বেপরোয়া ধারায় পুঁজিবাজার

Dhaka Post Desk

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

০৭ এপ্রিল ২০২১, ১৫:০০

বেপরোয়া ধারায় পুঁজিবাজার

লকডাউনের তৃতীয় দিন ও সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবস বুধবার (৭ এপ্রিল) ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় দেশের পুঁজিবাজারে লেনদেন হয়েছে। এদিন ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক খাতের পাশাপাশি বহুজাতিক শেয়ারের দাম বেড়েছে।

তাতে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক বেড়েছে ৫৬ পয়েন্ট। দেশের অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচক বেড়েছে ১৭৩ পয়েন্ট। সূচকের পাশাপাশি বেড়েছে বেশির ভাগ শেয়ারের দাম ও লেনদেন।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মঙ্গলবারে মতোই বুধবারও বিমা খাতের শেয়ারের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। ফলে লেনদেনের শীর্ষে রয়েছে এ খাতের কোম্পানির শেয়ার। বুধবার এ খাতের ৫০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ৪০টির, কমেছে ৮টির আর অপরিবর্তিত রয়েছে ২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম।

অপরদিকে ব্যাংক খাতের ৩১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ২১টির, কমেছে ৩টির আর অপিরিবর্তিত রয়েছে সাতটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। ব্যাংক-বিমার ধাক্কায় ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বহুজাতিক কোম্পানির প্রায় সব শেয়ারের দাম বেড়েছে। তাতে বড় উত্থান হয়েছে বলে মনে করেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

তারা বলছেন, হঠাৎ করে সপ্তাহের প্রথম দিন বড়পতন। এখন আবার টানা উত্থান। এটা পুঁজিবাজারে অস্বাভাবিক আচরণ। এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এই উত্থান-পতনই প্রমাণ করে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণ করে একটি চক্র। এরা পুঁজিবাজারে বেপরোয়া উত্থান-পতন ঘটায়।  

ডিএসইর তথ্য মতে, রোববার লকডাউনের খবরে ডিএসইর সূচক কমে ১৮৩ পয়েন্ট। এরপর গত তিনকার্যদিবস সোম, মঙ্গল ও বুধবার ডিএসইর প্রধান সূচক যথাক্রমে ৮৮, ১০৩ এবং ৫৬ পয়েন্ট বেড়েছে। তাতে বিনিয়োগকারীরা তাদের হারানো ২১ হাজার ৭৮০ কোটি ৮২ লাখ ২৫ হাজার টাকার পুঁজি ফিরে পেয়েছেন।

এ বিষয়ে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, অস্বাভাবিক উত্থান আর পতন কোনোটাই স্বাভাবিক পুঁজিবাজারের আচরণ না। লকডাউনকে কেন্দ্র করে যেমন পতন কাম্য নয়, তেমনি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নিজস্ব বিনিয়োগের বিপরীতে মার্জিন ঋণ প্রদানের রেশিও বৃদ্ধি সংক্রান্ত নির্দেশনাকে কেন্দ্র করে পুঁজিবাজারের অস্বাভাবিক উত্থানও কাম্য নয়। এটা বেপরোয়া পুঁজিবাজার বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বাজার চিত্র
নতুন নিয়ম অনুযায়ী ডিএসইতে বুধবার (৭ এপ্রিল) সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় লেনদেন শুরু হয়। বহুজাতিক কোম্পানির পাশাপাশি ব্যাংক-বিমা কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ায় মাত্র ১০মিনিটে সূচক বাড়ে ৪৬ পয়েন্ট। এর আগের দিন প্রথম ২০ মিনিটে সূচক বেড়েছিল ৫৩ পয়েন্ট। এরপর শেয়ার বিক্রির চাপে সূচক ওঠানামার মধ্য দিয়ে লেনদেন হয়।

দিন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক আগের দিনের চেয়ে ৫৫ দশমিক ৯৫ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৩৩৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএস ৩০-সূচক বেড়েছে ২২ পয়েন্ট এবং ডিএসইএস শরিয়াহ সূচক বেড়েছে ৯ পয়েন্ট। ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৫৮২ কোটি ৫২ লাখ ২৯ হাজার টাকা।এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৫০৮ কোটি ৪৫ লাখ ৪৬ হাজার টাকা।

এদিন লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছে ১৯৯টির, কমেছে ৪৩টির। অপরিবর্তিত ছিল ১০২টি কোম্পানির শেয়ারের দাম।

বুধবার ডিএসইতে দাম বাড়ার শীর্ষে থাকা ১০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে- ইনডেক্স অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ, নর্দার্ন ইন্স্যুরেন্স, রূপালি, সোনার বাংলা, ইসলামী ইন্স্যুরেন্স, দেশ জেনারেল, প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স, আরকে সিরামিক, ব্র্যাক ব্যাংক এবং লিব্রা ইনফিউশন লিমিটেড।

লেনদেন বাড়ার শীর্ষে যথারীতি রয়েছে- বেক্সিমকো, রবি আজিয়াটা, এশিয়া প্যাসিফিক ইন্স্যুরেন্স, লঙ্কা বাংলা ফাইন্যান্স, বেক্সিমকো ফার্মা, প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স, প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স, সামিট পাওয়ার, লাফার্জ হোলসিম, আইএফআইসি ব্যাংক এবং বৃটিশ অ্যামেরিকান ট্যোবাকো লিমিটেড।

দেশের অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক সূচক আগের দিনের চেয়ে ১৭৩ পয়েন্ট বেড়ে ১৫ হাজার ৪৩৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এদিন সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৩০ কোটি ৬৫ লাখ ৩১ হাজার টাকা। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ১৫০ কোটি ৮৯ লাখ ৯৩ হাজার টাকা।

লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছে ১৪০টির, কমেছে ২৫টির। অপরিবর্তিত রয়েছে ৪৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম।

এমআই/এনএফ

Link copied