নবগঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে আবেদুর রহমান সিকদারের নিয়োগে পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন হয়েছে। এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনাপত্তিপত্র (এনওসি) পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এনওসি পাওয়া গেলে দ্রুতই নতুন দায়িত্ব গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করবেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) অনুষ্ঠিত ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় এমডি নিয়োগের বিষয়টি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে ব্যাংকটির একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। পর্ষদের অনুমোদনের পর নিয়ম অনুযায়ী ব্যাংকের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনাপত্তিপত্রের জন্য আবেদন করবে এবং অনাপত্তিপত্র মিলছে এমডি হিসেবে ব্যাংকে যোগদান করতে পারবেন।
যোগদানের বিষয়ে জানতে চাইলে বুধবার (২৪ জুন) আবেদুর রহমান সিকদার ঢাকা পোস্টকে বলেন, সরকার তাকে নিয়োগ দিলেও একটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আগে কয়েকটি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়।
তিনি বলেন, ‘প্রথমে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। এরপর পর্ষদের আবেদনের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনাপত্তিপত্র গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি আমার বর্তমান কর্মস্থল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অব্যাহতি নেওয়ার বিষয়টিও সম্পন্ন করতে হবে।’
আবেদুর রহমান সিকদার বলেন, ‘সব ধরনের প্রক্রিয়া শেষ করেই নতুন দায়িত্বে যোগ দেব। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব দায়িত্ব গ্রহণের চেষ্টা করব।’
আবেদুর রহমান সিকদার বর্তমানে বেসরকারি ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
এদিকে এমডি না থাকায় সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের সার্বিক কার্যক্রম অনেকটা স্থবির হয়ে আছে। পাঁচটি সংকটে থাকা ব্যাংকের সম্পদ, দায়, জনবল ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা একীভূত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো এগিয়ে নিতে একজন পূর্ণকালীন প্রধান নির্বাহীর প্রয়োজন হলেও পদটি শূন্য রয়েছে।
বিশেষ করে আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম, বড় অঙ্কের লেনদেন অনুমোদন, পুনর্গঠন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং নতুন সাংগঠনিক কাঠামো চূড়ান্ত করার কাজগুলোতে বিলম্ব হচ্ছে। ফলে অনেক গ্রাহক সময়মতো তাদের আমানত উত্তোলন করতে পারছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া পাঁচটি ব্যাংকের তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থা, কোর ব্যাংকিং সিস্টেম (সিবিএস), জনবল ও শাখা কার্যক্রম একীভূত করার কাজও প্রত্যাশিত গতিতে এগোচ্ছে না। সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন এমডি দায়িত্ব গ্রহণ করলে এসব কাজের গতি বাড়বে এবং ব্যাংকটির স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু করা সহজ হবে।
দেশের ব্যাংক খাতে চলমান তারল্য সংকট মোকাবিলায় আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের সম্পদ ও দায় একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করেছে সরকার।
এদিকে বুধবার জাতীয় সংসদে দেওয়া তথ্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসিকে 'ব্যাংক রেজল্যুশন স্কিম, ২০২৫'-এর আওতায় এনে তাদের সম্পদ ও দায় নবগঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে স্থানান্তর করা হয়েছে।
তিনি জানান, 'আমানত সুরক্ষা আইন, ২০২৬'-এর আওতায় এসব ব্যাংকের গ্রাহকদের প্রাথমিকভাবে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত পরিশোধ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে দ্রুত কার্যকর করতে সরকার ইতোমধ্যে পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়েছে এবং তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। পাশাপাশি করপোরেট সুশাসন নিশ্চিত করতে কোম্পানি সেক্রেটারি, চিফ ফাইন্যান্স অফিসার (সিএফও) এবং চিফ টেকনোলজি অফিসার (সিটিও) নিয়োগের প্রক্রিয়াও চলছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এমডি হিসেবে আবেদুর রহমান সিকদারের যোগদান ব্যাংকটির পুনর্গঠন, গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে আমানত ফেরত, তারল্য ব্যবস্থাপনা এবং পাঁচটি ব্যাংকের একীভূত কার্যক্রম পরিচালনায় তার নেতৃত্ব বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় পাঁচটি ব্যাংককে একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়। ৩৫ হাজার কোটি টাকার পরিশোধিত মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করা ব্যাংকটিতে সরকারের অংশীদারিত্ব রয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা আমানতকারীদের জমার বিপরীতে শেয়ারে রূপান্তর করা হয়েছে। গত বছরের ৩০ নভেম্বর ব্যাংকটির কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন দেওয়া হয়।
এসআই/বিআরইউ
