এক দশক পর বিনিয়োগকারীদের খুশির ঈদ

Mahfuzul Islam

১৩ মে ২০২১, ২০:৪১


এক দশক পর বিনিয়োগকারীদের খুশির ঈদ

পুঁজিবাজারে মহাধসের এক দশক পর খুশির ঈদ উদযাপন করতে যাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। কারণ গত কয়েক বছরের হারানো পুঁজির প্রায় পৌনে ২ লাখ কোটি টাকা ফিরে পেয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। যার বেশির ভাগই এসেছে গত দুই মাসের (এপ্রিল-মে) মধ্যে। 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যখন প্রাণঘাতি করোনাভাইরাসের কারণে অর্থ সংকটে দিশেহারা মানুষ। ঠিক সে সময় হারানো পুঁজি ফিরে পাওয়াটা বিনিয়োগকারীদের জন্য আশীর্বাদ। ফলে ২৭ লাখ বিনিয়োগকারীর পাশাপাশি পুঁজিবাজারে সঙ্গে জড়িত এক কোটি মানুষের মুখে হাসি ফুটেছে। বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি পুঁজিবাজারে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোও চাঙা হয়েছে। কারণ তাদের ব্যবসা ভালো হয়েছে। নতুন করে আরও প্রায় এক লাখ বিনিয়োগকারী বাজারে এসেছেন।

উল্লেখ্য, ২০১০ সালের ৫ ডিসেম্বর পর থেকে ২০১১ সালের জুন পর্যন্ত সময়ে পুঁজিবাজারে ধস নামে। এই ধসে ৩৩ লাখ বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হন। এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে গত ১০ বছর ধরে চেষ্টা করছেন বিনিয়োগকারীরা। গত বছর থেকে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের নেতৃত্বে ঘুরে দাঁড়িয়েছে পুঁজিবাজার।

dhakapost

লংকাবাংলা সিকিউরিটিজে বিনিয়োগকারী মোখলেসুর রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, এ রমজান মাসে ৬০ হাজার টাকা মুনাফা হয়েছে। এই টাকায় ঈদের কেনাকাটা করেছি। পরিবার পরিজনকে নিয়ে ঈদ করবো। এখন ভালো লাগছে।

তিনি বলেন, ২০১০ সালের ধসের পর এ বছর রমজান মাসে ব্যবসা হয়েছে। তাতে হারানো পুঁজির ৩ লাখ টাকা ফিরে পেয়েছি।

ইউসিবি ক্যাপিটালের বিনিয়োগকারী জুলফিকার আলী ঢাকা পোস্টকে বলেন, মহাধসের অর্থ ফিরে পায়নি। তবে নতুন করে বিনিয়োগ থেকে ব্যবসা হয়েছে। করোনার সময় এই অর্থ অনেক উপকার হয়েছে।

বিনিয়োগকারী আতাউল্লাহ নাঈম ঢাকা পোস্টকে বলেন, হারানো কিছু পুঁজি ফিরে পেয়েছি। ফলে এখনো বাজারে টিকে আছি। তাতে এবারের ঈদটা ঈদের মতোই মনে হচ্ছে। তবে এই বাজারে এখনো কিছু লোক ব্যবসা করছে। সবাই ব্যবসায় করতে পারছে না। 

ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) প্রেসিডেন্ট শরীফ আনোয়ার হোসেন ঢাকা পোস্টকে বলেন, এবারই রোজার মাসে পুঁজিবাজার ভালো ছিল, ব্যবসাও হয়েছে। এ মাসের লেনদেনে বিনিয়োগকারীর পাশাপাশি ব্রোকার হাউজের মালিকরাও খুশি। তার কারণ গত কয়েক বছর ধরে অনেক ব্রোকার হাউজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-বোনাস দিতে পারেননি। এবার  বেতন-বোনাস দিয়েছে পুঁজিবাজারের টাকা থেকে।

বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ছায়েদুর রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, নতুন কমিশনের দায়িত্ব নেওয়ার পর পুঁজিবাজার চাঙা হয়েছে। একইভাবে বেশ কিছু কোম্পানির আইপিওর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে এবার মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোতেও ভালো মুনাফা হয়েছে। পুঁজিবাজারের সঙ্গে জড়িত সবার ঈদ ভালো হবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।

dhakapost

ডিএসইর পরিচালক শাকিল রিজভী ঢাকা পোস্টকে বলেন, বিধিনিষেধের কারণে অফিস আদালত না থাকায় রজমান মাসে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল। তাতে চাঙা ছিল বাজার। এই চাঙাভাবের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক বিনিয়োগকারী তাদের হারানো পুঁজি ফিরে পেয়েছেন।

পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, ১০ বছর পর উত্থানে থাকা পুঁজিবাজারে সবাই যে লাভবান হয়েছে ঠিক তা না। কারণ বাজারের সাড়ে তিনশ স্ক্রিপ্ট (কোম্পানি) রয়েছে, তার মধ্যে হাতেগোনা কয়েকটি স্ক্রিপ্টে ব্যবসায় হয়েছে। তাতেও বিনিয়োগকারীরা খুশি!

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্য মতে, ব্যাংক-বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ায় গত এক বছরে ডিএসইর প্রধান সূচক (ডিএসইএস) এক হাজার ৭৪২ পয়েন্ট বেড়ে পাঁচ হাজার সাত পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সূচকের সঙ্গে বেড়েছে বেশির ভাগ শেয়ারের দাম। তাতে বিনিয়োগকারীদের লেনদেন বেড়েছে প্রায় পাঁচ গুণ। ফলে গত বছরের ২৫ মার্চ ৩৪৮ কোটি ৫৬ লাখ ৮৮ হাজার টাকা লেনদেন হওয়া ডিএসইতে এবার ঈদের আগের দিন (১২মে) বৃহস্পতিবার সর্বশেষ লেনদেন হয়েছে এক হাজার ৪৫৩ কোটি ৫৬ লাখ ৮৮ লাখ টাকা। পুঁজিাবাজারে ৮৩ হাজার বিনিয়োগকারী বাজারে এসেছেন। 

সেন্ট্রাল ফর ডিপোজিটরি অব বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) তথ্য মতে, বর্তমানে দেশের পুঁজিবাজারে ২৬ লাখ ৬১ হাজার ৬১০টি বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিওধারী) রয়েছে। যা এর আগের বছর একই সময়ে ছিল ২৫ লাখ ৭৮ হাজার ২৮৩টি।  সে হিসেবে বিওধারী বিনিয়োগকারীদের সংখ্যা বেড়েছে ৮৩ হাজার ২৮৩ জন। নতুন আর পুরাতন বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে হারানো পুঁজি ফিরেছে প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা।

ডিএসইর তথ্য মতে, গত বছরের মে মাসে ডিএসইর বাজার মূলধন ছিল তিন লাখ ১২ হাজার ২৩৫কোটি ৩৭ লাখ টাকা। সেখান থেকে এক লাখ ৭৭ হাজার ৭০৫ কোটি ১৬ লাখ টাকা বেড়ে গত ১২ মে (বৃহস্পতিবার) মূলধন দাঁড়িয়েছে চার লাখ ৮৯ হাজার ৯৪০কোটি ৫৩ লাখ টাকা।

এমআই/এসকেডি

Link copied