠিত হবে না, বরং ভবিষ্যতে অনিয়ম প্রতিরোধেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সংগঠনটি ব্যাংক খাত সংস্কারের অংশ হিসেবে একটি কার্যকর সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি (অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি বা এএমসি) গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরে। তাদের মতে, দুর্বল ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ কমানো এবং ব্যালান্স শিট শক্তিশালী করতে এ ধরনের একটি প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে অনিয়মের মাধ্যমে অর্জিত শেয়ার ও সম্পদের বিষয়ে স্বচ্ছ নীতি প্রণয়ন এবং প্রয়োগ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
বিএবি সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, যদি লুট হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত না হয়, তাহলে সরকারি অর্থ দিয়ে ব্যাংক পুনঃমূলধনীকরণ সাময়িক স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে কাঙ্ক্ষিত ফল দেবে না। তাই পুনঃমূলধনীকরণের পাশাপাশি ‘রিফর্ম, রিকভারি এবং অ্যাকাউন্টেবিলিটি’ এই তিনটি বিষয়কে সমান গুরুত্ব দিয়ে বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বর্তমান প্রেক্ষাপটে একটি শক্তিশালী ও স্বচ্ছ ব্যাংকিং খাত ছাড়া টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব নয়। তাই সরকারকে আর্থিক খাত সংস্কারে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে জানায়, প্রস্তাবিত সংস্কারগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে এবারের বাজেট দেশের আর্থিক খাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।
এসআই/এমএসএ
